গাড়ি এবং গাড়ি চালানোর অরিজিনাল সব কাগজপত্র গুলো (অরিজিনাল শব্দের মাজেজা পরে দেয়া আছে) যেদিন হাতে পেলাম যার পর নাই খুশি আমি। আমার খুশি দেখে আমার সাত বছরের ছোট্ট ছেলেটা পর্যন্ত জানতে চাইলো আমার এত খুশি'র কারন কি? আমার ছেলেটা একটু বেশী'ই প্রশ্ন করে। গাড়ি'র কাগজপত্র করানোর জন্য যখন দৌড়াদৌড়ি করছি তখনও ছিল তার হাজারো প্রশ্ন। আমি বলি শোন বাবা এই কাগজ গুলো হলো গাড়ি রাস্তায় নামানোর পূর্বশর্ত। এই কাগজ গুলো থাকলে পুলিশ রাস্তায় আমাদের গাড়ি আটকাবে না। বাপে'র প্রশান্তির হাসি দেখে ছেলেটা'ও একটু হাসলো। গাড়ি'টা নিজে'ই চালাই, তাই সব কিছুতেই নজরটা একটু বেশিই দিতে হয়। আর গাড়ি চালানোর সময় নিয়মকানুন গুলো একটু বেশি'ই মেনে চলি।
কিছুটা কোলাহল মুক্ত এলাকায় এক দোকানের সামনে গাড়ি দাড়ঁ করিয়েছি, বিবি-বাচ্চা দোকানে গিয়েছে আর আমি গাড়ির ভিতর। পাচঁ মিনিটের ভেতর ওরা কেনা-কাটা করে গাড়ি'তে ফিরে আসলো। গাড়ি স্টার্ট দিবো দেখি জানালার পাশে এক ট্রাফিক পুলিশ আমাকে সালাম দিচ্ছে আর কিছু বলার চেষ্টা করছে। জানালার কাচঁ নামিয়ে হাসি মুখে সালামের উত্তর দিলাম। "স্যার আপানার গাড়ি'র কাগজগুলো একটু দেখবো"। মনে মনে বলি ভাইজান এই দিনটার জন্য'ই তো আমি অপেক্ষা করছিলাম। আপনি কাগজগুলো দেখেন আর আমার ছেলে দেখুক গাড়ি'র কাগজপত্র থাকার উপকারিতা কি।
ফিটনেস, রেজিষ্ট্রেশন, ইনসুরেন্স, সবশেষে ড্রাইভিং লাইন্সেস এটার পর একটা ভালো করে দেখছেন.......নাহ্ ভদ্রলোক'টি মোটেও বিরক্ত হচ্ছেন না, আবার হালও ছাড়ছেন না। প্লাস্টিক ড্রাইভিং লাইন্সেস'টি সূর্যের আলোতে ধরে পরিক্ষা করছেন ওটা আসল কিনা। আমিতো মহাখুশি মনে মনে বলি এইবার বলো বাছধন "স্যার সব ঠিক আছে আপনি যেতে পারেন অথবা আপানাকে বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত"। ভদ্রলোকের জটিল অবস্থা দেখে তার আরেক সহকর্মী এগিয়ে আসলো। সেও একই ভাবে কাগজপত্র গুলো দেখতে লাগলো। নিচু স্বরে নিজেরা বলাবলি করছে কাগজ সব ঠিক আছে, লাইন্সেসও অরিজিনাল। পরে যোগ দেয়া সহকর্মীটি পান চিবাতে চিবাতে আমার দিকে ফিরে বললো "লাইন্সেস দালাল'রে দিয়া করাইছেন না পরিক্ষা দিয়া করছেন"। ধরনি তুমি দ্বিধা হও......আরে ব্যাটা নিজেরাই যখন বলাবলি করছিছ আমার লাইন্সেস অরিজিনাল তাহলে সেটা যেভাবেই হোক তোর জেনে কাজ কি। বিআরটিএ (লাইন্সেস প্রদানকারি সরকারি অফিস) সর্ম্পকে বাজারে প্রচলিত কথাগুলোর মধ্যে অন্যতম যেটা তা কি তুই জানিস না যে কোন কর্তা'কে ছালাম দিলে তার জবাব উনি দেন না যতক্ষন না টাকা দেয়া হয়। বিরক্তি গোপন করে স্বভাবজাত ভঙ্গি তে বললাম "পরিক্ষা দিয়ে করেছি"। পান চিবানো ভুড়িওয়ালা এবার বললো "আপনাকে রং পার্কিং এর জন্য একটা মামলা দিবো, এই যায়গায় গাড়ি দাড়ঁ করানোর নিয়ম নাই, আসেন আমার সাথে"।
অদুরে দাড়াঁনো কালো সানগ্লাস পরা সার্জেন্ট সাহেব যার কাছে আমাকে নিয়ে গেল উনি আর আমার কোন কথা শুনলেন না। উনি আমার বিরুদ্ধে রং পার্কিং এর মামলা'টা করেই ফেললেন। মামলার কাগজটা লিখা শেষ করে উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন "আপনি ইনস্টান্ট ফাইন দিয়ে বিষয়টা সলভ করলেন না কেন"? আমিতো অবাক বললাম কই ওনারা তো আমাকে বলে নাই ইনস্টান্ট ফাইন দেবার সিসটেম আছে। উনি বললেন ওরা আপনাকে বলেছিল আপনি শুনেন নাই। আমি ওই দুইজন ট্রাফিক পুলিশে'র দিকে তাকালাম। শুনলাম ওনারা মনেমনে বলছে "ওই গাধা আমারা যে এতক্ষন ধরে তোর কাগজপত্র চেক করলাম তখন কি একবারও বুঝতে পারোস নাই আমারা কি চাই, ব্যাটা রাস্তায় গাড়ি চালাস আমাগোরে যে মাঝে মাঝে টাকা দিতে হয় তা কি জানোস না"। এইবার নিজেকে সত্যিই গাধা মনে হলো, কি নিদারুন বোকা আমি। আরিজিনাল কাগজ থাকার জন্য এতটা আত্নবিশ্বাসে বলিয়ান হওয়া উচিত হয়নি, উচিত হয়নি আমার ছেলেকে একটা বিষয় বোঝানোর জন্য এই রিক্স'টা নেয়া। মামলার কাগজটা নিয়ে গাড়িতে ফিরে আসতে আসতে নিজেকে বুঝালাম... যাক ওই ব্যাটাদের তো আর আমি ইনস্টান্ট ফাইন দেই নি, যা দিবো সরকারের কোষাগারেই দিবো।
পুলিশে কাজ করে আমার এক বন্ধু আর কিছু পরিচিত জনের সাথে কথা বলার পর এই ঘটনা থেকে আমার যা শিক্ষা হলো:
- গাড়ির কাগজপত্র অরিজিনাল থাকা কোন আবশ্যিক শর্ত্য না,
- ফিউচার টেন্সে কথা বলার অর্থ (রং পার্কিং এর জন্য একটা মামলা দিবো) ইনস্টান্ট ফাইন মানে ঘুস চায়,
- সার্জেন্ট সাহেব সাধারনত একটু দুরে'ই থাকেন, ইনস্টান্ট ফাইন যা দিবার তা দিতে হবে উনার কাছে পৌছানোর আগে,
কিন্তু আমার ত্যাদোর ছেলের প্রশ্নবানে আমি অস্থির "বাবা তুমি না বললা তোমার সব কাগজ ঠিক আছে তাহলে ওরা কেইস করলো কেন"?
____________________________
বি:দ্র: দুটো ছবি এ্যাড করতে চাচ্ছিলাম লেখার সাথে কিন্তু পারলাম না। সিসটেম URL link সাপোর্ট করছে, কিন্তু হার্ড ড্রাইভ থেকে করছে না, কেউ কি হেল্প করবেন আমাকে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ৯:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


