somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহফুজ
আমি হচ্ছি কানা কলসির মতো। যতোই পানি ঢালা হোক পরিপূর্ণ হয় না। জীবনে যা যা চেয়েছি তার সবই পেয়েছি বললে ভুল হবে না কিন্তু কিছুই ধরে রাখতে পারিনি। পেয়ে হারানোর তীব্র যন্ত্রণা আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে।

অশ্লীলতায় ভরপুর সাহিত্য

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




নাটক সিনেমা এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীলতার ছড়াছড়ি নিয়ে আমি নতুন কিরে কিছু বলতে চাই না। এগুলো নিত্যকার ঘটনাতে পরিণত হয়েছে। আমি বলতে চাই সাহিত্যে অশ্লীলতার মহামারি নিয়ে। বর্তমান সময়ে আমরা প্রায়ই লক্ষ্য করি কিছু উদীয়মান কিংবা উঠতি লেখক যারা তাদের সাহিত্যচর্চায় দেদারছে অশ্লীলতা প্রয়োগ করছে। নির্বিকার ভাবে এমন কুরুচিকর এবং অশ্লীল শব্দ তাদের সাহিত্যে ব্যবহার করছেন যেগুলো স্বাভাবিকভাবে কোন ভদ্র পরিবেশে উচ্চারণ করাটাও ভীষণ লজ্জাস্কর। তাদের এই অশ্লীলতায় ভরপুর সাহিত্য নিয়ে যদি কেউ প্রতিবাদ করতে যায় তাহলে সেই লেখকেরা অনুতপ্ত না হয় উল্টো প্রতিবাদকারীকে অপমানিত করে, তাও আবার একা নয় তার অনুসারী সহ। তাদের মতে অশ্লীলতা সাহিত্যেরই একটি অংশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখক বা সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত এইসব নোংরা মানুষগুলি নির্লজ্জের মতো তাদের ফেসবুক স্ট্যাটাস পর্যন্ত অত্যন্ত অশ্লীল এবং নোংরা শব্দ ব্যবহার করে লিখে থাকেন। একটিবারও ভাবেন না এই লেখাগুলো ছোট বড় অসংখ্য মানুষের চোখে পড়বে যা কখনোই কাম্য নয়। আরো দুঃখের বিষয় এইসব অশ্লীল এবং কুরুচিকর লেখকেরা হাজার হাজার ফলোয়ার নিয়ে বেশ রমরমা অশ্লীলতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সবকিছু মিলিয়ে আমি কিন্তু শুধুমাত্র লেখকদের এককভাবে দায়ী করবো না। কারণ তারা প্রশ্রয় বা সমর্থন পাচ্ছে বলেই অশ্লীলতা করতে পারছে৷ এইসব অশ্লীলতা সহজভাবে গ্রহন করে বিনোদিত হওয়া তাদের হাজার হাজার ফ্যান ফলোয়াররা যদি থাকে সাপোর্ট না করত তাহলে কখনই তাদের অশ্লীলতা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তো না। সুতরাং ভালোমন্দ যাচাই বাছাই করা এবং গ্রহন করার মতো সাধারণ জ্ঞান অথবা বিবেকবোধ আমাদের থাকা উচিৎ।
ট্রেন্ড ফলো করা মানেই যে গোগ্রাসে গিলতে হবে তা কিন্তু নয়। আমাদের অবশ্যই সচেতনতার সাথে গ্রহন এবং বর্জন করা জানতে হবে। আমাদের জানতে হবে আমাদের সমাজের সাথে কিসের সম্পৃক্ততা আছে যা ব্যক্তি বা জাতীয় জীবনের জন্য হানীকর নয়।

আপানাদের অশ্লীতার রস দিয়ে সমগ্র দেশ আচ্ছাদিত করে ফেলছেন জানেন? নতুন প্রজন্ম সাহিত্য সম্পর্কে কি ধারণা পাচ্ছে? তারা ভাবছে সাহিত্য মানেই অশ্লীল গালি, নোংরা বিষয়বস্তু, শারিরীক সম্পর্কের বর্ণনা, মেয়েদের শরীরের গঠন দিয়ে যৌন সুরসুরি দেয়া ইত্যাদি। কিছু মানুষ আছে যারা দেদারছে টয়লেটি শব্দ, টয়লেটি গল্প, টয়লেটি বিষয়বস্তু নিয়ে লিখতে লিখতে বা বলে বলে আশপাশ দুর্ঘন্ধযুক্ত করে ফেলে। আমি ভেবে পাইনা এই সভ্য সময়ে এসব অসভ্য আর ইতরদের রুচিতে বাঁধেনা কেন?

আরো একটা বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, সেটা হচ্ছে মেয়েদের অবনতির কথা। কিছু কিছু মেয়েদের ভাষা দেখে আজকাল সত্যি আমি নির্বাক হয়ে যাই। দেখা যায়, খুব নোংরা একটা স্টেটাস বা অশ্লীল কন্টেন্ট ও লেখালেখিতে সেসব মেয়েদের অতি সহজেই তাদের পরিচিতজনেরা ম্যানশন করছে এবং তারাও এসে অবলীলায় সেই নোংরামিতে তাল দিচ্ছে। কিছুদিন আগেও যা কল্পনা করা যেতনা। দেখতে কি কম দেখেছি কিংবা শুনেছি কত নোংরা মেয়েদের গল্প। কিন্তু কখনো তাদের পাবলিকলি কোনো নোংরা শব্দ উচ্চারণ বা লিখতে দেখিনি এমনকি নোংরামিতে উপস্থিত থাকতেও না। আধুনিকতার অভিশাপে সে সময় এখন বহু দূরের অতীত। নারীপুরুষের সমান অধিকার তাই যেন মেয়েগুলিও কাঁধেকাঁধ মিলিয়ে নোংরামির আগেপিছে, ডানেবামে থেকে নেতৃত্ব দেয়। তাদের বলি, অশ্লীলতার মাধ্যমে পরিচিতিটা দ্রুত বাড়ছে কিন্তু খুব কাছের মানুষ যারা তোমাদের অশ্লীলতা প্রশ্রয় দিচ্ছে সেই তারাই কিন্তু তোমাদের মন থেকে প্রচণ্ড ঘৃণা করে এবং অসম্মান করে। মনে রাখবে কোনো ছেলে/পুরুষ মানুষ অশ্লীল ভাষা ব্যবহারকারি বা অশ্লীল কর্মকাণ্ড করে বেড়ানো মেয়েকে নিজের মা,বোন,বউ বা গার্ল্ফ্রেন্ডের জায়গা দিতে পারেনা। নোংরামোটা তারা শুধু উপভোগ করে তাই তোমাদের সবকিছুতেই সমর্থন দিতে থাকে। কারণ তোমরা তাদের কেউ না, তোমরা শুধুই তাদের খেলার পুতুল।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৭
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রতীক্ষায় আছি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৫০

প্রতীক্ষায় আছি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সে মোবাইল নম্বর নিয়েছে
কল দিবে বলেছে
প্রতীক্ষায় আছি কখন কল আসবে
অস্থিরতা কাজ করছে প্রতিমুহূর্তে
সে পাশে আসলে দেখব রোজ ভোর
তার প্রশ্নে আমি বিমোহিত!
কারণ ইচ্ছেগুলো আমার প্রত্যাশিত
তাকে দেখে, শুনে শীতল... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের আন্দোলনরত HSC শিক্ষার্থীদের ধিক জানাই

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২০



দেশের কমপক্ষে ৬ টি জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বাতিল ও স্থগিতের জন্যে আন্দোলনে নেমেছে। এরা হল লীগ সরকরারের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা তরুন তরুনী, যারা পড়ালেখা না... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোলাপানগুলো এত আন্দোলন বুঝে!

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৫




পড়াশোনার টেবিল আজকাল অন্যকাজে ব্যবহার হয়, হয়তো ঐখানে বিপ্লবের লাল রং আছে শুধু। লেনিনের রক্ত, গুয়েভারার চুরুট নিয়েও আগ্রহ নেই তাদের, আছে শুধু মহাসড়ক অবরোধ, মিলনকে থাপরাড়োর অদম্য প্রয়াস,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×