somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর প্রশ্ন, সরকার কেন দরকার?

০৭ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হোসেনপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তার কাজ চলছে

একদিকে কেউ বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কাটছেন। কেউ বাঁশের আইক্কা ছাঁটছেন। কেউ বা বাঁশগুলো হাত-করাতে কেটে কেটে খুঁটি বানাচ্ছেন। অন্যদিকে বেশ কয়েকজন মিলে মাটি কাটছেন। বেশ কয়েকজন সেগুলো রাস্তায় ফেলছেন। কেউ বস্তা ধরছেন। কেউ বস্তায় মাটি ভরছেন। কেউ বা মাটিভর্তি বস্তাগুলোর মুখ সেলাই করছেন। মাটিগুলো যাতে সরে না যায়, পড়ে না যায়, ধসে না যায়- এজন্য আবার বেশ কয়েকজন মিলে ধরাধরি করে মাটিভর্তি বস্তাগুলো রাস্তার পাশে সারি সারি করে রাখছেন। বস্তাগুলো রাখার সঙ্গে সঙ্গেই বেশ কয়েকজন মিলে পায়ে পিষে সমান করছেন।
বস্তাগুলোকে স্থির রাখতে কেউ বা মুগুর দিয়ে ঠাস ঠাস করে বাঁশের খুঁটিগুলো পুঁতছেন। সবমিলিয়ে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। এ কর্মযজ্ঞ চলছে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার হোসেনপুর গ্রামে।
গ্রামবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গ্রামের অভ্যন্তরীণ প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। গত ৩০ মার্চ বুধবার ২০১১ সকাল ৮টা থেকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়। গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে পূর্বপাড়া মজুমদার বাড়ি থেকে পশ্চিমপাড়া আনা মিঞার বাড়ি পর্যন্ত এবং মধ্যপাড়া মোয়াজ্জেম সরকারের বাড়ি থেকে উত্তরপাড়া হাজি বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার নির্মাণ কাজ চলছে।
কাজের ফাঁকে ফাঁকে চলছে সরকারের তীব্র সমালোচনা। চলছে অবাধ খিস্তি-খেউড়। দেশের ক্ষমতাসীন বড় দুই দলকেই ওরা কথায় কথায় ন্যাংটো করে ছাড়ছে। গালির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না স্থানীয় সংসদ সদস্য, ইউপি মেম্বার-চেয়ারম্যানরা। পাশাপাশি চলছে, নানারকম রসের আলাপ। কার মেয়ে কার ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। কোন মাদ্রাসা-পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে কোন স্ড়্গুল-পড়ুয়া ছেলের প্রেম। কোথায় কোথায় বৈশাখী মেলা হবে- এসব নানামুখি আলাপ। এরই ফাঁকে গ্রামবাসীর প্রশ্ন, সরকার কেন দরকার? সরকার দিয়া মানুষ কী করে? ভোট দেওন ছাড়া সরকারের লগে মানুষের আর কীয়ের সম্পর্ক?
দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের অভ্যন্তরীণ এই রাস্তার অভাবে ভুগছিলেন গ্রামবাসী। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে দৌড়ঝাপ করছেন তারা। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলের নেতাদেরকে জানানো সত্ত্বেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারদলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফকে লিখিতভাবে রাস্তা-সংকটের বিষয়টি জানানো হয়। তিনি আশ্বাস দিয়েও কথা রাখেননি।
এলাকাটি ভৌগলিকভাবে জলাভূমিপ্রায় নিচু এবং পুকুরবহুল। ফলে কোনো রাস্তাই বেশিদিন টেকে না। মজুমদার বাড়ি থেকে আনা মিঞার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটিতেও চার চারটি পুকুর পড়েছে। এরমধ্যে একেবারে মজুমদারবাড়ির শুরুতেই পাশাপাশি দুটি পুকুর রয়েছে। ওই দুই পুকুরের মাঝখানের পাড়টিই রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। প্রতিবছর বৃষ্টিতে ভূমিক্ষয়ের ফলে পুকুরের পাড়ও ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়। কখনো কখনো অতি বৃষ্টির কারণে ধসে যায়। এসব কারণে ইতোমধ্যে প্রায় সব পুকুরের পাড় ধসে গেছে।
রাস্তা নির্মাণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর পক্ষে সোচ্চার অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক প্রফেসর মোবারক হোসেন ভূঁইয়া। তিনি সক্ষোভে জানান, আমি নিজেই রাস্তার দরখাস্তটি এমপি সাহেবকে দিয়েছিলাম। তিনি বিষয়টিকে ‘এক নম্বর’ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং অগ্রাধিকারভিত্তিতে
বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। কিন্তু দরখাস্ত প্রদানের ২ বছর পর, দলীয় নেতাদের ১শ’ নম্বরের কাজ হয়ে গেলেও তার সেই ‘এক নম্বর’-এর কাজ তিনি শুরু করতে পারেননি। আমি এখন মনে করছি, আমাকে বোকা বানিয়ে গ্রামবাসীকে ধোকা দেয়ার জন্যই তিনি আমাকে ‘এক নম্বর’-এর টোপটি দিয়ে বিদায় করেছিলেন।
স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণের অন্যতম উদ্যোক্তা সফিক মজুমদার বলেন, আমরা স্থানীয় নেতাদের বার বার বলেছি রাস্তাটি আমাদের এত দরকার কেন। বলেছি, গ্রামের শেষপ্রান্তে যে বিশাল ফসলি মাঠ, সেখানে ধান, গম, গোল আলু, সরিষা, টমেটু, ভুট্টার মতো ফসল হয়। এই বিপুল পরিমাণ ফসল মাঠ থেকে ঘরে এবং বাজারে নিয়ে যেতে হলে একটি যানবাহন চলাচল উপযোগী রাস্তার কোনো বিকল্প নেই।
গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা আলী ওসমান খান জানান, গ্রামের ভেতরে ও বাইরে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ও ধর্মীয় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্যও এ রাস্তাটি খুবই প্রয়োজন। বর্ষাকালে কোমলমতি শিশুরা একপ্রকার ঝুঁকি নিয়েই স্ড়্গুল-মাদ্রাসায় যায়। তাছাড়া এখন গ্রামের তরুণদের উদ্যোগে বেশ কিছু মুরগির খামার হয়েছে। রয়েছে মাছ চাষের বেশ কয়েকটি প্রকল্প। এসব প্রকল্পের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও গ্রামের ব্যাপক উন্নয়নের জন্যই রাস্তাটি গ্রামবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
হোসেনপুর প্রগতি সমাজকল্যাণ সংঘের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মুন্সি বলেন, স্থানীয় এসব রাস্তা-ঘাটের জন্য ইউপি মেম্বার-চেয়ারম্যানরা রয়েছেন। কিন্তু তারা নিজেরা লুটপাট ছাড়া এসবের দিকে ফিরেও তাকান না। মেম্বার চেয়ারম্যানরা তৃণমূল মানুষের জনপ্রতিনিধি। কিন্তু তারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার মতো যোগ্য ও দক্ষ নন।



২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×