somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহফুজ
আমি হচ্ছি কানা কলসির মতো। যতোই পানি ঢালা হোক পরিপূর্ণ হয় না। জীবনে যা যা চেয়েছি তার সবই পেয়েছি বললে ভুল হবে না কিন্তু কিছুই ধরে রাখতে পারিনি। পেয়ে হারানোর তীব্র যন্ত্রণা আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে।

স্মার্ট ফোন

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৮:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রযুক্তির দান স্মার্টফোনের পোস্টমর্টেম:
অপরাধীর কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে স্মার্ট ফোনের ১৪ গোষ্টী উদ্ধারে যারা ব্যস্ত তাদের জন্য।

অস্বীকারের উপায় নেই যে, কেউ মারা যাচ্ছে কিংবা কোনো মর্মান্তিক মুহূর্তে ভিকটিমের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে না গিয়ে কিংবা সাহায্য না করে ভিডিও/ছবি তুলা এক ধরণের ঘৃণিত কাজ। আজকাল অহরহ এমন ঘটছে, ভিক্টিম মরছে নয়তো কাতরাচ্ছে মৃত্যু যন্ত্রণায় আর তার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই তার স্মার্ট ফোন দিয়ে সেটা ধারণ করে লাইভ টেলিকাস্ট করছে কিংবা আপলোড করছে। সত্যিই এটাও এক প্রকার নিষ্টুরতা।

এবার যাই অন্যখানে, মনে আছে তো অভিজিতের কথা? অভিজিৎ হত্যার সময় যখন নির্দয় কুপাকুপি করছিলো জানোয়ারগুলো তখন তাদের প্রতিহত করতে যাওয়া আর আত্মহত্যা করা কি সমান ছিলোনা? সাংবাদিক এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা ধারালো অস্ত্রের সামনে জীবন বাজি রেখে যাবেই বা কেনো? অভিজিত তাদের কে? কথায়ই তো আছে, নিজে বাঁচলে বাপের নাম। তারা নিজের জীবন বাঁচিয়ে নিরাপদ দুরুত্ব রেখে সে নির্মমতা ধারণ করায় অন্তত খুনীগুলোর চেহারা কোটি মানুষ চিনতে পেরেছিলাম। যার ফলে পুলিশ তদন্তে মিলেনি "খুনীদের পরিচয় মেলেনি" এমন আজগুবি রিপোর্ট। হরহামেশাই যা হচ্ছে। খুন কিংবা ক্রাইম সংগঠিত হবার পর পুলিশ গিয়ে চাক্ষুষ স্বাক্ষীর অভাবে এবং নানা কলকাঠির কারণে রিপোর্ট দেয় "অপরাধি কে জানা যায়নি তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজনে মাটির নীচ থেকে হলেও খুঁজে বের করবো। (সমস্যা এটাই, অপরাধীরা মাটির উপরে মাটি কাঁপিয়ে ঘুরছে আর প্রশাসন তার সন্ধান চালাচ্ছে পাতালপুরীতে; তাহলে আর অপরাধী মিলবে কেন?)!!!!

ঘটনা দুই- খাদিজাকে যখন বদরুল কোপাচ্ছিলো তখন তো সে মানুষ ছিলোনা, একটা হিংস্র শয়তান ভর করেছিলো তার ভেতরে। তার কাছে গেলে দুই একটা কোপ যে বসিয়ে দিতোনা তার কি কোনো নিশ্চয়তা ছিলো? কে আর কেনই বা যাবে জীবনের মায়া ত্যাগ করে একটা অপরিচিত মেয়েকে বাঁচাতে? হে সম্মিলিত আক্রমণ অবশ্যই করা যেতো; তবে সেক্ষেত্রেও যে ঝুঁকি থাকতোনা তা কিন্তু না। সুতরাং ভয়ে "বদ"রুলের কাছে না গিয়ে সেটা স্মার্ট ফোনে ধারণ করে সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলতে পারাটা কি প্রশংসার দাবী রাখেনা। স্মার্ট ফোন না থাকলে কয়জন চিনতো মানুষরূপী জানোয়ার "বদ"রুলকে? কয়জন জানতো খাদিজা নামক মেয়েটির সাথে ঘটে যাওয়া অমানবিক, বর্বরোচিত ঘটনার কথা? স্মার্টফোনওয়ালা ফাউল পোলাপাইনজ সেখানে না থাকলে হয়তো খুব বেশী হলে সেদিন বদরুল শুধু গণধোলাই খেত আর খাদিজা কোনো এক অখ্যাত হাসপাতালে গিয়ে অল্পসময়েই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তো। পরবর্তীতে সম্পুর্ণ ঘটনাটাকে আড়াল করে ফেলা হতো নানা যাদুকরী কৌশলে । যেমনটি প্রায়ই ঘটে থাকে আমাদের হতভাগা এই দেশে। স্মার্ট ফোনের কল্যানেই, খাদিজা এখনো বেঁঁচে আছে উন্নত চিকিৎসায় আর "বদ"রুলের যথাযথ বিচারের দাবীতে চতুর্দিক সরগরম।

তৃতীয় যে ঘটনার কথা বলবো সেটা ব্যতিক্রম এবং লজ্জাজনক। "রাজন" হত্যাকাণ্ড! হে সেসময় চাইলেই রক্ষা করা যেতো অসহায় শিশুটিকে।

এবার আসি অন্য প্রসঙ্গে, সবার ক্ষমতা নেই চাইলেই একটা ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ কম্পিউটার কিনে ফেলা। যাদের কম্পিউটার কেনার সামর্থ্য নেই তারা জানে একটা স্মার্টফোন কতো মূল্যবান কাজে লাগে তাদের দৈনন্দিন জীবনে। বিশেষ করে ছাত্র সমাজ। গুগল কিংবা অনলাইন মাধ্যম ছাড়া তো আধুনিক শিক্ষাই আজ অচল।

যাই হোক, এরকম হাজারো উদাহরণ আছে দেশ বিদেশে স্মার্ট ফোনের উপকারিতা এবং অপকারিতার। সবকিছু নির্ভর করে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত চিন্তাধারা এবং কর্মপদ্ধতির উপর। জানতে হয় সঠিক জিনিসের সঠিক প্রয়োগ ও ব্যবহার।

রাইট ভ্রাতৃদ্বয় উড়োজাহাজ আবিষ্কার করেছিলেন আর তাতে যুগেযুগে অনেক মানুষ দুর্ঘটনায় প্রাণ দিচ্ছে, হাইজ্যাক হচ্ছে জিম্মি নিয়ে বিমান, টুইন টাওয়ারে হামলা করানো হয়েছিলো এই বিমান দিয়েই। তবে কি উড়োজাহাজ আবিষ্কারকেরা অন্যায় করেছিলেন? তারা কি হামলা করানো কিংবা হাইজ্যাকিংয়ের কথা ভেবেছিলেন তখন?

অবশেষে বলতে চাই, জয় হোক প্রযুক্তির দান এই স্মার্ট ফোনের, আরো উন্নত হোক প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তি হোক জীবন রক্ষার বাহন, কেড়ে নেয়ার নয়।

স্মার্ট ফোনের সঠিক ব্যবহারে ধরা পড়ুক বদের হাড্ডিগুলো, ধরা পড়ুক অভিজিত, রাজনদের খুনীরা।

আসুন আমরা প্রযুক্তির দানের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি, স্মার্ট ফোন দিয়ে শুধু অশ্লীলতা আর নৈতিকতা বর্জিত কর্মকাণ্ড সমাজে ছড়িয়ে না দিয়ে মানবতার কল্যানে ব্যবহার করি।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৮:৫৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×