খুব ছোটবেলায় একজন টিচার ক্লাসের সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, "সুশিক্ষিত সেই যে স্বশিক্ষিত". শব্দ গুলো ছোট্ট মাথায় প্রবেশ করেছিলো, অর্থ বুঝিনি. অনেকবার এই কথাগুলোর অর্থ খুঁজেছি, পাইনি. সময়ের সাথে সাথে পারিপার্শ্বিক কিছু ঘটনা দেখে, অদ্ভুত সব আচরন দেখে মনে হয় বুঝতে পারছি এই কথাগুলোর মানে.
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমাদের শিক্ষিত করে তুলে জীবিকার জন্য, পেশা গত ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠার জন্য. মানুষ হিসেবে জিবনের জন্য শিক্ষিত করে তুলেন মা, বাবা আর পরিবার. এক জন মানুষের মুল্যবোধ, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা আর শালীনতাবোধের শিক্ষা কোন প্রতিষ্ঠান দিতে পারেনা. সেই কারনেই দেখা যায় বিদ্যাপিঠের র্সবোচ্চ শিখর পার করে, নাম করা প্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি আর এমফিল করে কেউ কেউ পশুর মতো, মূর্খের মতো আচরন করছে, আবার অক্ষর জ্ঞ্যনহীন এক জন মানুষ এক জন scholar চেয়েও বেশী শালিন আর মার্জিত.
বাসায় সাহায্য করতে আসা কিছু ছেলে মেয়েরা যখন তাদের গ্রাম থেকে ছুটি কাটিয়ে ফিরতো, দেখেছি সেই দরিদ্র সন্তানদের মা বাবা ছেলে মেয়ের হাতে কখনো গাছের ফল, কখন ও গাছের সব্জি পাঠিয়েছেন উপহার হিসেবে, তাদের এই শিষ্ঠাচারে মুগ্ধ হয়েছি! এক বার এক স্বামি পরিত্যাক্তা মহিলা ওনার ছোট মেয়েকে নিয়ে কাজ করতে এসেছেন, আমাদের সাথে তাদের প্রথম ঈদে, আর সবার মতো ছোট্ট মেয়েটি ঈদের উপহার পেয়েছে, আনন্দে বাচ্চা মেয়েটি উচ্ছসিত! সবাইকে অবাক করে দিয়ে বুয়া তার মেয়েটিকে বললেন "আপুকে Thank you বলো"!
বিশ্ববিদ্যালয় এর কোন কোন ছাত্র অস্ত্রহাতে বিকারহীন ভাবে আক্রমন করছে এক জন আরেকজনকে, র্গব ভরে পাশবিক নির্যাতনের century'র বিকৃত উৎসব পালন করছে , মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করে কেউ পরিচিত হচ্ছে কসাই নামে, বুয়েট থেকে পাশ করে হচ্ছে নাম করা ঘুষখোর আর অশ্লীল ভাষার দুর্গন্ধ দিয়ে কলুষিত করছে পরিবেশ. ধর্মের নামে অন্যয় ভাবে আক্রমন করছে এক জন আরেক জনকে! যদিও সংখ্যায় এরা খুব কম, তার পর ও নিজেদের প্রতিষ্ঠানের জন্য এরা নিজেরাই এক একটি নোংরা গালি.
খুব কড়া নিয়মশৃংখলা র জন্য পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানে যখন পড়তে গিয়েছিলাম, প্রথম দিন এক জন টিচার সবাইকে বলেছিলেন " মনে রেখো, তোমরা সবাই তোমাদের পরিবারের প্রতিনিধি. তোমরা যেভাবে কথা বলবে, আচরণ করবে তা দিয়েই আমরা বুঝবো তোমাদের মা বাবা, তোমাদের পরিবার কেমন এবং তাঁরা তোমাদের কি শিখিয়েছেন." পড়াশুনা কতটুকু মনে রাখতে পেরেছি জানিনা তবে কোন এক বিচিত্র কারনে যাবতীয় উপদেশ গুলো(অনুসরন করি আর না করি) আমার মনের মধ্য গেথে আছে!
ইদানিং চারিদিকে যখন এতো অসামন্জস্য দেখি, জিহাদের নামে মানুষ করছে সব চেয়ে বড় ইসলাম বিরধী কাজ, হত্যা করছে নিরীহ মানুষকে, সন্ত্রাস দমনের নামে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী নামছে যুদ্ধে, দেশ প্রমের ডংকা পিটিয়ে দুনিয়ার মানুষের কাছে সন্ত্রাসী নামে পরিচিত করছে নিজের দেশকে. দেশ প্রেমের নামে করছে সব চেয়ে বড় দেশদ্রোহী কাজ, Harvard, Princeton, Yale থেকে পাশ করে আচরন করছে মূর্খের মতো, তখন বুঝতে পারি "সুশিক্ষিত মানে স্বশিক্ষিত" কথাগুলোর অর্থ.
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




