somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুশিক্ষিত কারা!

২১ শে মে, ২০০৭ ভোর ৫:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুব ছোটবেলায় একজন টিচার ক্লাসের সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, "সুশিক্ষিত সেই যে স্বশিক্ষিত". শব্দ গুলো ছোট্ট মাথায় প্রবেশ করেছিলো, অর্থ বুঝিনি. অনেকবার এই কথাগুলোর অর্থ খুঁজেছি, পাইনি. সময়ের সাথে সাথে পারিপার্শ্বিক কিছু ঘটনা দেখে, অদ্ভুত সব আচরন দেখে মনে হয় বুঝতে পারছি এই কথাগুলোর মানে.

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমাদের শিক্ষিত করে তুলে জীবিকার জন্য, পেশা গত ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠার জন্য. মানুষ হিসেবে জিবনের জন্য শিক্ষিত করে তুলেন মা, বাবা আর পরিবার. এক জন মানুষের মুল্যবোধ, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা আর শালীনতাবোধের শিক্ষা কোন প্রতিষ্ঠান দিতে পারেনা. সেই কারনেই দেখা যায় বিদ্যাপিঠের র্সবোচ্চ শিখর পার করে, নাম করা প্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি আর এমফিল করে কেউ কেউ পশুর মতো, মূর্খের মতো আচরন করছে, আবার অক্ষর জ্ঞ্যনহীন এক জন মানুষ এক জন scholar চেয়েও বেশী শালিন আর মার্জিত.

বাসায় সাহায্য করতে আসা কিছু ছেলে মেয়েরা যখন তাদের গ্রাম থেকে ছুটি কাটিয়ে ফিরতো, দেখেছি সেই দরিদ্র সন্তানদের মা বাবা ছেলে মেয়ের হাতে কখনো গাছের ফল, কখন ও গাছের সব্জি পাঠিয়েছেন উপহার হিসেবে, তাদের এই শিষ্ঠাচারে মুগ্ধ হয়েছি! এক বার এক স্বামি পরিত্যাক্তা মহিলা ওনার ছোট মেয়েকে নিয়ে কাজ করতে এসেছেন, আমাদের সাথে তাদের প্রথম ঈদে, আর সবার মতো ছোট্ট মেয়েটি ঈদের উপহার পেয়েছে, আনন্দে বাচ্চা মেয়েটি উচ্ছসিত! সবাইকে অবাক করে দিয়ে বুয়া তার মেয়েটিকে বললেন "আপুকে Thank you বলো"!

বিশ্ববিদ্যালয় এর কোন কোন ছাত্র অস্ত্রহাতে বিকারহীন ভাবে আক্রমন করছে এক জন আরেকজনকে, র্গব ভরে পাশবিক নির্যাতনের century'র বিকৃত উৎসব পালন করছে , মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করে কেউ পরিচিত হচ্ছে কসাই নামে, বুয়েট থেকে পাশ করে হচ্ছে নাম করা ঘুষখোর আর অশ্লীল ভাষার দুর্গন্ধ দিয়ে কলুষিত করছে পরিবেশ. ধর্মের নামে অন্যয় ভাবে আক্রমন করছে এক জন আরেক জনকে! যদিও সংখ্যায় এরা খুব কম, তার পর ও নিজেদের প্রতিষ্ঠানের জন্য এরা নিজেরাই এক একটি নোংরা গালি.


খুব কড়া নিয়মশৃংখলা র জন্য পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানে যখন পড়তে গিয়েছিলাম, প্রথম দিন এক জন টিচার সবাইকে বলেছিলেন " মনে রেখো, তোমরা সবাই তোমাদের পরিবারের প্রতিনিধি. তোমরা যেভাবে কথা বলবে, আচরণ করবে তা দিয়েই আমরা বুঝবো তোমাদের মা বাবা, তোমাদের পরিবার কেমন এবং তাঁরা তোমাদের কি শিখিয়েছেন." পড়াশুনা কতটুকু মনে রাখতে পেরেছি জানিনা তবে কোন এক বিচিত্র কারনে যাবতীয় উপদেশ গুলো(অনুসরন করি আর না করি) আমার মনের মধ্য গেথে আছে!


ইদানিং চারিদিকে যখন এতো অসামন্জস্য দেখি, জিহাদের নামে মানুষ করছে সব চেয়ে বড় ইসলাম বিরধী কাজ, হত্যা করছে নিরীহ মানুষকে, সন্ত্রাস দমনের নামে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী নামছে যুদ্ধে, দেশ প্রমের ডংকা পিটিয়ে দুনিয়ার মানুষের কাছে সন্ত্রাসী নামে পরিচিত করছে নিজের দেশকে. দেশ প্রেমের নামে করছে সব চেয়ে বড় দেশদ্রোহী কাজ, Harvard, Princeton, Yale থেকে পাশ করে আচরন করছে মূর্খের মতো, তখন বুঝতে পারি "সুশিক্ষিত মানে স্বশিক্ষিত" কথাগুলোর অর্থ.







সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৩১
২৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মাহাথিরনোমিক্স'- মালয়েশিয়াকে যেভাবে নিজ পায়ে দাঁড় করালো (পর্ব - ১)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭



আমাদের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া গেলেন। এটা খুব ভালো এক মুভ ছিলো। সারা বিশ্বকে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু, সারা বিশ্বে মালয়েশিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অগ্রনায়ক মাহাথির মোহাম্মদের সাথে তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×