
অনেকদিন ধরে ব্লগে নেই। ফেসবুকে তো এমনিতেই নেই। ডিএক্টিভেট করে দিয়েছি। ফেসবুক অনেকটাই ভয়ংকর। সে হিসেবে ব্লগটাই তুলনামূলক নিরাপদ যায়গা। এমনকি অনেকটাই। ব্লগকে ভালবাসি। ব্লগে প্রায় সব মতাদর্শের লোক থাকলেও খুব একটা বাজে প্রতিক্রিয়া কারো মধ্যে সেরকম দেখা যায়না। এর আগে সামু আমার পাঁচ বছরের পুরোনো ব্লগ কেড়ে নিয়েছে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের কথা বলে। শুধু আমার নয় অনেকেরই। সামু কর্তৃপক্ষকে অজস্রবার মেইল করেও সঠিক জবাব পাইনি। জানা আপুকে ব্যক্তিগতভাবে মেইল করেছি। তাও তিনি কিছু করেননি। তারপর যখন কপিরাইট লংঘনের কথা বলে মেইল করলাম তখন ফালতু জবাব দিল। এটা নিয়ে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু সেটা এখন আর নেই। ইউরোপ আমেরিকাতে এভাবে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের নামে ব্লগ কেড়ে নিলে কপিরাইট আইনে শক্তিশালী মামলা হত। শুধু তাই নয় বেশ কয়েকটি ধারাতে মামলা করা যেত। যাই হোক এসব বেহুদা পেচাল।
গত চারমাস পোস্ট গ্রাজুয়েশন পরীক্ষার জন্য সব প্র্যাকটিস বন্ধ রেখে পড়াশুনার চেষ্টা করেছি। আশানরুপ পড়াশুনা হয়নি। প্রচন্ড অর্থাভাবে পড়তে হয়েছে। তারও যেটুকু পড়া হয়েছে তার আপেক্ষিক গুরুত্ব অর্থাভাবের চেয়ে বেশিই ছিল। যদিও ছেলের ডায়পার কিনতেও বেগ পেতে হয়েছে। দিনের পর দিন একই তরকারি খেতে হয়েছে। কিন্তু শেষ সময় এসে একেবারে ডিমোটিভেটেড হয়ে যাচ্ছি। পরীক্ষার চৌদ্দদিন বাকি। এরমধ্যে কিছুই পড়া হচ্ছেনা। আগের সব ত্যাগ বৃথা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিচ্ছু হবেনা। কখনোবা অতীতের ব্যর্থতার স্মৃতি থেকে সুইসাইডাল টেনডেন্সি তৈরি হচ্ছে। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান আমি। আমি মারা গেলে আমার বাবা মায়ের কষ্ট হবে আর আমার একমাত্র সন্তানের কষ্ট হবে। এইভেবে কিছু করতেও পারিনা। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে যদি নিজের প্রত্যাশার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর অনুভূতি পাই, তার চেয়ে বরং একবার মরে যাওয়ায় উত্তম। কিন্তু দ্বিতীয়বার এই পৃথিবীতে তো আমি আর আসবোনা। আমার অস্তিত্ব মুছে যাবে এই মহাবিশ্ব থেকে। এই পৃথিবীর আলো বাতাসে আর ফিরে আসতে পারবোনা। দেখতে পারবনা আমার মায়ের মুখ, আমার সন্তানের মুখ। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে যাব আমার সন্তানকে।
গত তিন বছর ধরে অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছি। আসলে যতটুকু করা দরকার ততটুকু করতে পারিনা একদমই। হাপিয়ে গেছি একদম। সবসময় একটা অবসেশন- আমি ব্যর্থ। হতাশাবোধ থেকে শরীরে বাসা বেধেছে হার্টের সমস্যা। ব্লাড সুগারও বেশি থাকে। তবে এগুলোকে আমি রোগ হিসেবে মনে করিনা। খুব কাছের বন্ধু মারা গেছে অতি অল্প বয়সে, যে ছিল নিত্যদিনের সংগী। সেটাও মনের মধ্যে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। খুব কাছের একজন সিনিয়র ভাই, যিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যে খুব কাছের মানুষে পরিনত হয়েছিলেন, কার এক্সিডেন্টে সপরিবারে মারা গেছেনল সেটাও ভীষণ পোড়ায় আমায়। সবমিলিয়ে নিজের কাছে নিজেই বোঝা হয়ে গেছি।
তবুও নতুন ভোর হবে। ভোরের সূর্য উঠবে। নতুন করে শুরু করার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি নিজেকে দিয়ে আবার পুরোনো জিঞ্জিরে ফিরে যেতে হবে। এরই মাঝে শত হতাশা আর দুঃখবোধ নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে। ভূলগুলো কখনোই ফুল হবেনা। অনন্য মানুষ হতে পারবোনা। স্বপ্নমঞ্চে জীবনকে সাজানো যায়না। অনেক স্বপ্নে কখনো বাস্তবতা বদলায়না। অথর্ব কুঁজো জীবন নিয়ে তবুও বেঁচে থাকতে হবে। মাঝে মাঝে মনে হয় এজীবন আমার নয়। জীবনানন্দ দাসের কবিতা মনে পড়ে, " যে জীবন দোয়েলের, ফড়িংয়ের মানুষের সাথে তার হয়নাকো দেখা।"
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


