মুখচোরা কিশোর ও একজন ভিলেন নরসুন্দর
আমি ছোটবেলায় যথেষ্ট মুখচোরা ও লাজুক ছিলাম, আমার বয়সী বন্ধুরা যখন পুরো এলাকা দাপিয়ে বেড়ায় । মারামারি, দুষ্টুমি করে সারাদিন কাটিয়ে দেয় তখন আমি হয়তো ঘরের কোণে বসে টিভিতে ক্রিকেট ম্যাচ দেখছি বা চাচা চৌধুরীর কমিকস্ বই পড়ছি।
আমার আব্বা কখনোই আমার চুল কামাতে দিতেন না, আমার মাথা টাক করার প্রতি তাঁর এমন অদ্ভুত অনীহা ছিলো কেন কে জানে!
চুল বড় হলে শুক্রবার তিনি বাজারে যাওয়ার সময় আমাকে সেলুনে নিয়ে যেতেন । সেলুনে চুল কাটাতে বলে আব্বা সদাই কিনতে যেতেন, এরপর বাজার শেষে আমাকে নিয়ে বাসায় ফিরতেন।
আমার জীবনে সর্বপ্রথম ভিলেন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন একজন নরসুন্দর, প্রচলিত ভাষায় নাপিত ।
আমাকে নিয়মিত একটি সেলুনেই চুল কাটাতে হতো। সেটি ছিলো এক বিহারির! ভদ্রলোকের বিশাল দেহ, গায়ের রঙ কুচকুচে কালো। একজন বালকের কচিমনে তার বিশাল বপু স্বভাবতই ভয় ধরিয়ে দেবে, আমার বেলায়ও ঠিক তাই ঘটে।
তিনি আমাকে আগে কোলে বসাতেন, ততক্ষণে আমি মোটামুটি কান্না শুরু করে দিতাম। এরপর তিনি সবচেয়ে বড় যে ভুলটা করতেন তা হলো, আমার কান্না থামানোর জন্য চুল কাটার কাচি নিয়ে আমাকে নানাভাবে ভয় দেখানোর চেষ্টা করতেন। এই ব্যাপারটা আমার মনে স্থায়ীভাবে ছাপ ফেলে দেয়। আমি আরো জোর গলায় চেঁচামেচি শুরু করে দিতাম, কিন্তু একজন সামান্য বালকের চিৎকারে তাদের মন গলবে না এটাই স্বাভাবিক। এভাবেই প্রতিবার আমাকে চুল কাটাতে মহা ঝক্কিঝামেলার প্রয়োজন হতো।
তখন থেকেই আমার মনে প্রচণ্ড সেলুনভীতি কাজ করতো, এমনকি এ ভয়টা গত তিন চার বছর আগেও ছিলো। চুল ইয়া বড় বড় হয়ে পাখির বাসা হয়ে যেতো, আম্মু বকাঝকা করে চুল কাটাতে পাঠাতেন।
আমার বয়স তখন তেরো কি চৌদ্দ, সেই বিহারি একদিন দোকান ছেড়ে দিলেন, কেন জানি না। তবে আমি হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছি।সেই ভয়ঙ্কর লোকের কাছে আর চুল কাটাতে হবে এতেই আমি খুশি। এরপর তার আর কোন খোঁজ নেই ।
সেই ঘটনার পর আজ নয় দশ বছর হয়ে গেছে। ইতোমধ্যেই আমি অন্য দোকানে চুল কাটাতে শিখে গেছি। আচমকা সেদিন রাস্তায় দেখা হয়ে গেল সেই পুরনো বিহারি চাচার সাথে, এক নিমেষেই মনে পড়ে গেল আমার ফেলে আসা কৈশোর।
তাঁকে দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। শরীরের আগের সেই জৌলুস নেই, এখন দেহে ভাটার টান। মাথার চুল প্রায় সবই সাদা। রাস্তার পাশে একটি চেয়ার নিয়ে বসে আছেন, দোকান ভাড়া নিয়ে সেলুন করার সামর্থ্যটুকু নেই। চেহারায় ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। স্রেফ কৌতুহলের টানে একদিন তাঁর সাথে দেখা করলাম। আমাকে চিনেছেন বিহারি চাচা।
কি মনে করে একদিন চুল কাটালাম তার কাছে, আমাকে পেয়ে অনেক কথাই বললেন তিনি। তার অকর্মণ্য পুত্রদের কথা বলতে গিয়ে প্রায় কেঁদে ফেললেন, তারা সবাই বুড়ো বাবা মাকে রেখে অন্যত্র বিয়ে করে সংসারী হয়েছে। পিতার খোঁজ নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। তিনি এখন জীবনযুদ্ধে ক্লান্ত একজন সৈনিক। এই অর্থব জীবনের ভার নেয়ার সাধ্য তার আর নেই। জীবনের খেলাঘরে নিতান্তই বাধ্য হয়ে খেলে যাচ্ছেন।
পাদটীকাঃ আমি এখন নিয়মিত বিহারি চাচার কাছেই চুল কাটাই। এমনিতে দোকানে চুল কাটালে পঞ্চাশ ষাট টাকা বিল আসে, আমি চাচাকে একশো টাকা দেই। বাকি টাকা ফেরত দিতে চাইলে স্মিত হাসি দিয়ে রেখে দিতে বলি।
কি আশ্চর্য! একসময় বিহারি চাচার দোকানে চুল কাটাতে ভয় লাগতো, এখন প্রচণ্ড আনন্দ লাগে। মনের ভেতরটা প্রশান্তিতে ভরে যায়।
'বাবু': একটি শব্দের উদ্ভব ও এগিয়ে চলা
'বাবু' আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। কয়েক শ' বছর আগেও শব্দটি ছিল। বাংলা ভাষাভাষীরা সেটা ব্যবহারও করতেন; তবে তা ভিন্ন অর্থে। 'বাবু' শব্দের উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধাপগুলো এই... ...বাকিটুকু পড়ুন
গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন
আল্লাহ্কে কীভাবে দেখা যায়?
যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন
শতরুপা
তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।