somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রতিদান । মানুষ আজিজ (ছোট্ট গল্প )

১৯ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৮:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


-জিনি , এই জিনি ! পিনি, গিনি ! মিনি -চিনি ! ।
জিনিয়া ক্ষেপে বললোঃ ঠাকুরপৌ তুমি তো বড্ড বাড় বেড়েছো ! দুপুরে আমার শুকনো খঈয়ে জল ঢাললে আর এখন আমার নাম বেঙ্গ ধরে ডাকচ্ছো? আসুক আজ তোমার রাসু দাদা তার কাছেই নালিশ দিব , আমি তো পরের ঘরের মেয়ে দু'কথা বললে আবার রাষ্ট্র করে দেবে , তিলকে তাল বানিয়ে হই হই করবে ! তোমাকে এতে দিনে চিনেনিই বুঝেছো ??!
- বৌদি একটু রসিকতা করছিলাম যে ? সেটাও করবে পারবো না ?
জিনিয়াঃ এ তোমার কেমন রসিকতা শুনি? আমাকে কেন? ঘরের বউয়ের সাথে করো গিয়ে ! বিয়ে তো করেছো এক বিধবাকে সেতো আবার দশ ঘাঁয়ে রাও করবে না !
-এরই মধ্য আতুল এসে হাজির । মা মা কি হয়েছে , কাকু বুঝি আমার ঝগড়া করছে ?
জানিয়াঃ দেখনা বাবা তোর কাকু আমার শুকনো খঈয়ে জল ঢেলেছে, আর এখন পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করছে ।
আতুলঃ কাকাবাবু , তুমি অনেক জ্বালাচ্ছো আমাদের, বাবা-আমি যদি তোমাকে ধরি ছুটতে পারবে না কিন্তু ! জানতো প্রতিরাতে আমরা পাঠার মাংস খাই , ওতে শক্তি বাড়ে ।
আমিঃ সে কিরে রাতুল ! পাঠার মাংস তুই -তোর বাবাই শুধু খাস তোর মাকে দিস না ? ভালই হয়েছে এমনিতেই যা অবস্থা পাঠা খেলে তো---- ! আমার কথা শেষ হতে না হতেই আতুল একটা ইটের চাকা আমার দিগে ছুরে মারলো , চাকা এসে ঠিক আমার কপালে লালগো । ওমনি মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে গেলাম ! জিনিয়া তার ছেলের উপর ক্ষেপে বললো- আতুল এ কি করলি তুই ? নিজ কাকার মাথা ফাটালি ? আপন মানুষের রক্ত ঝড়ালি? আতুল ছোট মানুষ ও ভয়ে পেয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেল । বৌদি এসে দৌড়ে আমাকে ধরলো -কপাল টিপে ধরে আচঁল ছিড়ে ছিচেঁ যাওয়া অংশে চেপে ধরলো -আর বললোঃ এবার হলো না ঠাকুরপৌ ? কত বলেছি এখন ছেলে -মেয়ে বড়ো হয়েছে ওমন ভাবে মশকরা করো না ! তুমি আগের মতই থাকবে পরিবর্তন হবে না ? বৌদি যখন আমাকে নিয়ে ব্যস্ত , আমার স্ত্রী প্রনীতা বারান্দায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে তামাশা দেখছিল যেন ! বৌদি ওকে একদমক দিয়ে বললোঃ- তোর স্বামী মরলো আর তুই দাড়িয়ে রইছিস হারামজাদি ! একটা পার্টি -বালিশ নিয়ে আয় উঠনে শুইয়ে দিই । প্রনীতা পার্টি ,বালিশ দিয়ে বিদায় নিচ্ছিলো ,এমন সময় বৌদি বললোঃ প্রনীতা হাত পাখা দিয়ে বাতাশ কর ওকে । প্রনীতা বললো- তোমার দেবর তুমিই করো ! আমার রান্না চুলোয় পুড়ে যাবে যে । বৌদি বললোঃ হাত পাখাটা দিয়ে যা তাহলে । প্রনীতা হাত পাখা বৌদির হাতে দিয়ে বললোঃ বৌদি তুমিই বাদর বানালে একে, এ বয়সে কি ওকে মানায় ? এই মানুষটাকে যদি আগে থেকে শাসন করতে এমন হতো না । বৌদি বললোঃ কেন আমি কেন? । বিয়ে করেছিস সাংসার হয়েছে তোদের এখন আমাকে দৌড়ে আসতে হবে সব কাজে । প্রনীতা বললোঃ আসো কেন দৌড়ে, ওর অসুক হলে কেন বেশি উগ্ধিগ্ন হও ? কেন বাসায় ভালো কিছু রাধলে ওর জন্য নিয়ে আসো , ওকে তুমি বড়ো করেছো তোমাকেই করতে হবে সব । বৌদি বললোঃ হুম , এখন বুঝ ঝগড়ার কি জ্বালা, মশকরার কি জ্বালা ! এখন সবাই তো বড়ো হয়েছে না একটু সামলে নিতে হয় না ? বল ।
আমি আর কোন কথা বললাম না এর মধ্য , প্রচুর মাথা ধরলো । সন্ধ্যাও হয়ে এলো , দাদা এখনো বাড়ি ফিরেনি । বৌদিকে বললামঃ এ ঘটনা যেন দাদাকে না বলে । দাদা বললোঃ তাহলে তোকে আর রক্ত ঝড়তে হবে । আমি বললাম বৌদিকেঃ তুমিই তো ছেলেকে ক্ষেপিয়ে দিয়েছিলে । বৌদি আর কথা বললো না । রাত আটটা বাজে বৌদি এসে বললোঃ আতুল এখনো বাসায় ফিরেনি, হয়তো খুব ভয় পেয়েছে , একটু খুজে নিয়ে আয় না । তারপর আমি বের হলাম আতুলকে খুজতে , খুজঁতে খুজঁতে পরিত্যাক্ত ভাঙ্গা বাড়িতেই ওকে পেলাম , জোর করে ধরে নিয়ে এলাম ওকে -ও বার বার ক্ষমা চেয়ে বললো -কাকু বাবাকে বলো না । আমি হেসে বললাম - না বলবো না । পথ হেটেঁ বাড়ি আসার পথে বার বার স্মৃর্তিচারন হচ্ছিলো - এই পরিত্যাক্ত বাড়ি বৌদি আমি কত মেরে এসে এখানে বসে থাকতাম আর ভেতর ভেতর বৌদির জন্য কত মন কাদঁতো কেন মারলাম তাকে , তারই প্রতিদান দিচ্ছি এখন ।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৮:৩৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরীর ছোট গল্প "নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:১৩

নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি
মঞ্জুর চৌধুরী

নীরা কথাটা বিশ্বাস করতে পারছে না। তাঁর স্বামী আরমানের আরেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল? এই আরমান কিনা সবসময়ে আবৃত্তি করতো "এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ, আমি কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭



আমাদের সেই পুরনো ভিটেটার অস্তিত্ব  এখন আর নেই। তবে বুকের গহীনে ভিটেমাটির মায়াটুকু  ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। কত স্মৃতি, কত গান, কত গল্প-কোলাহল,  মান- অভিমান ! চাইলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×