somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উড়ে গেল পাখি-১

২৬ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনের প্রতি বাকে কত কিছু লুকিয়ে থাকে। প্রতি বাকে হারিয়ে যায় কত শত মুখ। কত মানুষকে যেতে দিতে হয়, মনের বিরুদ্ধে। তাদের জন্য, কিংবা নিজের জন্য। আমি তো তোমাকে যেতে দিতে চাইনি। আবার তোমার মনের বিরুদ্ধে তোমাকে খাচাতেও আটকে রাখতে চাইনি। তুমি যখন উড়ে যেতে চাইলে, আমি দরজাও খুলে দিয়েছিলাম। কিন্তু মন থেকে চাইনি। তুমি সেটা দেখেছিলে, তাই আমার জন্যই তুমি আবার খাচার ভেতর ফিরে গিয়েছিলে। আমি তোমাকে বন্দি রাখতে চাইনি। শুধু চেয়েছিলাম তোমার জন্য থাকতে, বলেছিলাম, তোমার দরকার পরলে আমাকে পাবে। তোমাকে পুরাপুরি ছেড়ে দেয়ার মত উদার হইনি। আবার তোমাকে ধরে রাখতেও মনে বাধতো। তোমাকে কষ্ট দিয়েই রেখেছিলাম। কিন্তু মাঝে মাঝে যখন তুমি উড়ে যাওয়ার জন্য ছটফট করতে, আমি দিশেহারা হয়ে পড়তাম। কিভাবে তোমার কষ্ট কমাবো। তোমার আর আমার মাঝে যেই বেড়া তৈরী করেছিলাম, তুমি সবসময় সেই বেড়াতে কষ্ট পেতে। বলতে ঐ বেড়া যতদিন থাকবে, ততোদিন তুমি কষ্ট পাবে। কিন্তু ঐ বেড়া আমার জন্য সরানো সম্ভব না, এও বলেছিলে। আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম। ভেবেছিলাম, সত্যি বোধহয়, ঐ বেড়া আমার পক্ষে ভান্ঙা অসম্ভব। চাইনিও ভান্ঙতে। মিথ্যার বেড়াজাল দিয়ে আরো শক্ত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তুমি আমার মিথ্যাগুলো দেখে ফেলেছিলে। মিথ্যার ঐ পারে কি লুকিয়ে রেখেছিলাম, সেগুলো দেখতে পাওনি। আমি চেয়েছিলাম তুমি ভাবো, আমি মিথ্যবাদী, কোন ভাবেই যেন তুমি আমার লুকানো সম্বল দেখতে না পাও। আমি সফল হয়েছিলাম, কিন্তু তার সাথে হারিয়ে ফেলেছিলাম তোমাকেও। তুমি কখনো আমাকে ক্ষমা করনি। তাই সেদিন যখন আরেকবার বললে তোমাকে ছেড়ে দিতে, আমি রাজী হয়ে গিয়েছিলাম। তোমাকে কষ্ট দেয়ার সাধ্য আমার আর ছিলনা। কারন তোমার সাথে সাথে আমি আরো দশগুন কষ্ট পাচ্ছিলাম। খাচার দরজা খুলে দিতে আমি রাজী হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার প্রতি তোমার ঘৃনা দেখে আমার কষ্ট যেন আরো একশ গুন বেড়ে গেল। কখনো চাইনি এইভাবে বিদায় নিতে। তাই বললাম, তোমাকে একটা কথা বলা দরকার। আমার লুকানো সম্বল, যা আমি এতদিন শত মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রেখেছিলাম। এই একটা কথাই আমার শত মিথ্যার কারন। তোমার আমার মাঝের সেই বেড়া তোলার সাধ্য আমি কোথা থেকে পাব বলো? ঐ বেড়া ঐ পাশেই যে ছিল আমার ভাঙা রিদয়খানি। সত মিথ্যা বলেছিলাম, শুধু ঐটা ঢাকতে। ঐ বেড়া রেখেছিলাম আমাকেই প্রটেক্ট করতে। তুমি ঠিক ধরেছিলে। তোমার কাছ থেকে অনেক লুকিয়েছি আমি। আমি আর মেয়েটা জোট বেধেছিলাম। ও আমাকে কথা দিয়েছিল, আমার কথা কোনদিন ফাস করবেনা। করেওনি। ওকে দোষ দাও কেন? ওতো শুধু আমার কথা রেখেছিল।

আমার এইসব কথা শুনে তুমি দিশেহারা হয়ে গেলে। জিগ্গেস করলে, আমি এত বড় ভুল কিভাবে করলাম। কেন বললাম না? বলব কেমন করে বল? আমার বলার কোনই উপায় ছিল না। তাই ক্ষত বিক্ষত হয়ে শত মিথ্যার আড়ালে নিজেকে লুকাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই মিথ্যার আবরন যখন খুলে গেল, আমি দাড়িয়ে রইলাম। খুব দৌড়ে পালাতে ইচ্ছা করছিল। চেষ্টাও করেছিলাম। তুমি বলেছিলে, আমি যেন থাকি। তুমি বলেছিলে, আমি যখন বেড়া ভাংলাম, এবং প্রথমবারের মত তোমাকে মুক্তি দিলাম, আর তুমি যখন থাকতে চাইলে, তখন আমি কিনা তোমাকে ছেড়ে চলে যাব? কিন্তু আমি বলেছিলাম, আমার পক্ষে আর থাকা সম্ভব না। তোমাকে যখন মুক্তি দিয়েছি, পুরাপুরি ভাবেই দিতে চাই। যার মানে তোমার কোন কিছুর সাথেই আমি আর জড়াবোনা। তুমি তখন গিল্ট ফিল করছিলে, নাকি রাগ? তোমার শত কষ্ট আর রাগ আবার এসে আমার ঘাড়ে পড়ল। নিজেকে পুরা উজাড় করে দেয়ার পরেও তুমি আমাকে বুঝলেনা। ভাঙা রিদয় নিয়ে আমি পালালাম। তোমার ভালবাসা এসে পড়ার আগেই পালাতে হবে। উড়ে যেতে হবে, বহুদুর। যেন আর কোনদিন খুজে না পাওয়া যায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:৫৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজব পোশাক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬


এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×