somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Who এবং টাকলা মামা

২৬ শে জুলাই, ২০১৫ সকাল ৭:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

who এবং টাকলা মামা
=================

উপরে বড় করে লেখা "এখানে প্রস্রাব করা নিষেধ।"

বেশ কিছুক্ষণ ভাবলাম। এখানে প্রস্রাব করা নিষেধ কেন?
প্রস্রাব করেই দেখতে হবে ব্যাপার কি?

যেই চিন্তা সেই কাজ। বসার সাথে বিচক্ষণতার সহিত মিস্টার মিন্টুর দিকে খেয়াল রাখলাম। ব্যাটা এদিক ওদিকে তাকাচ্ছে!

বেশ মজা পেলাম এখানে প্রস্রাব করে। "এখানে প্রস্রাব করা নিষেধ " এটাই বোধহয় মজা পাওয়ার মূল কারণ।
আমরা সেই কাজেই উত্তেজনা পাই যেই কাজে নিষেধ থাকে।
আচ্ছা নিষেধ করা কাজের মাঝে এত উত্তেজনা কেন?

উত্তেজনার দ্বিতীয় মাত্রা যোগ হলো উঠতে গিয়ে।
কেউ একজন কলার টেনে ধরে আছে।
"আরেহ বাবা চেইন টা তো মারতে দে!"
চেইন মেরে খটাস করে অইদিকে তাকালাম।

ড্রেসআপ করা একজন লোক। সম্ভবত দারোয়ান।
কাঁধের খাঁজে একটা রাইফেল। পুলিশের হাতে অস্ত্র দেখলে ভয় লাগেনা। কিন্ত অদ্ভুত কারণে অস্ত্র ছাড়া পুলিশ কে ই ভয় লাগে।
পুলিশ ব্যাতিরেকে অন্য কারও কাঁধে অস্ত্র দেখলে তো পেশাব করে দেয়া উচিত!
পেশাব টা খারাপ দেখাচ্ছে। এখানে হওয়া উচিত প্রস্রাব।

দারোয়ান কলার ধরে ভবনের ভিতরে নিয়ে গেল। দেখেই বুঝতে পারলাম আজ অবস্থা কেরোসিন।
বিশাল বাড়ি। টাকা খরচে বিলাসিতা করেনি ব্যাটা।
এত টাকা কই পাইলো ব্যাটা? ভাবনার বিষয়। এখনকার ভাবনা অবশ্য অন্যটা। আমায় ভিতরে কেন আনা হলো?

দারোয়ান এমন একটা ভাব নিয়ে আছে যেন সে নিজেই একটা কিছু । ব্যাটার নাম আবদুল্লাহ আল রহমান। কিন্ত নেম প্লেটে লেখা শুধু আবদুল্লাহ ।পুরো নাম জানাটা আমার অস্বাভাবিক কোন ক্ষমতা নয়। নিজের প্রয়োজনেই পুরো অঞ্চলের সবার নাম জানা আছে।

আমি দারোয়ানের দিকে করুণ সুরে বললাম,"রহমান ভাই ভালো আছেন?"

"ভালো আছি।",বেশ কড়া গলায় বললো।

"ভাই আমায় এখানে কেন আনলেন?"

"আপনার আজকে খবর আছে। আপুমনি আপনারে টাইট দিবে।"

"ভাই কি দিয়ে টাইট দিবে?"

"চুপ মিয়া বেশি বকেন।"

আমিও চুপ করে রইলাম ।
কিছুক্ষণ বাদেই রহমান মিয়ার টনক নড়লো,"ভাই আমার নাম রহমান আপনি জানলেন ক্যামনে?"
আমি চুপ করে রইলাম। ব্যাটা নিজেই তো আমাকে চুপ করে থাকতে বললো।

"ভাই কথা কন না ক্যান?",শীতলতা কন্ঠে।
উত্তর কি দেওয়া উচিত?
থাক ব্যাটা যতক্ষণ কথা বলতে বলবেনা ততক্ষণ চুপ ই থাকবো।

শ্যামলা করে এক মেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো। শ্যামলা হলেও চেহারার মাঝে অসম্ভব মায়া।
এরকম মায়াবতী মেয়েরা অসম্ভব কঠোর হয়। মানুষের চেহারার সাথে মুখের মিল থাকেনা। আর যদি কখনো মিলেও যায় তবে বুঝতে হবে ঘাপলা আছে।

"আসসালামু আলাইকুম ম্যাডাম।"

"আপনি কে?"

"আমি who. আর এইযে ইনি আমার বস মিস্টার মিন্টু।"

"আপনাকে তো আমি কিছুই জিজ্ঞেস করি নাই!"

"ওহ এই কথা? কিন্ত আপনার বাবা তো মিস্টার মিন্টুর কথা জিজ্ঞেস করে।"

"মিস্টার মিন্টু টা কে?"

"এইতো ইনি আমার বস মিস্টার মিন্টু।"

"হাহাহাহাহা। আপনি কি আসলেই পাগল? এইটা একটা মামুলি কুকুর! আপনার বস কি করে হয়?"

"বস রে নিয়া মজা করবেন না। আপনার বাবা রিফাত চৌধুরী সেদিন মজা করে এমন তাড়া খাইছিলো। বসের মাথা হট।"

"ওহ! এইটাই সেই কুকুর? কিন্ত বাবা তো বললো অন্য কথা?"

"কি কথা?"

"বাবা কুকুরটাকে নিয়ে মসকরা করায় অন্য কুকুর রা তাকে তাড়া করেছে। এইটা নাকি কোন সাধারণ কুকুর ছিল না!
এখন তো দেখছি একটা সাধারণ কুকুর!"

"হুঁ।"

"আচ্ছা আপনার নাম কি যেন বলেছিলেন?"

"who, আর উনি আমার বস মিস্টার মিন্টু।"

মেয়েটা আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে। এভাবে চেয়ে থাকলে নিজেকে মনে হয় যেন কোন খাবার জিনিস।
ইশ! কেন যে খাবারের কথা মুখে আনলাম?

"চা হবে?", বললাম আমি।
মেয়েটা ভ্রু কুঁচকে তাকালো। তাকালে আমার কি?

দারোয়ান রহমান মিয়া এখনো কনফিউজড হয়ে আছে। বোধহয় রহমান আর আবদুল্লাহ এর মাঝে প্যাঁচ খেয়ে আছে।

"রহমান চাচা এই লোককে ভিতরে কেন আনলেন?",মেয়েটি মিহি কন্ঠস্বর।

"এই বেডায় বাইরে পেশাব করেছে।"

"আপনাকে না কতবার বলেছি আমার সামনে পেশাব না বলতে?"

"সরি অপরা আপুমনি।"

মেয়েটির নাম অপরা? অপর্ণা হলেই বেশ হতো।

"আমিকি আপনাকে অপর্ণা বলে ডাকতে পারি?",প্রশ্ন টা করে নিজেই নিজেকে দোষতে লাগলাম।

মেয়েটি কটমট করে তাকিয়ে আছে।
"আপনি জানেন ওখানে প্রস্রাব করায় আপনার কি শাস্তি হতে পারে?",মেয়েটির মুখে হুমকি।

"কি শাস্তি?"

"চাইলে জেলে দিতে পারি।"

"আচ্ছা জেলে দিয়েন। তার আগে আপনি একটা প্রশ্নের উত্তর দেন তো, আপনার নাম অপরা কেন? এটা তো হিন্দুদের নাম।"

"আপনার সাহস অনেক বেড়ে গেছে।"

"জ্বি আপনাদের দোয়ায়।"

"একটুও ভয় করছেনা? মডেল থানার ওসি আমার মামা বুঝলেন। বললে এখনি এসে আপনাকে ধরে নিয়ে যাবে।"

"টাকলা বুঝি আপনার মামা? সাথে ভোসকা পুলিশ টাকেও আসতে বইলেন। "

"দাঁড়ান দেখাচ্ছি মজা।"

আমি দাঁড়ালাম না মাটিতে বসে পড়লাম। মেয়েদের কথা শুনতে নেই।

মেয়েটি ইয়া বড় একটা যোগাযোগ যন্ত্র বের করলো। সবাই মোবাইল ডাকে কিন্ত আমি না।

"হ্যালো মামা তুমি কোথায়?"

"বাসায় একটা ছেলে গন্ডগোল করছে।"

"আবদুল্লাহ চাচা কিছুই বলছেনা।"

"হ্যাঁ তাড়াতাড়ি আসো প্লিজ।"

মেয়েটির কথা শেষ। আমার দিকে কিভাবে কিভাবে যেন তাকাচ্ছে।
চোখ যেহেতু আছে তাকাতেই পারে নাকি?

"আপনার মামাকে শুধু শুধু ডাকলেন। উনার নাম মিস্টার মিন্টুর ব্ল্যাক লিষ্ট এ আছে।"

"কিসের ব্ল্যাক লিষ্ট?"

"আমার বস মিন্টুর ব্ল্যাক লিষ্ট। আপনার মামা ভালো লোক না।"

"ভালো লোক খারাপ লোক আপনার কাছ থেকে শিখতে হবেনা।"

"আপনার মামি তো আজ দেশে ফিরবেন তাই না?"

অপরা মেয়েটা পুরা থ খেয়ে গেল। চোখে মুখে শঙ্কা। মিন্টু সমাজের লোকদের মাধ্যমে খবর নিয়েছি আগেই।
মেয়েটি বোবা টাইপ দাঁড়িয়ে আছে।

রহমান মিয়া এবার মুখ খুললেন,"আপুমনি হুকুম দিলে এই পাগলার মাথা ফাটায় দিমু।"
আপুমনি চুপ করে আছে। বেচারির মাথায় কিছুই কাজ করছেনা।

"আপনি কে?",অপরা বেশ চিন্তিত হয়ে বললো।

"আমি ইসলামিক স্টেইট এর সদস্য।"(মজা করে)

"আই এস? ওহ মাই গড।"

"গড না বলে আল্লাহ বলবেন। আর আপনার টাকলা মামা আসেনা কেন?"

"আমার মামাকে নিয়ে কিচ্ছু বলবেন না।"

"আপনার মামার গাড়ি সুদ্ধু কিডন্যাপ হয়েছে জানেন তো?"

"কি সব আজে বাজে বকছেন?"

আমি কোন উত্তর দিলাম না। মেয়েটি বেশ ভয় পাচ্ছে। আমাকে দেখে কেউ ভয় পেলে মজাই লাগে।

পুলিশের গাড়ির আওয়াজ শুনলাম কিছুক্ষণের মাঝে।
টাকলা মিয়া নেমে এসেছে। উনার সাথে আগেও কয়েকবার দেখা হয়েছে।

"তোর সাহস তো অনেক বেড়ে গেছে!",টাকলা কটমট করে উঠলো

"জ্বি স্যার আপনাদের দোয়ায়।"

"তোর তেল কিছুটা কমানো দরকার। চল থানায়।"

"স্যার তেল না কমায়ে বিক্রি করে দিলে তো লাভ হয়। ফিফটি আপনার ফিফটি আমার।"

"চোপ।"

"জ্বি স্যার।"

"শালা তুই গাড়িতে উঠ।"

"স্যার গাড়িতে তো মিন্টু সমাজের লোকেরা।"

"ওহ শীট।", বলেই গাড়ির দিকে ছুটলো টাকলা। গাড়ির মাঝে গুনে গুনে পাঁচটা কুকুর বসে আছে।

টাকলা পুরাই থ। অপরা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
টাকলার পিছনে ও যে দুইটা কুকুর দাঁড়িয়ে তা সে খেয়াল ই করেনি।

আমি বললাম,"স্যার আপনাকে এরেস্ট করা হলো মিন্টু বিধান চার অনুযায়ী।"

"what?"

"জ্বি স্যার। বেশ কিছুদিন আপনার উপরে চোখ রাখা হয়েছে। ঘুষ বোধহয় বেশি খেয়ে ফেলেছেন।"

"শাট আপ।"

"স্যার আপনার পিছনে মিন্টু সমাজের দুজন দাঁড়িয়ে। উভয়েই পাগলা কুকুর। গিয়ে সুন্দর করে গাড়িতে উঠে যান। দেখা হবে মিন্টু সমাজের আদালতে।"

"আমি উঠবো না। "

আমি কিছু বললাম না। উঠতে তাকে হবেই। অন্যায় যেহেতু করেছে শাস্তি তাকে পেতেই হবে।
বাড়িটা থেকে বেড়িয়ে পড়লাম।
অপরা পিছনে থেকে ডাকলো,"who?"

আমি তাকালাম না। কিছু সময়ে তাকাতে নেই।
'
'
প্রথম পর্ব
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে ইসলামপন্থা বনাম গণতন্ত্র: মানুষ যখন নাগরিক থেকে অনুসারী হয়ে উঠছে!

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩


কিছুদিন আগেও আমরা বলতাম, "দয়া করে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাবেন না"। সরল এই কথাটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোধ ছিল - ধর্মীয় বিশ্বাস আর রাজনীতি এক জিনিস নয়। গত দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার হিসেবে আপনার স্ট্র্যাটেজি কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬



গত আড়াই দিনে, অর্থাৎ, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১০-তে ব্লগার ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা থেকে শুরু, এরপর থেকে আজ ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় বিকাল ৪টা ৪২... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×