somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মা ২০ টা টাকা দাওনা একটা বই কিনব

০৮ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্লাস ফোরে পড়ি তখন- কয়েকজন বড় ভাই পুরাতন পেপার দেখার জন্য পাবলিক লাইব্রেরিতে যাচ্ছেন- কি মনে করে আমিও সাথে গেলাম- সবাই পেপর দেখছে আমি ওই দিনের ইত্যেফাক এর ৩য় পাতায় দেখলাম টারজান- পরেরদিন আবার গেলাম কাহিণীর পরবর্তী অংশের আকর্ষনে-

সপ্তাহখানেকের মধ্যে আবিস্কার করলাম ছোটদের বইয়ের ভান্ডার- ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৬ সন পর্যন্ত পাবলিক লাইব্রেরি কয়েকবার স্থান পরিবর্তন করেছে- কিন্তু আমি একজন নিয়মিত পাঠক ছিলাম- বিনা পয়সায় এত বই আর কোথায় পাব- সুয়্যান চুয়াং (ইউয়েন সাং) এর এ্যাডভেঞ্চারের অনেক গুলো বই ছিল বাংলায় (কমিক)। আমি এখনও ওই কমিকগুলো খুঁজি কেনার জন্য। কিংবা বিজ্ঞানীদের জীবনি- যেগুলো পড়ে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম।:(( কিংবা পদার্থবিজ্ঞানের বইগুলো- যেগুলো থেকে শেষে ইলেকট্রনিক্স আর তার সূত্রে বুলিয়ান এ্যালজেব্রার বিষয়ে উৎসাহ- শেষ পর্যন্ত যেটা আমাকে কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহী করেছে-

পুরাতন বই ভাড়া নেয়ার ব্যাস্থা না থাকলে আমার যে কি অবস্থা হত! পাবলিক লাইব্রেরিতে ছাড়া স্কুল কলেজে পড়া বেশিরভাগ বই ছিল সেবা'র।ভাড়া নিয়ে পড়তাম। ৩ টাকায় অন্য কোন বই তো আর পাওয়া যেত না! তিন গোয়েন্দা আর কিশোর ক্লাসিক তারপর মাসুদ রানা। সেবা'র অনুবাদের তো তুলনাই হয়না। আর ছিল বিশ্বসাহিত্বকেন্দ্রের বই- সপ্তাহে একট বই নেয়া যেত-

কিন্তু যখন সেবা থেকে নতুন তিন গোয়েন্দা বেরুত তখন পড়তাম বিপদে- একট বই ২৪ টাকা দাম- আমি একমাসে এর অর্ধেকও জমাতে পারতাম না- আর নতুন বই ভাড়াও পাওয়া যেত না। তার উপর আবার যোগ হয়েছিল 'কিশোর পত্রিকা' - মাসে আরও ১০ টাকার ধাক্কা। ৬ মাসে একবার স্কুল থেকে ১৮০ টাকা পেতাম- সেটা্‌ ওই দিনই শেষ হয়ে যেত-

শেষ পর্যন্ত উপায় বের করলাম ভাগে নতুন বই কেনা হবে- তারপর শেয়ার করে পড়া- যদিও পরে একটু পরিবর্তন হয়েছিল- কেউ একজন কিনত বাকি সবাই পড়তাম- আমি-রানা- রুবু-লাবনী-রাজিব-সেতু-

শার্লক হোমস এর সমগ্রটা কে কিনবে সেটা নিয়ে মুশকিল হল- ১৩৮ টাকা দিয়ে রাজিব কিনল- লটারিতে প্রথম আমি পড়ার সুযোগ পেলাম এবং শেষ পর্যন্ত আমি বইটা মেরে দিলাম- :P- ফলে আর কেউ পড়তে পারে নি- আমার স্কুল জীবনের বন্ধুদের মধ্যে বইই ছিল সেতুবন্ধন- কি কারণে যেন ক্লাসের বই আমরা কেউই দুচোখে দেখতে পারতাম না- অথচ সেই একই বিষয়ে স্বেচ্ছায় পড়তাম পাবলিক লাইব্রেরিতে বসে- আমার কেন যেন মনে হয় ক্লাসের বইগুলোকে ভুল ভাবে উপস্থাপন করা হয় ছাত্রদের সামনে-

বন্ধুদের মধ্যে লাবণী ছিল বই কেনার ব্যাপারে সবচে কৃপণ- নিজে কোন বই তেমন কিনত না- আমাদের থেকে নিয়ে পড়ত- আর নিজের টাকা খরচ করত কসমেটিকস্ কেনার জন্য-X((

এখন কেন যেন স্কুলে পড়া ছেলে মেয়েরা বই পড়তে চায় না। আমার ছোট ভাইকে আমি প্রতি মাসে বই কিনে দেই- আগে নিজে থেকে পড়ত না- এখন আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে নতুন বইয়ের জন্য।

অবসরে- ভ্রমণে একটা ব্ই থাকলে আর কিছু কি দরকার? বই পড়ার আনন্দের সাথে আর কোন কিছুর কি তুলনা হতে পারে?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:১৫
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৮৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৫



ইদের আগে মেহেদি দেওয়া যেন খুবই গুরুত্বপূর্ন কাজ মেয়েদের!
মেয়েরা লম্বা লাইন ধরে মেহেদি দিতে যায়। সব মার্কেটের সামনে ছোট টেবিলে বসে মেয়েরা মেহেদি দিচ্ছে। গত বছর আমার দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক !

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২



আজ সকালটা খুব সুন্দর ছিলো! একদম ঈদের দিনের মতো! বারান্দার কাছে গেলাম। আমাদের বাসার পাশেই লালমাটিয়া গার্লস স্কুলের মাঠ। স্কুলের মাঠে একটা বটগাছ আছে। মাঠ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক! ঈদ মোবারক!! ড: এম এ আলী ভাইয়ের লিরিকে আমার ঈদের গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৭

আমার জন্য ঘটনাটা একটু বিব্রতকর হয়ে গেছে। শায়মা আপুর এসো ঈদের গল্প লিখি ...... পড়ি পোস্টে আলী ভাইয়ের কমেন্ট (১০ নম্বর) পড়তে পড়তে নীচে নামতে নামতে নিজের নাম দেখে হুট... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা




সামুর সকল সদস্যর প্রতি থাকল ঈদ মোবারক ! খুশীর আনন্দ বয়ে আনুক সারাদিন !!!

আমরা সবাই রীতি অনুসারে পারস্পরিক শুভেচ্ছা জানাই এই দিনে ।
ইসলামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×