somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের ছেলেমেয়ে এবং আমরা

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





পনের(চোখ দুটো ছানাবড়া)

মায়েরা এক জায়গায় জড়ো হলেই তাদের ছেলে মেয়ের গল্প করতেই পছন্দ করে। বিষয়বম্তু থাকে ওপেন। ছেলে মেয়ে সংক্রান্ত সব গল্পই চলে। তবে লক্ষ করলে দেখা যায় গল্পের বড় একটা অংশ জুড়ে থাকে খাওয়ার গল্প। তারা কি খেতে পছন্দ করে আর কি করে না এই সব।

এর সংগে আর একটি বিষয় থাকে যে তাদের ছেলে মেয়েরা কেউ নিজে হাতে খেতে পারে না। সবাইকে ই মায়েদের খাইয়ে দিতে হয়। এর মধ্যে ছোট থেকে মেডিকেলে পড়া ছেলে মেয়েও আছে।

এর মধ্যে দিয়ে মায়েরো কি প্রমাণ করতে চায় আমি বুঝি না। তাদের ছেলে মেয়ে এখনও শিশু আছে? না তারা মাকে খুব ভালো বাসে নাকি তারা লুলা বা খোঁড়া?

প্রসংগক্রমে কিছু ঘটনার উল্লেখ করি। আমার ছোট মেয়ে যখন আমার গর্ভে তখন টুনটুনের বয়স ৩ বছর। ডা: সুরাইয়া চৌধুরীর কাছে আমি নিয়মিত চেক আপ করাতাম। একদিন চেক আপ শেষে গল্প করছেন। বলছেন,’ চাকরী সংসার এক সংগে এই সময় বড় কষ্ট লাগে তাই না?”

আমি বল্লাম,” তা লাগে, তবে আমার বড় মেয়েটি খুব ভালো। ও সব নিজের কাজ নিজে হাতে করে। আমাকে ওর খাইয়ে দিতেও হয় না।” এই বার ডা: বললেন, ”এর জন্য আমি তো মেয়েকে ভালো বলিনা্। মেয়ের মাকে ভালো বলি। আপনি শিখিয়েছেন তাই ও খায়।”

টুনটুনকে হোষ্টেলে দেবার পর ২০০২ সালে মুন্সী গজ্ঞে এক বিয়ে তে গেছি আমার ছোট মেয়েকে নিয়ে। তখন ওর বয়স ৩ বছর।
বিয়ে বাড়ীতে অতিথি মায়েরা সব এক ঘরে বসে গল্প করছি। এমন সময় খাবারের ডাক এলো। আগে বাচ্চাদের খাওয়া। মায়েরা সব হুমড়ী খেয়ে পড়তে পড়তে বাচ্ছাদের খাওয়াতে বসে গেল।

আমি একা পড়ে রইলাম। একটা সানন্দা তুলে পড়তে যাচ্ছি। কনে বোনটির বড় দাদা আমাকে বললেন, দিদি আপনি গেলেন না?” কোথায় যাবো?”
”মেয়েকে খাওয়াতে।” “আমার যাওয়া লাগবে না। যেয়ে দেখুন আমার মেয়েটি সবার আগে বসে নিজে হাতে খাচ্ছে।”

দাদা বললেন, ”আজকের দিনে আপনি সবচেয়ে সুখী মা।’



২০০৫ সালে আমরা স পরিবারে নেপাল ভ্রমন করি। পোখরা হতে কাঠমন্ডু ফিরে আসছি। পথে একটা রেস্টুরেন্টে সাময়িক বিশ্রাম। হালকা কিছু খেয়ে নিয়ে বসে আমি আর রীতা বৌদি কফি খাচ্ছি। টুনটুন ,মিষ্টি, নিকিতা, রাজা, মিলন সব পাশের পাথর ভরা নদীতে নেমে গেছেছ্। আর দূরে দাড়িয়ে অশোক, সুদেব দা আর মৃণাল বাবু তা উপভোগ করছে।

আমার চোখ চলে গেল এক বিদেশীনি মায়ের দিকে।
সে একটা টেবিলে বসে সফর সংগীদের সংগে কথা বলছে।।আর পাশেই ছোট্ট একটা ছেলে বাচ্চা একা একা চামচে করে ভাত তুলছে মুখে। আমি তাকিয়ে থাকলাম। বাচ্চাটার গলাতে একটা বেল্টের সাথে ছোট একটা ট্রে ঝুলানো আর হাতে একটা বড় হাতল ওয়ালা ফাইবারের চামচ। বাচ্চাটি আপন মনে ট্রে থেকে ভাত নিয়ে মুখে তুলছে। কখনও মুখের পাশে চামচ চলে যাচ্ছে।

আমি মায়ের সংগে কথা বলার লোভ সামলাতে পারলাম না। উঠে গিয়ে মায়ের পাশের চেয়ারটিতে বসলাম। সংগীরা তার ততক্ষণে চা কফি খেতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে।

জানতে পারলাম মহিলা কানাডিয়ান। প্রতি বছর বেড়াতে বের হন। এই বাচ্চাটি যখন আরো ছোট ছিল, তখনও সে একবার নেপাল ঘুরে গেছে। বাচ্চাটির বয়স ১৬ মাস। এই বয়সে তাকে একা ভাওয়ার অভ্যাস করানো হচ্ছে।

এবার মহিলা আমার সম্পর্কে জানতে চাইলো। বললো.” তোমরা কি কর বাচ্চাদের?” “ আমাদের মায়েরা বাচ্চাদের খাইয়ে দেয়।” এ কথাটি সে আর বুঝতে পারে না। শেষে বল্লাম,”মায়েরা বাচ্চাদের গলার ভিতরে খাবার পুষ করে।’

শুনে তো মহিলার চোখ দুটো ছানা বড়া।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:০১
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ আগস্ট-পরবর্তী ৩ দিনের বাংলাদেশ-

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯



৫ আগস্ট-পরবর্তী ৩ দিনের বাংলাদেশ-

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশ জুড়ে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তার ক্ষয়ক্ষতি ছিল ব্যাপক ও বহুমাত্রিক। সংবাদমাধ্যম ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×