somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্ত্রির ধর্ষকের সন্তানকে বুকে টেনে নিয়েছি আমি।

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনের যত অদ্ভুত এবং প্রকাশ করা যায় না এমন অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে উৎসাহ জোগায় এক ভারতীয় সাইট। সেখানে এক তরুণ তার জীবনের এমন অভিজ্ঞাতার কথা জানালেন যা পড়ে আমি নিজেই অবাক আর হ্রদয় চোয়ে গেল তার স্ত্রীর ধর্ষকের সন্তানকে তিনি কিভাবে বুকে টেনে নিলেন সেই কাহিনী তুলে ধরেছেন এখানে।পাঠক রা মন্তব্য দিবেন আশাকরি মানুষটার জন্য

তিনি যেভাবে অভিজ্ঞতার বয়ান করেছেন সেভাবেই তুলে ধরা হলো। তিনি লিখেছেন,

'আমার বয়স ২৯ বছর। সাত বছর আগে বিয়ে হয় আমাদের। ফুটফুটে একটা মেয়ে রয়েছে ঘর আলো করে। ওর বয়স এখন ছয় বছর। বিয়ের ঠিক ৯ মাসের মাথায় জন্ম হয় ওর।

মেয়েটার জন্ম আমার সামনে এক নতুন পৃথিবীর জন্ম দেয়। তবে একটা বিষয় মাঝে মধ্যে চিন্তা হয়ে ধরা দিতো। বিয়ের পর আমার স্ত্রী অধিকাংশ সময়ই তার বাবার বাড়িতে থাকতো। খুব দ্রুতই সে ওই বাড়িতেই থাকা শুরু করলো। সেখানেই আমাদের সন্তানের জন্ম হলো। সেখান থেকেই সে হাঁটা শিখলো এবং একসময় স্কুলে যাওয়া শুরু করলো। আমার স্ত্রী এবং কন্যার সময়টা নানা বাড়িতেই কাটতে থাকলো টানা ৫ বছর।

এরপর হঠাৎ করেই এই ছোট পরিবারটাকে আরো বড় করার প্রয়োজন অনুভব করলো আমার স্ত্রী। খুব সিরিয়াস হয়ে গেলো সে। তা ছাড়া সাংসারিক জীবনের নিয়মিত টানাপড়েন তো আছে। ভাবলাম, আরো একটা সন্তান আসলে হয়তো অনেক ঝামেলাই দূর হবে। কিন্তু সমস্যাটা হলো অন্য জায়গায়। এক বছর পর বোঝা গেলো, আমার স্ত্রী গর্ভধারণ করতে পারছেন না। আমার শুক্রাণু এবং ওর গর্ভের উর্বরতা পরীক্ষা করতে গেলাম চিকিৎসকের কাছে। রিপোর্টে জানলাম, আমার শুক্রাণুর উৎপাদনশীলতা নেই। আমার স্পার্মে স্ত্রীর গর্ভধারণ সম্ভব নয়।

প্রচণ্ড যন্ত্রণা আর কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরলাম রিপোর্ট হাতে। স্ত্রী বিরামহীনভাবে কেঁদে চলেছেন। আরেকটি সন্তান দিতে পারলাম না স্ত্রীকে। আমি ওর কাছে অন্তঃস্থল থেকে ক্ষমা চাইলাম। বললাম, আমাকে ক্ষমা করে দাও। তোমাকে আরেকটা সন্তান দিতে পারলাম না আমি। কিন্তু একটা ফুটফুটে উপহার ঈশ্বর আমাদের দিয়েছেন।

ঠিক সেই সময়টাতেই আমার স্ত্রী নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। অসম্ভব বেদনা আর যন্ত্রণাকাতর হয়ে সে আমাকে যে কাহিনী শোনালো, তাতে আমার ভেতরটা ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেলো। স্ত্রী বলে যেতে লাগলো, আমরা যেখানে থাকতাম সেখানকার একটি ছেলে আমাকে বিয়ে করতে চাইলো। কিন্তু আমি ওকে মোটেও দেখতে পারতাম না। ও বার বার আমাকে প্রস্তাব দেয়। প্রতিবারই ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি আমি। আমার এই আরচণ ছেলেটি মেনে নিতে পারেনি। তোমার সঙ্গে বিয়ের কিছু দিন আগেই ছেলেটি তার বন্ধুদের সহায়তায় আমাকে অপহরণ করলো। আমি কলেজ থেকে ফিরছিলাম। ওরা আমাকে তুলে নিলো। সেই ছেলেটি আমাকে ধর্ষণ করলো এবং রাস্তার পাশে ফেলে চলে গেলো। যাওয়ার আগে বলে গেলো, এটা তার প্রতিশোধ।

স্ত্রী বলতেই থাকলেন, কিছুদিন বাদেই আমাদের বিয়ে হলো। ঠিক তখন থেকেই আমি পিরিয়ড মিস করলাম। এ অবস্থায় আমরা হানিমুনে চলে গেলাম। কি করবো এবং কিভাবে করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। কেবল সময় চলে যেতে থাকলো।

বিয়ের প্রথম বছর বাবা বাড়িতে ঘন ঘন যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, ওই ধর্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে হাজিরা দেওয়া। আমার শুক্রাণুর উর্বরতা ছিল শূন্য। তাই আমি বুঝিনি আমার স্ত্রীর গর্ভে আমার সন্তান আসেনি। এভাবেই বিয়ের ৯ মাসের মাথায় ঘর আলো করে আমার সংসারে এলো ধর্ষকের সন্তান। ওকে পরম আদরে বড় করতে থাকলাম। দেখতে দেখতে ছয় বছর বয়স হলো আমার কলিজার টুকরার।

স্ত্রীর কাছ থেকে এ গল্প শোনার পর আমার দুনিয়াটা কাঁপতে থাকলো। বিগত ৫ বছরে আমার স্ত্রী চোখে-মুখে স্পষ্ট হয়ে থাকা কষ্টের কারণ আমি বুঝতে পারলাম। সেও এ যন্ত্রণা বয়ে নিয়ে চলেছে। যে সন্তানে জন্ম দিয়েছে সে, তাকে ঘৃণা করতে পারেনি। ঘটনা জেনে আমি যতটা কষ্ট পেয়েছি, তার চেয়ে অনেক বেশি অবর্ণনীয় কষ্ট আমার স্ত্রী ভোগ করে চলেছে। তার তো কোনো দোষ ছিল না। ওর ধর্ষকই তো আসল দোষী। যে শিশুটিকে আমি প্রতিদিন বুকে জড়িয়ে রাখি, তারই বা কি দোষ?
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৩ কফি শপ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:০৬

আলোর-ছায়ার দোলাচলে এক কাপ কফি পান করার সুযোগ কি পাওয়া যেতে পারে?



ছবি ব্লগ - ২ টরন্টোর আকাশ
ছবি ব্লগ - ১ মেঘলা আকাশ
...বাকিটুকু পড়ুন

×