somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প : ডিজিটাল ফিচার

২০ শে অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অফিসে প্রচন্ড কাজের চাপ ।সামনে ক্রিকেট বিশ্বকাপ ।আমরা বিশ্বকাপ সংখ্যা বের করছি।তাই ক্রীড়া প্রতিবেদকদের দৌড়ের শেষ নাই ।গত একমাস যাবত কাজ চলছে।ক্রিকেটারদের ইন্টারভিউ নেওয়া,ফিচার লিখা,পুরনো পত্রিকা ঘাঁটাঘাঁটি করা,ফটো টিমকে কাজ বুঝিয়ে দেয়া,পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ,মাঠের বাইরের উত্তাপ,ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতামত নেয়া,রেকর্ড কর্ণার রেডি করা,সংখ্যার বিজ্ঞাপন বানানো আরও কতো কাজ।পাঁচ জনের টিম হওয়ায় ধকলটা একটু বেশি সইতে হচ্ছে।বিটের সম্পাদক হলে যা হয় আরকি।তদারকিতে একটু ভুল হলেই শেষ ।

যথারীতি রাতে রিপোর্টগুলো দেখতে বসলাম।রাত গভীরের পথ ধরলো ।কটা বাজে সেদিকে না তাকিয়ে একের পর এক রিপোর্ট পড়ছি ।আমাদের স্পোর্টস করেসপন্ডেন্টরা বেশ মেধাবী ।লেখায় ওদের তুলনা নাই।পত্রিকার ভাগ্য ভালো যে এরকম একটা টিম পেয়েছে।রিপোর্ট দেখতে দেখতে তন্দ্রাচ্ছন্নতা পেয়ে বসলো ।ওটাকে পাত্তা না দিয়ে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে শহর দেখলাম। রাতের শহর বেশ অদ্ভুত।চারদিকে কোন শব্দ নেই।যেন এখানেই থেমে গিয়েছে সময় ।মৌনমুখর শহরটাকে একলা থাকতে দিয়ে আমি আবার কম্পিউটার রুমে আসলাম।ইদানিং সফটওয়্যার বানাবার প্রতি বেশ ঝোঁক তৈরি হয়েছে।কিন্তু এটা তো সহজ ব্যাপার না।ইচ্ছে হলেই বানিয়ে ফেলা যায়না।যদিও সফটওয়্যার নিয়ে পড়েছি। কিন্তু ওটা ওই ক্লাস পর্যন্তই।ক্রিকেটকে যেদিন ভালোবেসে ফেললাম সেদিন থেকেই ক্রিকেটের আশেপাশে থাকার চেষ্টা। ক্রিকেটার হওয়া তো সম্ভব হলোনা তাই ক্রিকেট সাংবাদিকই হলাম।অতীতের অভিজ্ঞতা আর টুকটাক বই পড়ে সাহসটা বেড়ে গেল। সাহস থাকলে আর দমায় কে? এভাবে চলতে থাকলো ।দিন ফুরায় সফটওয়্যার তৈরির নেশা আরো গাঢ় হতে থাকে।

বিশ্বকাপ একদমই নিকটে।আমাদের সংখ্যাও বেরিয়ে গেছে।বেশ ভালো বিক্রিও হয়েছে।কিন্তু সফটওয়্যার প্রকল্প আর এগোয় না। মাথার ভেতর আইডিয়া জমতে জমতে এটা প্রকল্পের রূপ নিয়েছে। প্রকল্প তো বাস্তবায়ন করতেই হবে।নইলে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবো কি করে। প্রতিরাতে ঘুম হয়না। শুধু চিন্তা।একরাতে কম্পিউটারের সামনে বসেছি এই সংকল্প নিয়ে যে না বানিয়ে উঠবোই না। টানা দুইদিন কাজ করে কিছু একটা বানিয়ে ফেললাম।এটা এমন একটা সফটওয়্যার যাতে কে কখন কবে কোথায় কিভাবে কি করেছে এসব প্রাথমিক তথ্য দিলেই দারুণ দারুণ ফিচার তৈরি হয়ে যায়।ব্যাপারটি আরো স্ট্যান্ডার্ড করতে আরো দুইদিন কাজ করলাম।এরপর নিজে বিশ্বকাপের একটি ফিচার তৈরি করলাম ।ওই সফটওয়্যারের কোন প্রকার সাহায্য নিলাম না।পত্রিকায় ছাপা হবার পর ফিডব্যাক বেশ ভালো ছিলো। এবার পরের ম্যাচেগুলোর কিছু ফিচার সফটওয়্যার দিয়ে তৈরি করলাম। আমাকে কিছুই করতে হলোনা।শুধু প্রাথমিক তথ্যগুলো দিলাম।তথ্যগুলো সাজানো ছিলো এভাবে,স্টেডিয়াম মেলবোর্ন,জিতেছে অষ্ট্রেলিয়া চার উইকেটে,পরাজিত দল ওয়েষ্ট ইন্ডিজ,সেরা রান ম্যাথু হেইডেন ১১০ ।আর স্কোর্ডকার্ড দিয়ে দিলাম।রেডি মিক্স ফিচার হয়ে গেল।পত্রিকায় ছাপালাম।ফিডব্যাক মোটুমোটি।কিন্তু দিনের পর দিন এটি নামতে লাগলো।আবার সফটওয়্যার বাদ দিয়ে নিজে লিখলাম।এবার ফিডব্যাক ভালো।চিন্তা করলাম সফটওয়্যারটিকে আরেকটু আপগ্রেড করতে হবে।কিছু কাজ করে আরেকটু স্ট্যান্ডার্ড করলাম। এবার ম্যাচের ভিডিও আপ করে দিলেই সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয় ফিচার তৈরি করবে।

বিশ্বকাপের ২য় সপ্তাহ।ভিডিও আপ করে দেই ফিচার হয়ে যায়। পত্রিকায় ছেপে দেই।এই ফিচারের নাম দিলাম ডিজিটাল ফিচার।কোন প্রকার স্পর্শ ছাড়াই তৈরিকৃত। এভাবে আরো কিছুদিন গেলে পাঠক মতামত তেমন পাইনা।ব্যাপারকি ভাবতেই ফিচারগুলো পড়লাম।দেখলাম সব প্রায় একই ধরণের।বৈচিত্রতা নেই।সেদিন থেকেই বাদ দিলাম ওই সফটওয়্যার ।খুব দেখার ইচ্ছে ছিলো সফটওয়্যার কি মানুষের থেকেও ভালো লিখতে পারে ?আর ভার্চুয়াল এই ব্যাপারটি কি আসলেই ভালো । এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে আবারো শিখলাম মানুষ ভালোবাসা দিয়ে লিখে আর সেই ভালোবাসতে পারার ক্ষমতা যন্ত্রের নেই।

সফটওয়্যারটি কম্পিউটার থেকে মুছতে গিয়ে ফোনের রিংটোন কানে এলো ।উফ ঘুমটা ভেঙে গেল।অফিস থেকে ফোন করেছে ।জলদি যেতে হবে। বিছানায় বসে ভাবলাম আহ কি অপরূপ স্বপ্নই না দেখছিলাম।বাস্তবে এমনটি হলে কেমন হতো ?

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪১
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবীপ্রসাদ যাত্রা

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২১


আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। চট্টগ্রামের মোমিন রোডের রুচিশীল বই বিপণি কথাকলির বুকশেলফে চোখ বুলাচ্ছিলাম । হঠাৎ একখানি বইয়ের ওপর এসে থমকে গেল আমার চোখ । "ক্ষুদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×