somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

প্রজ্জলিত মেশকাত
ব্যক্তিজীবনে অহিংসায় বিশ্বাস করি। বুদ্ধের দর্শন গভীরভাবে ভাবায় আমায়। “আসক্তিই সকল দুঃখের কারণ, অধিকারবোধ থেকেই দুঃখের সৃষ্টি।” এই দুটো বাক্যের উপর অগাধ বিশ্বাস। কারো চিন্তা-চেতনাকেই ছোট করে দেখিনা। আমি বিশ্বাস করি যে মতবাদই হোক, তার গভীরে না ঢ

অস্তিত্বের দহন।।

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অনেকদিন ধরে ব্লগে নেই। ফেসবুকে তো এমনিতেই নেই। ডিএক্টিভেট করে দিয়েছি। ফেসবুক অনেকটাই ভয়ংকর। সে হিসেবে ব্লগটাই তুলনামূলক নিরাপদ যায়গা। এমনকি অনেকটাই। ব্লগকে ভালবাসি। ব্লগে প্রায় সব মতাদর্শের লোক থাকলেও খুব একটা বাজে প্রতিক্রিয়া কারো মধ্যে সেরকম দেখা যায়না। এর আগে সামু আমার পাঁচ বছরের পুরোনো ব্লগ কেড়ে নিয়েছে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের কথা বলে। শুধু আমার নয় অনেকেরই। সামু কর্তৃপক্ষকে অজস্রবার মেইল করেও সঠিক জবাব পাইনি। জানা আপুকে ব্যক্তিগতভাবে মেইল করেছি। তাও তিনি কিছু করেননি। তারপর যখন কপিরাইট লংঘনের কথা বলে মেইল করলাম তখন ফালতু জবাব দিল। এটা নিয়ে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু সেটা এখন আর নেই। ইউরোপ আমেরিকাতে এভাবে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের নামে ব্লগ কেড়ে নিলে কপিরাইট আইনে শক্তিশালী মামলা হত। শুধু তাই নয় বেশ কয়েকটি ধারাতে মামলা করা যেত। যাই হোক এসব বেহুদা পেচাল।

গত চারমাস পোস্ট গ্রাজুয়েশন পরীক্ষার জন্য সব প্র্যাকটিস বন্ধ রেখে পড়াশুনার চেষ্টা করেছি। আশানরুপ পড়াশুনা হয়নি। প্রচন্ড অর্থাভাবে পড়তে হয়েছে। তারও যেটুকু পড়া হয়েছে তার আপেক্ষিক গুরুত্ব অর্থাভাবের চেয়ে বেশিই ছিল। যদিও ছেলের ডায়পার কিনতেও বেগ পেতে হয়েছে। দিনের পর দিন একই তরকারি খেতে হয়েছে। কিন্তু শেষ সময় এসে একেবারে ডিমোটিভেটেড হয়ে যাচ্ছি। পরীক্ষার চৌদ্দদিন বাকি। এরমধ্যে কিছুই পড়া হচ্ছেনা। আগের সব ত্যাগ বৃথা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিচ্ছু হবেনা। কখনোবা অতীতের ব্যর্থতার স্মৃতি থেকে সুইসাইডাল টেনডেন্সি তৈরি হচ্ছে। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান আমি। আমি মারা গেলে আমার বাবা মায়ের কষ্ট হবে আর আমার একমাত্র সন্তানের কষ্ট হবে। এইভেবে কিছু করতেও পারিনা। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে যদি নিজের প্রত্যাশার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর অনুভূতি পাই, তার চেয়ে বরং একবার মরে যাওয়ায় উত্তম। কিন্তু দ্বিতীয়বার এই পৃথিবীতে তো আমি আর আসবোনা। আমার অস্তিত্ব মুছে যাবে এই মহাবিশ্ব থেকে। এই পৃথিবীর আলো বাতাসে আর ফিরে আসতে পারবোনা। দেখতে পারবনা আমার মায়ের মুখ, আমার সন্তানের মুখ। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে যাব আমার সন্তানকে।

গত তিন বছর ধরে অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছি। আসলে যতটুকু করা দরকার ততটুকু করতে পারিনা একদমই। হাপিয়ে গেছি একদম। সবসময় একটা অবসেশন- আমি ব্যর্থ। হতাশাবোধ থেকে শরীরে বাসা বেধেছে হার্টের সমস্যা। ব্লাড সুগারও বেশি থাকে। তবে এগুলোকে আমি রোগ হিসেবে মনে করিনা। খুব কাছের বন্ধু মারা গেছে অতি অল্প বয়সে, যে ছিল নিত্যদিনের সংগী। সেটাও মনের মধ্যে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। খুব কাছের একজন সিনিয়র ভাই, যিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যে খুব কাছের মানুষে পরিনত হয়েছিলেন, কার এক্সিডেন্টে সপরিবারে মারা গেছেনল সেটাও ভীষণ পোড়ায় আমায়। সবমিলিয়ে নিজের কাছে নিজেই বোঝা হয়ে গেছি।

তবুও নতুন ভোর হবে। ভোরের সূর্য উঠবে। নতুন করে শুরু করার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি নিজেকে দিয়ে আবার পুরোনো জিঞ্জিরে ফিরে যেতে হবে। এরই মাঝে শত হতাশা আর দুঃখবোধ নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে। ভূলগুলো কখনোই ফুল হবেনা। অনন্য মানুষ হতে পারবোনা। স্বপ্নমঞ্চে জীবনকে সাজানো যায়না। অনেক স্বপ্নে কখনো বাস্তবতা বদলায়না। অথর্ব কুঁজো জীবন নিয়ে তবুও বেঁচে থাকতে হবে। মাঝে মাঝে মনে হয় এজীবন আমার নয়। জীবনানন্দ দাসের কবিতা মনে পড়ে, " যে জীবন দোয়েলের, ফড়িংয়ের মানুষের সাথে তার হয়নাকো দেখা।"
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:১১
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজগত বিষয়ে আমার গবেষণায় এআই সহায়তা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১





কোন কিছু না থাকা শূন্য অসীম ছিল। কারণ তাতে তাকে সীমা দেওয়ার মত কিছুই ছিল না। সেই শূন্যে কোন কিছু হতে কোন বাধা ছিল না। কে বাধা দিবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিসের রিকন্সিলিয়েশন‼️কার সাথে কে চায় এই রিকন্সিলিয়েশন⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০



বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে "রিকন্সিলিয়েশন" বা সমঝোতা-ভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে বিতর্কটা অনেক পুরনো, এবং প্রশ্নটা সেই বিতর্কের মূল জায়গায়।

এটা কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রামের জ্ঞানতাপস আচার্য যোগেশ চন্দ্র সিংহ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫২

সাধনপুরের সন্তান আচার্য যোগেশ চন্দ্র সিংহ যিনি নিজের আলোয় আলোকিত করেছিলেন চট্টগ্রামের শিক্ষা-জগৎ।

কোনো কোনো মানুষের জন্মদিন ইতিহাসের ক্যালেন্ডারে একটি সাধারণ তারিখ হয়ে থাকে। আবার কোনো কোনো মানুষের জন্ম একটি জনপদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



দুইজন বয়স্ক মানুষ আমাদের বাসায় আসেন।
তারা গ্রামে থাকেন। ঢাকা এলে আমাদের বাসায় উঠেন। ঢাকা তারা আসেন চিকিৎসা করাতে। ৫/৭ দিন থাকেন। চিকিৎসা শেষে চলে যান। আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই বিবেচনায় সামুর সেরা ব্লগারগণ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪১




সামহোয়্যার ইন ব্লগের উল্লেখযোগ্য ২০ ব্লগার
ক্রম ব্লগার যে কারণে উল্লেখযোগ্য
১ রাজীব নূর দীর্ঘ ১৬+ বছর সক্রিয়তা, বিপুল পোস্ট ও মন্তব্য, জীবনঘনিষ্ঠ লেখা
২ চাঁদগাজী/সোনাগাজী রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×