somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রুনের ঘটনাপঞ্জী

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১০ সকাল ৯:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভূমিকাঃ
ব্লগ এ নাম লেখালাম। কি লিখব কি লিখব ভেবে ভেবে একটা বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি লেখা শুরু করলাম।

শেষবার যখন পরিবেশ পরিবর্তন হয়ে গেল তখন রুনের বাবা এক অজ্ঞাত অসুখে হটাৎ করেই মারা যান। রুনের বাবা ছিলেন বসতির দলপতি। বসতিটি খুব একটা বড় নয়। নামও নেই। কদিন আগেও সংখ্যা দিয়ে বুঝানো হতো। ইদানিং ত্রিনার বলে গ্যালাকটিক মানচিত্রে দেখানো হচ্ছে। জনসংখ্যায় মাত্র একশত সায়ত্রিশ। এ-রকম কয়েক হাজার বসতি সৌরজগতের এই প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ইউরেনাস ও নেপচুনের মধ্যবর্তী একটি অ্যাস্ট্ররয়েডকে নিয়্ন্ত্রনে নিয়ে প্রায় অর্ধশতাব্দী পূর্বে এই বসতিটি স্থাপনের উদ্যোগ করেন রুনের দাদা। যদিও বসতিটি কেন্দ্রীয় কমিশন কতৃক নিয়ন্ত্রিত, তারপরও এরকিছু নিজস্ব নিয়মকানুন রয়েছে। আর সেকারনেই বসতির পরবর্তি দলপতি রুন। বয়স কম, তাই রুনের পরিবর্তে রুনের মা লিহা আপাতত নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আর মাত্র দুই সৌরবছর পর রুন বসতির দায়িত্ব নিয়ে নেবে।

লিহা একজন সাধারন মহিলা, তাই প্রথমে সবাই ভেবেছিল তিনি হয়ত বসতির নিয়্ন্ত্রন নিতে পারবেন না। কিন্তু যখন সবাই দেখল শুধু নিয়্ন্ত্রনই নয় বরং লিহা সবার মন জয় করে ফেলেছেন তখন অবাক না হয়ে পারেনি।

নিয়্ন্ত্রনহীন একটি অ্যাস্ট্ররয়েডকে বসতিতে রুপান্তর করার জন্য রুনের বাবা কেন্দ্রীয় কমিশনের কাছে দূর্লভ সম্মান লাভ করেছিলেন। মহাকাশে ছন্নছড়া অনেককিছুর প্রতিই তার ছিল অকল্পনীয় আকর্ষণ। লিহারও কম ছিল না। অবশ্য এটা কেউ জানত না। লিহা ঝামেলা এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন।

দিনের শেষে যখন দুই গ্রহ ইউরেনাস আর নেপচুন তাদের দলবল নিয়ে রুনের আকাশে হাজির হয় তখন রুন বিশ্ময়ে তাকিয়ে থাকে। অনন্ত নক্ষত্রের রহস্য তাকে অদ্ভুতভাবে টানে। তার দুচোখ কিছু একটা খুঁজে ফেরে। সেতা কী সে নিজেও জানে না।

“রুন?” লিহার ডাকে রুনের ভাবনায় ছেদ পড়ে। রুন তার মায়ের দিকে তাকায়।
“কিছু ভাবছিস বাবা?” লিহা জিজ্ঞেস করেন।
ছোট বাচ্চারা কোন অপরাধ করে ধরা পড়লে জেভাবে বলে ওঠে, রুনও সেভাবে বলে উঠল, “কিছু না মা।”
“তাহলে ঘরের ভিতর আয়। একটা গ্যালাকটিক মেইল এসেছে।”
“গ্যালাকটিক মেইল!” রুন অবাক হয়, “কার?”

ছোট্ট এই বসতিতে সাধারনত খুব একটা গ্যালাকটিক মেইল আসে না। বসতির কেন্দ্রীয় তথ্যকেন্দ্রে মাঝে মাঝেই পৃথিবী থেকে নির্দেশনা আসে।

“মহামান্য দ্যুমার।” লিহা বলে চলেন, “দলপতি অ্যালানের নাম শুনেছিস না? বিজ্ঞানী জেডনের সাথে নোরা নক্ষত্রের শেষ সীমানার প্রায়শূণ্য মহাকর্ষবলীয় এলাকায় অভিযানে ছিলেন?”
“যেখানে একইসাথে পাউলির বর্জননীতি আর হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তারনীতি দুটোই অকার্যকর?” রুন বলে।
“মহামান্য দ্যুমা জানিয়েছেন,” লিহা বলে চলেন, “অ্যালান এখণ ছুটিতে বৃহস্পতির এক বিনোদন কেন্দ্রে সময় কাটাচ্ছেন। আমাদের এখানে নাকি আসতে চান। তোর বাবা তার সম্পর্কে আমাকে অনেক গল্প বলেছিলেন। ইন্টার গ্যালাকটিক পোর্টালে অ্যালানের নেক আর্টিকেল আছে।”

রুনের সবে আঠারো। বয়সে তরুণ। উদ্যমী। অণুসণ্ধিৎসু। বিজ্ঞানী জেডন, প্রায়শূণ্য মহাকর্ষবলীয় এলাকা- এসব নিয়ে তার আগ্রহের সীমা নেই।

“বিজ্ঞানী জেডনের সঙ্গে ছিলেন?” অবিশ্বাসের ভজ্ঞিতে রুন বলে ওঠে। “মা তাকে আমাদের বসতিতে আসতে বলো। প্রায়শূণ্য মহাকর্ষবলীয় এলাকা পাড়ি দিয়েছে এমন মানুষ হাতেগোনা। যেভাবেই হোক তিনি যেন আসেন।”
“আমি জানতাম বিজ্ঞানী জেডনের কথা শুনলে তুই খুশি না হয়ে পারবি না।”

ত্রিনার থেকে বৃহস্পতির দূর খুব বেশী না। লিহা তার সম্মতির কথা অ্যালানকে জানিয়ে দিলেন। অ্যালান জানালেন ঠিক সাত সৌরদিন পর ত্রিনারে আসবেন।

আমাদের কাহিনিটার শুরু ঠিক এখান থেকেই।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×