দশ
একটি অজ পাড়াগায়ের কথা বলছি। যদিও সেটি এখন অজ পাড়াগা নেই। তবুও শহর বা উপশহর নয়। সেটি গ্রাম।
সেই গ্রামের আমাদের পূর্ব জেনারেশনরা নিকটবর্তী শহরে আসতো স্কুলে সাথে করে লুঙ্গি আর গামছা নিয়ে (পথে তাদের ১৪টা খাল পার হয়ে স্কুলে আসতে হতো।)
সেই গ্রামের কৃষকরা এখনও পিড়ি বা আসনে বসে ভাত খায় না। এখনও তারা উচু হয়ে বসে ভাত খায়। সেখানকারকার একটা প্রাইমারী স্কুলে তাদের ছেলেমেযেরা পড়ে।
সেই ছেলেমেয়েদের স্কুল ড্রেস আছে। তারা হট ক্যারিয়ারে করে টিফিন নিয়ে যায়। টিফিনে আবার ভাত হলে হবে না। নুডুলস রুটি ডিম ভাজা দিতে হবে। সেখানকার ক্লাশ টু এর বাচ্চারা ম্যাক্স স্কুল ব্যাগে বই নিয়ে যায়। যার মুল্য প্রায় ১২০০ টাকা।
অথচ আমরা প্রাইমারি স্কুলে পড়েছি, মায়ের টিসু শাড়ী কাটা একটা জামা পড়ে বছর পার করেছি। টিফিন মানে জানতাম খেলার সময়। খাবার সময় জানতাম না।
ঐ স্কুলের বাচ্চাদের (৩য় মশ্রেণীতে পড়ে)গাইড বই কিনতে বাধ্য করা হয়। ঐ সব স্কুলের শিক্ষকরা এখনও এসএসসি পাশ। আমরা কলেজ পর্যন্ত স্কুল ব্যাগ জানতাম না।
ঐ স্কুলের ছাত্রীরা ফেস ওয়াশ ব্যবহার করে। তেমনি ৩য় শ্রেণীতে পড়া একজন ছাত্রী তার বাবাকে বলে(বাবা শহরে চাকুরী করে)”বাবা বাড়ী আসার সময় আমার জন্য একটা ফেস ওয়াশ আনবা”।
এখন প্রশ্ন, ওদের শিক্ষার গুণগতমান কি সেই খাল পেরিয়ে স্কুল করা আর টিসু শাড়ী কাটা জামা অতিক্রম করে ফেস ওয়াশ পর্যন্ত পৌছে গেছে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


