somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আলেমদের ঐক্যমত খুবই জরুরী!!!!!

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৬ রাত ১১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


..
দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আলেমদের তথা ইসলামী দলসমূহের ঐক্য খুব খুবই জরুরী। সব ভেদাভেদ ভুলে যদি আপনারা একমত না হতে পারেন তবে আপনাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে। আজকে যেই ইসলামকে প্রচার, প্রসার, প্রতিষ্ঠা করতে আপনারা নিরলস চেষ্টা, পরিশ্রম ও ত্যাগ করে যাচ্ছেন সেই ইসলামকে ব্যবহার করে, ধর্মকে কলঙ্কিত করতে, প্রশ্নবিদ্ধ করতে, সার্বজনীন অগ্রহণযোগ্য করতে ইয়াহুদি, খ্রিষ্টানদের প্ররচোনায় সারা দিচ্ছে একদল বিপথগামীরা।
..
আপনারা যখন একজন আরেকজনকে, একদল আরেকদলকে কাফির, মুশরিক, বিদয়াতী, লোভী, স্বার্থান্বেসী, ভন্ড, প্রতারক প্রমাণ করতে কুরআন-হাদিসের দলিল অন্বেষনে ব্যস্ত তখন এসকল বিপদগামীরা আপনাদের দুর্বলতার সুযোগে নিজেদের মত করে কুরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা করে সমাজে জঙ্গি নাম করে ইসলামের বারোটা বাঝাচ্ছে। আপনারা কি এটা বুঝতে চাচ্ছেন না? আজকে আপনাদের পাওয়া যায় কেবলমাত্র ফতোয়া আর মসজিদ, মাদ্রাসা ও জানাযার সময়। সমাজের অন্যান্য অপরিহার্য জায়গাগুলিতে আপনাদের উপস্থিতি একেবারেই শূন্যর কোঠায়। দেশের অর্থনীতি, শিল্পনীতি, সংস্কৃতি, রাজনীতির মাঠ আপনাদের অনুপস্থিতিতে বিপথগামীরা দখল করে নিচ্ছে যা আপনারা রঙিন চশমা পরে উপলোব্দি করতে চাচ্ছেন না। রাসূল স. কি এমন ইসলামের শিক্ষা দিয়েছিলেন? তিনি কি শুধু ফতোয়াবাজি করতেন? মসজিদেই কি তিনি তার কার্যাদি সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন? বরং আল্লাহর ঘোষণা ছিলো, “যখন তোমারা নামাজ শেষ করবে তখন জমিনে ছড়িয়ে পড়ো” নামাজের মাঝে যে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করো সমাজে।
..
রাসূল স. এর কাছে যদি কেউ প্রশ্ন করতো অর্থনীতি, শিল্পনীতি, সংস্কৃতি, রাজনীতি সম্পর্কে তাহলে কি তিনি বলতেন আমি এসবের কি জানি, আমি আল্লাহর রাসূল তোমরা আমাকে পরকাল, আখিরাত, বেহেশত, দোজখ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। বরং রাসূল স. কুরআনের বাস্তবতায় জাহিলিয়াতের সেই সমাজকে হক্বে নুরের সমাজে পরিণত করেছিলেন, একটা কুসংস্কারাছন্ন সমাজকে সভ্যতায় রুপ দিয়েছিলেন, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে মৃত প্রায় একটা সমাজকে তিনি করেছিলেন স্বচ্ছল ও স্বনির্ভরশীল। মানুষের মাঝে অর্থনৈতিকভাবে সমতা আনয়নের জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বায়তুল মাল। একটা সময় পরে সেই সমাজের অবস্থা এমন হয়েছিল যে, বায়তুল মাল থেকে অর্থ নেয়ার মত মানুষ খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অথচ এই মানুষেরা সামান্য উপায়ে জিবন ধারণের জন্য তাদের নিজেদের জিবন বাজি রেখে অন্যায়ে পর্যন্ত লিপ্ত হয়েছিল।
..
আজকে রাসূল স. এর সেই উত্তরসূরি আলেম সাহেবদের ফতোয়া, মসজিদ, মাদ্রাসা, বিবাহ, জানাযা, মিলাদ, কিয়াম ছাড়া অন্য কোথাও দূরবীন দিয়ে খুজেঁ পাওয়া মুশকিল। দেশের কয়টি ব্যাংক-বীমা, শিল্প-কারখানা, অর্থনৈতিক-সামাজিক প্রতিষ্ঠান আলেমদের দখলে আছে? হিসেব করলে দু’একটির বেশি না। সাধারণ মানুষ এখন আর আলেমদের কথা শুনতে চায় না। কারণ তাদের ফতোয়া শুনলে পেটে ভাত জুটবে না, তাদের দাওয়াতে অর্থনীতির চাকা চাঙ্গা হবে না। যেখানে পবিত্র কুরআনে যত জায়গায় আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা নামাজের কথা বলেছেন সেখানেই তিনি সাথে সাথে যাকাতের কথাও বলেছেন। কারণ কি? একজন মানুষের ইমানের সাথে বেচেঁ থাকতে হলে দরকার ক্ষুধা ও ভয় থেকে নিরাপত্তা সেটার ব্যবস্থা আল্লাহ তায়ালা করে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা সূরায় কুরাইশের মধ্যে বলেছেন, তোমরা এই ঘরের রবের (আল্লাহ’র) ইবাদাত করো, তাহলে তিনি তোমাদের ক্ষুধা ও ভয় থেকে নিরাপত্তা দিবেন (সরাসরি আয়াতের অনুবাদ নয়)। আর আলেম সাহেবরা শুধু নামাজের দাওয়াত দিচ্ছেন, মানুষের অর্থনীতির, সুস্থ সাংস্কৃতির, সামাজনীতির, রাজনীতির কোন গ্যারান্টি দিচ্ছেন না। এটা ইসলামের শিক্ষা নয়। আপনারা কি লক্ষ্য করছেন না যে, ইয়াহুদি-খৃষ্টানরা অর্থনীতি, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লোভ দেখিয়ে কত মুসলিমদেরকে ধর্মান্তরিত করছে?
..
জামায়াত ইসলাম থাকুক না মওদূদীকে নিয়ে, চরমোনইরা থাকুক না পীরের ছায়াতলে, ছারছীনারা থাকুক না দরবার নিয়ে, দেওবন্দি-তাবলীগরা থাকনা তাদের দাওয়াতী মিশন নিয়ে কিন্তু এদের কারোরই কিন্তু ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা তথা ইসলাম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দ্বিমত নেই। অন্তত আমরা এই জায়গাটায় একত্রিত হয়ে ইসলামকে, প্রিয় মাতৃভুমিকে ইয়াহুদি-খৃষ্টান, নাস্তিক, মুরতাদ, ধর্মের নামে জঙ্গিদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি। মতভেদ পূর্ণ বিষয়কে নিয়ে কাদাছোড়াছুড়ি বাদ দিয়ে সকলে একত্রিত হয়ে এদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই। বিশ্বাস করুন, এই দেশের এই দু:সময়ে এখনো সাধারণ মানুষ তাকিয়ে আছে আলেম সমাজের দিকে। আপনারা যদি একযোগ হয়ে একসল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন তবে সবাই এ ডাকে সাড়া দিয়ে সমস্ত চক্রান্তকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিবে। আল্লাহর শফত করে বলছি, আজো সকল আলেম সমাজ যদি ইসলামের প্রকৃত ধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজে ছড়িয়ে পরে তবে বাতিল পালানোর জায়গাও পাবে না। ইনশাআল্লাহ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৬ রাত ১১:৫৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×