somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্রদ্ধাজ্ঞলী

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ৮:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



টুনুর বয়স সেদিন ৩ মাস পূর্ণ হলো। আর আমার মার্তৃত্বকালীন ছুটির ৯০ দিন অতিক্রম করলাম। পরদিন প্রথম মা হিসাবে কর্মস্থলে যাবো। এতটাই এক্সাইটেড ছিলাম যে সারা রাত ঘুমাতে পারিনি।
রাতেই অফিসের ব্যাগ গুছিয়ে রাখলাম। সকাল ৭ টায় গৃহ পরিচারিকা কল্পনার কোলে রেখে টুনুর দুগালে চুমু দিয়ে রওনা হলাম অফিসের পথে। সারাটা পথ টুনুর মুখটা ভাবতে ভাবতে অফিসে গেলাম। সাথে ছিল মিষ্টির প্যাকেট।
অফিসে পৌছানোর পর রুমে ডাক পড়লো ততকালীন প্রশাসনিক পরিচালক জনাব বিটু ডি’ কস্তার। বস নয় পিতা। পিতার আসনে বসে আশীর্বাদ করলেন, আমার টুনু পাখীকে আর আমাকে।
সংগে এও জানালেন, ”তোমাকে প্রজেক্টে বদলী করা হবে।” শুনে তো আমার মাথায় বাজ। প্রজেক্টে চাকুরী মানে ট্যুর করা। আমি প্রশাসনে অফিস বেজড চাকরি করছি।
৮.৩০টা -৪.৪৫টা অফিস। এক কথায় চাকরী টা খুব এনজয় করছি আর তার উপরে উপরি পাওনা বিটু স্যারের মতো বস।
আমার টুনুর মুখটা মনে হলো। সাথে সাথে উত্তর,” আমি চাকরী ছেড়ে দেবো”, স্যার বললেন, “ মেয়েরা তো ট্যুর করছে, তোমার সমস্যাটা কোথায়?” আমি বল্লাম, “আমার বাচ্চা ছোট, আমার পরিবারে তাকে দেখার মতো কেউ নেই, আমি যাবো না।” ”কি করবা?” আমি উত্তর দিলাম,: “আমার শ্বশুর বাড়ী মাগুড়ায়, আমি সেখানে চলে যাবো।” স্যার বললেন,”আমি জানি তোমার স্বামী এডভোকেট। এদিক থেকে তোমার মাথার উপরে ছাতাটা অনেক শক্ত। কিন্তু এ পেশাতে ভাগ্যদেবী কারো উপর ২০ দিনে প্রসন্ন হয়, কারো উপর ২০ বছরে প্রসন্ন্ হয়। তুমি এ ভুলটা করো না, চাকরী ছেড়ো না, তুমি না চাওয়া পর্যন্ত তোমাকে আর বদলী করা হবে না।’ পরবর্তীতে উনি নির্বাহী পরিচালক হন। উনি চাকরীতে থাকা কালীন আমাকে আর বদলী করা হয় নি।
চাকরীতে থাকা কালীন প্রতিমুহূর্তে তার কাছে কাজ শিখেছি। কাজে ভুল করলে সে ভুলটা নিজে স্বীকার করে নিয়ে কি ভাবে অধস্তন কর্মচারীকে বাঁচাতে হয় তাও জেনেছি তার কাছ থেকেই।
কাজে ভুল করলে ভয় লাগতো না। আনন্দ পেতাম এই ভেবে যে , এবার স্যারের বকা খাবো। কি সুন্দর সে বকা, কি তার মাধুর্য। একবার মনে পড়ে, ফিলিপ মন্ডর নামে একজন কর্মী ছিল( পরে সে আশাসুনি গ্রামের বাড়ীতে বড়দিনের ছুটি উপভোগ করার সময়ে আতাতায়ির হাতে খুন হয়) কি একটা কাজ ভুল করেছে, ডাক পড়েছে স্যারের রুমে।
আমরা বাইরে। সকলের রুদ্ধ শ্বাস অবস্থা, কি আছে ফিলিপের কপালে। পরে দেখি ফিলিপ হাসতে হাসতে বেড়িয়ে আসছে।
এসে বলে, হেসে হেসে স্যার বললেন.” আমাকে ৩ তলা থেকে ফেলে দেবেন,” ’আচ্ছা দিদি বলেন, স্যার আামাকে তুলতে পারবেন? যে ৩ তলা থেকে ফেলে দেবেন।’ এই হলো স্যারের বকা দেবার নমুনা।
পিতার মতো ছাতা ধরে তিনি সকল মেয়েদের তার মেয়ের মতো চোখে দেখেছেন।
আমি যখন ২ মেয়েকে দার্জিলিং রেখে এলাম, আমার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে একদিন কাছে ডাকলেন। পরম যত্নে মেয়েদের খোঁজ নিলেন্, উকিল সাহেবের খোজঁ নিলেন। জানতে চাইলেন বাসায় আমরা ২ জন কি?
শুনে বললেন, মঞ্জু, আল্টিমেটলি এটাই আমাদের সকলের ভবিষ্যত। তবে তোমারটা খুব আগে শুরু হয়ে গেছে।তিনি আমাকে এতটুকু খারাপ বললেন না। আরও উতসাহ দিলেন।
অথচ তখন অফিসে সমালোচনার ঝড় বইছে যে, আমি হলাম নিষ্ঠুর মা।
তিনি ছিলেন একাধারে সংস্থার প্রধান, কর্তব্য পরায়ন স্বামী আর স্নেহশীল পিতা। আজ এই দু:খের দিনে সবিতা বৌদি তুমি সাহস ধরো, আগলে রাখো ঝিনা, বীনা শম্পা আর নিপাকে। ঈশ্বর এই শোক থেকে তোমাদের পরিত্রাণ করুন। আর স্যার যেন চির শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকেন।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×