somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এ.এস.এম.মনজু
আমি অতি সাধারণ একজন মানুষ। নতুন অ্যাকাউন্ট খুললাম শুধু নিজের জ্ঞান বাডানোর জন্য। আর যদি সময় পাই তাহলে নিজের মনের ভাব কিছুটা প্রকাশ করার চেষ্টা করবো। সবাই ভাল থাকবেন।

আমার নেপাল যাওয়ার তিক্ত মধুময় ভ্রমণ কাহিনী

১৭ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ৯:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভ্রমন আসলে এমনই একটি বিনোদন মাধ্যম যার সাথে কোন কিছুর ই তুলনা করা যায় না ! আর সেই ভ্রমণটা যদি নিজের মনের মতো হয় তাহলে তো আর কোন কথা ই থাকেনা । তো আমি এখন আমার একটা ভ্রমন কাহিনী নিয়ে একটু না অনেকটু লিখবো । যদিও ভ্রমণটি থেকে কবি-সাহিত্তিক বা বিজ্ঞ লোক গনের মতো বিশেষ কিছু শিখতে পারিনি বা উনাদের মতো করে বলতেও পারবোনা তারপরও কিছু কিছু মজার কথা শেয়ার করতে চাই । :)

আমার ভ্রমণটি হয়েছিল ২০১০ সালের মে'র ২৭ তারিখ । (৪ দিনের ভ্রমন)
''রয়্যাল সিমেন্ট'' এর পক্ষ থেকে ভ্রমণটির আয়োজন করা হয়েছিল ।
বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্ছল থেকে মোট ৯ জন ডিলার সিলেক্ট করা হয়েছিল তার মধ্যে আমার আব্বু ও ছিলেন একজন !
তো বাপ না গিয়ে তার ছেলেকে পাঠাতে চাইলেন । আমি প্রথমে যেতেই চাইনি । কারন যেহেতু সবাই ব্যবসায়ী তাই ওই লোকদের সাথে গিয়ে আমি কি করবো !! ?? X(
কারোর সাথেই ফ্রি হতে পারবোনা , অ্যাডজাস্ট করতে পারব না , আমি যাবনা ।X( এইভাবেই আমি আমার কথাগুলো আব্বু কে বলছিলাম ।
আব্বু বললেন, ''তুই একবার যা, ওখানে যাওয়ার পর দেখবি যে তোর মতো একজন হলেও আসবে , মানুষ কেউ কাউকে আগে থেকে চিনেনা , আস্তে আস্তে সবার সাথেই পরিচিত হওয়া লাগে । আর আমি তোর জন্য একজন কে গাইড করে দিচ্ছি , কাউকেই না পেলে তার সাথেই গল্প করবি ।''
থাক, আসল কথা বাদ দিয়ে আর কথা বেশি বাড়াব না । গল্প শুরু করা যাক......

যেদিন ফ্লাইট হবে মানে ২৭ তারিখ সকাল ৯.৩০ এর দিকে আমি হাজির হই এয়ারপোর্ট এ । আমিই সবার আগে চলে গিয়েছিলাম :P তারপর সবাই দেখি একটা মাইক্রো বাস এ আসলো । তারপর পরিচিত হতে গিয়ে দেখি দু'জন আমার কাছাকাছি বয়সী ! একজন আমার প্রায় সমান আরেকজন মাস্টার্স শেষ করেছেন । তারপর ও সমান বলবো কারন বাকিরা সবাই বয়স্ক । :D
যাই হোক আমরা গেইট এর ভিতরে ঢুকলাম তারপর আমি আস্তে আস্তে ভিতরটায় ভাল করে দেখতে লাগলাম কারন জীবনে কখনও ভিতরে যাইনি । তারপর কাস্টমস অফিসার এর কাছে গিয়ে পড়লাম বিপদে , আমাদের দু'জন কে ছোট দেখে অফিসার বেটা বলে যে এরাও কি বিজনেস ম্যান !!!

আমি কিছুই বলিনি কারন আমি জানি যে, যেহেতু ওরা ইচ্ছা করে ঝামেলা করছে তাই চুপ থাকাই ভাল কিন্তু ঝামেলা বাড়ালো ওই ছেলেটা, সে বললো যে সে বিজনেস ম্যান । কিন্তু তার পাসপোর্ট এ লিখা আছে স্টুডেন্ট ! তাই অফিসার সুযোগ পেয়ে বেঁকে বসলেন বললেন ''আপনারা বাকি ৭ জন যেতে পারেন এই দু'জন কে যেতে দেওয়া হবেনা । কারন এদের কথা সন্দেহজনক'' :D

আমি তখনও চুপ ! আর আমার গাইড তখন বললো ''এদের একজনের ভাই বিজনেস ম্যান আর অন্য জনের বাবা । তখন ওই বেটা বললো ''তাহলে ওই ছেলে বলল কেন যে সে বিজনেস ম্যান ??'' :D
তখন গাইড বলল ''ও আসলে ব্যাপারটা বুঝতে পারেনি''
কিন্তু, এইদিকে আমাদের ফ্লাইট এর দেরি হয়ে যাচ্ছিল !
তখন হঠাৎ করে লোকটা বলে উঠলো ''আপনারা আমাদের সেকেন্ড অফিসার এর সাথে দেখা করেন তবে এই দু'জন যেতে পারবেনা সেটা ১০০ ভাগ সিউর থাকেন ।
এই দিকে ভিতরে ভিতরে আমার কান্না আসছিল !:((
গাইড বললেন ''ওদের কে এখন আপাতত ভিতরে যেতে দিন যদি সেকেন্ড অফিসার না যেতে দেয় তাহলে ওরা থেকে যাবে , আমি কথা দিচ্ছি ।''
আমি ব্যাপারটা বুঝলাম । এইটা গাইডের একটা চালাকি ছিল ।
অবশেষে ভিতরে গেলাম এবং সেকেন্ড অফিসার এর রুম এর সামনে সবাই দাড়িয়ে আছি তখন গাইড ভিতরে গেলেন এবং প্রায় ২০ মিনিট দাড়িয়ে থাকার পর অফিসার তার সাথে কথা বললেন পরে অফিসার কে সব ঠাণ্ডা মাথায় বুঝানোর পর তিনি যাওয়ার অনুমুতি দিলেন ! এই কথা শুনে সবাই মহাখুশি কিন্তু কিছুক্ষন পর শুনলাম আমাদের এক এক জন কে নাকি ১০০ ডলার করে ফাইন দিতে হবে কেন দিতে হবে সেটা অবশেষে বুঝতে পারলাম না । এই কথা শুনে বাকিরা কানাঘুষা করতে লাগলো যে আমাদের কথার জন্যই নাকি তারাও আজকে বিপদে পড়লেন !!
আমি বললাম আপনারা চুপ থাকেন । ধৈর্য ধরেন, দেখেন কি হয় । পরে আরো ১০ মিনিট পর গাইড বলল যে কোন ফাইন দিতে হবেনা । সব ম্যানেজ করে ফেলেছেন । জিজ্ঞেস করলাম কিভাবে ! বললেন যে বস কে কল দিয়েছিলাম উনি কথা বলেছেন । যাক আমরা এখন মুক্ত ।

ফ্লাইট কাহিনী

পরে যখন কাউন্টার এ গেলাম আমাদের কে ''জিমজি এয়ারলাইন্স'' এর লোকজন বললো আপনারা এখনও যাননি ! প্লেন ছেড়ে দিচ্ছে ! আমরা হুলস্থুল করে এক্সিট গেট এর কাছে গেলাম কিন্তু একেকজন একেকটা গেইট দিয়ে বের হলাম । পরে এয়ারপোর্ট এর গাড়ি আমাদের কে বিমানের কাছে নিয়ে গেল । আমরা সুশৃঙ্খল ভাবে বিমানের গেইট দিয়ে ভিতরে ঢুকলাম । ঢুকার সময় বিমানবালার সালাম পেলাম । নিজেকে হঠাৎ একটু বড় বড় মনে হল :P তারপর ভিতরে গিয়ে দেখি, বিমান বেশি বড় না । বাহিরে থেকে বেশি বড় লাগছিল । যাই হোক আমি জানালার পাশে সিট নিলাম । কিছুক্ষন ওয়েট করার পর বিমান চলতে শুরু করল তারপর বিকট শব্দে আকাশে উড়ল । বাংলাদেশি বিমান তো তাই বিমান হাল্কা ঝাকুনি দিল , বিমানবালা গুলোও কৃত্রিম সৌন্দর্য্য মণ্ডিত ! ;)
যাই হোক অবশেষে মাত্র ১ ঘণ্টা উড্ডয়নের পর আমরা কাঠমুন্ডু বিমানবন্দর এ পৌঁছালাম।

১ম দিন

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আমরা একটা মাইক্রো বাসে করে নির্ধারিত হোটেল (হোটেল মানাসলু) এ আসলাম । আমাদেরকে রিসিপশন এ বসানো হল এবং মাল্টার জুস দেয়া হলো । তারপর আমাদেরকে ৩ টি বড় রুম দেয়া হলো । প্রত্যেক রুমে ৩ জন করে থাকতে পারবে । আমি একটু ভ্রু কুছকোলাম , মনে মনে ভাবলাম , কোম্পানি থেকে কি এসব বলা ছিল যে আমাদেরকে এরা কষ্ট করাবে ! যাইহোক, এখন কে কোন রুমে থাকবে এটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সবাই । বড়ভাই বললেন ''আমি সিগারেট খাই তাই এমন কেউ আমার সাথে থাকেন যাতে করে ধোঁয়ায় কোন সমস্যা না হয় ।'

সবাই যখন একজন আরেকজন কে বলছিল তখন আমি বললাম ''আমি , আমার সমবয়সী ওই ছেলে আর বড় ভাই থাকব ।'' (কারন আমার রুমমেট গুলো সবাই খায়, তাই ধোঁয়ার গন্ধ সয়ে গেছে) তখন সবাই বললো ঠিক আছে । তারপর আমরা রুমে যাবার পরে দেখি রুমটি অনেক বড় । ফ্রিজ, এসি, টিভি, বাথটাব সবই আছে । তারপর আমরা ফ্রেশ হবার পর বড়ভাই আর আমি বের হই এলাকাটা দেখার জন্যে । বাহিরে এসে হাল্কা নাস্তা করলাম । একটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম কাঠমুন্ডু, রাজধানী হবার পরেও আমাদের ঢাকার তুলনায় কিছুই না ! সব কেমন জানি সাধারণ , সস্তা , সাদামাটা । এখন, বড়ভাই সিগারেট খাবেন কিন্তু রাস্তায় কেউই সিগারেট খাচ্ছে না ! তাই আমরা একটু অবাকই হলাম । আমরা একজন আরেকজন কে বলছি , এইখানে কেউ খায়না নাকি ! বড়ভাই একটু ভয় পাচ্ছেন সিগারেট ধরালে কেউ যদি কিছু বলে ?
আমি অভয় দিলাম , ''আরে ভাই খানতো কে কি কইব ! কিছু হইলে হোটেলের নাম কমু '' বাহ কি সুন্দর সলু্শান :D ভাই খুশি হয়ে খাওয়া শুরু করলেন । তারপর আরেকটা ব্যাপারও লক্ষ্য করলাম ! রাস্তায় রাস্তায় শুধু ড্রিংকস এর দোকান । বড় ভাই বললেন চলবে নাকি একটু ? :P
আমি বললাম না ভাই ওসব খাই না । (ডাহা মিথ্যা)
উনি বললেন ''আরে এক দু'দিন খেলে কিচ্ছু হবেনা, একটা নতুন জায়গায় আসছো । দেশের বাহিরে বলে কথা ! এনজয় করো মিয়া !!!'' :-/
আমি বললাম, ''না ভাই আপনি খেতে চাইলে নিতে পারেন আমি খাইনা ।''
উনি বললেন ''না মানে তুমি যদি খাইতা তাহলে বড় বোতল নিতাম আর না খাইলে ছোট নিমু '' (আমিতো পড়লাম ফাপরে ! একে তো বললাম যে খাইনা তার উপর এখন কিভাবে বলবো যে খাবো !)

আমি বললাম '' কি আর করার আছে ভাই, বড়ভাই মানুষ গায়ে জোর বেশি এত করে সাধতেছেন যদি একটু না খাই পরে তো আবার মাইন্ড ও করতে পারেন''
তারপর একটা ৩৭৫মিলি Antiquity (whiskey) কিনলাম । ওইটা নিয়া হোটেলে আসার পথে আমাদের গাইডের সাথে পথে দেখা আর প্যাকেট টা ছিল আমার হাতে ! উনি জিগাইল হাতে কি ? আমি তোতলাইতাসি /:) তারপর বড় ভাই কইল খাওয়ার জিনিস ওইখানে । তারপর আমরা ওইটা নিয়া রুম এ আসলাম । পরে ফ্রিজ এর ভিতর ওইটা রাখলাম । তারপর আবার বেরিয়ে পড়লাম পরে একটা ক্যাব ভাড়া করলাম । আমরা ৪ জন শপিং করতে গেলাম । মান সম্মত পণ্য না পেয়ে কিছুই কিনলাম না । তার চেয়ে ঢাকায় অনেক ভাল মানের জামা কাপড পাওয়া যায় । আমরা রাতে রুম এ আসলাম তারপর ডিনার এর পর ড্রিংকস খেতে বসলাম । রুম এ আসার সময় লেইস চিপস আর মাউন্টেইন ডিউ নিয়ে আসলাম । তারপর খাওয়া শুরু করলাম । কথা বলতে বলতে ভাই ও গিলতেছে আমিও গিলতেছিলাম । আস্তে আস্তে পুরা বোতল শেষ । আমাদের কথা আস্তে আস্তে থেমে যাচ্ছে । যেহেতু সারাদিন সবাই টায়ার্ড তাই ঘুম আসতেছিল । ভাই বলে যে তোমার ঘুম আসলে ঘুমাতে পার আমি সিগারেট খেয়ে ঘুমিয়ে যাব । আমি আমার ব্যাড এ গিয়ে বালিশে মাথা লাগানো মাত্র গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম । কারন ব্যাড টা অনেক নরম ছিল । আর ওষুধেও কাজ শুরু করে দিছিল :P

২য় দিন

অনেক দেরিতে ঘুম ভাঙ্গে আমাদের । সবাই মিলে নাস্তা খাওয়ার পর ''পোখারা'' নামক একটি যায়গার উদ্দেশে রওনা দিলাম । ঠিক ঢাকা থেকে চট্রগ্রামের দূরত্ব যত ততটুকুই । ওখানে যেতে যেতে বিকেল হয়ে গিয়েছিল । আমরা ওখানে যাবার পর আগেরটির মতোই আরেকটি হোটেলে উঠলাম । আস্তে আস্তে রাত হয়ে আসলো , আমরা দু'জনে বের হলাম এলাকাটা দেখার জন্য । এই জায়গাটি কাঠমুন্ডু থেকে অনেক সুন্দর ! শুধু পাহাড় আর পাহাড় । অনেক সুন্দর আর আলোকময় রাস্তাঘাট । রাস্তায় আমরা হাটছি আর হঠাৎ দেখতে পেলাম একটি মার্কেটের ২য় তলার অন্ধকার একটি রুম থেকে বিট সমৃদ্ধ গানের শব্দ আসছে । (এখানে কিছু কথা গোপন রাখলাম :P)
তারপর আমরা দু'জন হোটেলে ফিরে আসলাম । খালি ঘুম আর ঘুম । আবারো বেহুসের মতো ঘুমমমমমম । :)

৩য় দিন

আমরা ঘুরতে বের হই । একটা মাইক্রো বাস ভাড়া করে রেখেছিলাম । ওটা দিয়ে সারাদিন এ জায়গায় ও জায়গায় ঘুরলাম । অনেক ছবিও তুললাম , অনেক মজা করলাম । ওই দেশে স্ম্মার্ট মেয়েরা বেশিরভাগ পরে জিন্স আর স্কিন টিশার্ট । আর অনেক মেয়েই বাইক চালায় তবে লেডিস বাইক । আর ছেলেরা পরে জিন্স আর নরমাল শার্ট / টিশার্ট । রাস্তায় অনেক সাধারণ মেয়েকে দেখলাম সেলোয়ার-কামিজ পড়তে । অনেক মহিলা শাড়ি অনেকে আবার ওড়না ছাড়া সেলোয়ার । অনেক মেয়েই আবার থ্রি কোয়াটার প্যান্ট পরে । যে যার ইচ্ছামতোই পরছে । আমরা এসব দেখে মজা ই পাচ্ছিলাম । তবে একটি জিনিষ দেখলাম, কোন মেয়ের দিকেই কোন ছেলে খারাপ চোখে তাকায় না, কারো সাথে কারো তেমন একটা কথা বলতেও দেখলাম না, কেউ শিস দেয় না, ইভটিজিং দেখিনি ! (হাহ আর আমাদের দেশের....থাক ওইদিকে আর না আগাই) আমরা যে দোকানেই যাই অনেকেই ভাবে আমরা ইন্ডিয়ান । কারন দোকানদাররা যখন বলাবলি করে তখন আমরা শুনি ।যখন কেউ কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করে কোন দেশের তখন দেশের নাম বলি । আর বাংলা একটি মাত্র দোকান পেলাম । /:) বাকি সব হিন্দি অথবা নেপালিয়ান দোকান , ভাষাও ওইরকমই । আমরা বিভিন্ন মন্দিরে গিয়েছিলাম । পার্কে গিয়েছিলাম । অনেক ছবি তুললাম । ওই দেশে বুদ্ধের মূর্তি অনেক । প্রতিটি জায়গায় একটা না একটা আছেই । তারপর আস্তে আস্তে রাত হয়ে যেতে লাগলো আমরা হোটেলে ফিরে আসি । আমরা দুইজন এখানেও রাতের বেলায় বের হয়েছিলাম । তারপর এখানেও দেখি কাঠমুন্ডুর মতো একটা মার্কেটের ২য় তলা থেকে গানের শব্দ আসছে ! (তাই এখানেও আমি চুপ :P)
তারপর রাত ১১ টার দিকে হোটেলে ফিরে আসলাম । এসেই হুস নাই ঘুম ।।

৪থ দিন

আমরা সকাল সকাল, মানে সূর্য উঠার আগেই একটা পাহাড়ের উদ্দেশে রওনা দেই । যেতে সময় লাগলো ১.৩০ ঘণ্টা । ওখানে নাকি সূর্যোদয় দেখা যায় । যাহোক প্রচণ্ড গরম ছিল হোটেল এরিয়ায় কিন্তু ওখানে যাওয়ার পর কেমন জানি ঠাণ্ডা লাগছিল । যতই পাহাড়ের উপরে উঠতে লাগলাম ততই ঠাণ্ডা ক্রমশই বাড়ছিল । আমি একটা নরমাল শার্ট পরে গিয়েছিলাম তাই আমার কাছে ঠাণ্ডা ভালই লাগছিল । আমি শার্ট এর হাতা খুলে দিলাম , কলারের বোতাম ও লাগালাম ! কিন্তু পাহাড়ে বেয়ে উঠা যে কি পরিমান কষ্ট ওইদিন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম । অর্ধেক পথ উঠার পর দেখলাম একটি দোকান । দোকানি মহিলা । জিজ্ঞেস করলাম পানি আছে নাকি । পরে ১ লিটারের একটা বোতল দিল । দাম ৫০ রুপি ! যা কিনা কাঠমুন্ডুতে কিনেছিলাম মাত্র ২০ রুপিতে । গলা ভেজালাম । আস্তে আস্তে আমরা এতই উপরে উঠলাম যে ওখান থেকে নিচে পাহাড়ের কোনায় মেঘ দেখতে পেলাম ! আর ঘর-বাড়ি গুলো এতই ছোট ছিল যে বুঝতেই কষ্ট হয়েছিল আমার । অবশেষে আমরা পাহাড়ের চুড়ায় উঠতে সক্ষম হই । আমি তাজ্জব বনে গেলাম ! আমি একি দেখলাম ! হিমালয় পর্বতের চূড়া দেখলাম । কিন্তু দুইটা পাহাড়ের দূরত্ব কয়েকশ মাইল !!!

অনেক ছবি তুললাম । অনেক ঠাণ্ডা লাগছিল । কিন্তু সাদা ধবধবে পাহাড়ের চূড়ার দিকে তাকিয়ে ফিরে যেতে আর ইচ্ছাই করছিল না ! আমি তাকিয়েই থাকলাম । আর ভাবতে লাগলাম, ঈশ যদি হিমালয়ের কাছে যেতে পারতাম ! নিজের হাতে একটু ছুঁতে পারতাম !! তাইতো বলি এত ঠাণ্ডা লাগছিল কেন ! কিন্তু ভাবতেও অবাক লাগে হিমালয় এত দূরে থাকা সত্ত্বেও তার ঠাণ্ডা ধব্সধবে সাদা বরফের বাতাস আমাদের গায়ে এসে লাগছে ! যখন সূর্যোদয় হলো চূড়ার বরফগুলোর রঙ সম্পূর্ণ সোনালী হয়ে গিয়েছিল !!! আমি এক মুহূর্তের জন্য দেখতে পেলাম , আমি ওই সোনালী বরফ গুলো দিয়ে নিজের হাতে ঘর বানাচ্ছি ! অনুভব করছি !!!

আমি কল্পনার রাজ্য থেকে ফিরলাম একটা ছেলের ডাকে । বলল যে ''ভাই একটু জায়গা দিবেন কি ? আমরা এইখানে কয়েকটা ছবি তুলবো ।'' আমি বললাম ''সিউর !!''
হঠাৎ করে মনে হল বাকিরা সবাই কোথায় !!!!!!!!!!!!!!!!!
আমি হঠাৎ ভয় পেলাম । কারন আমরা এতই উপরে উঠলাম যে ওখান থেকে নিচে নামার কয়েকটা রাস্তা আছে । আমি বড়ভাই এর সাথে আসলাম তো তখন এত কিছু খেয়াল করিনি । উনাকেও দেখতে পাচ্ছিলাম না । তাই একটু নিচে নামলাম । আমাদের সাথের একজনকে পেলাম । আমার ভয় কিছুটা কাটল । উনাকে দেখলাম কি যেন কিনছে ।

আমি বললাম যাবেন না ? উনি বললেন তুমি যাও আমি আসছি ।
আমি নামা শুরু করলাম । যেহেতু পাহাডে উঠতে কষ্ট কিন্তু নামা অনেক সোজা তাই আমি অনেকটাই নেমে গেলাম । কিন্তু কাউকেই তো দেখিনা । আবার ভয় পাচ্ছিলাম !!
এইবারের ভয়টা মারাত্মক ভয় !!!
আমি আবার উল্টা দিকে উঠা শুরু করলাম যেদিক থেকে নেমেছিলাম । কিন্তু যত ই উপরে উঠি আগের ওই লোকটি কে খুঁজে পাচ্ছিলাম না ! আমি কান্না করবো নাকি বসে থাকব নাকি কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করবো কোনটিই বুঝছিলাম না । আবার উপরে উঠা শুরু করলাম । কাউকেই পেলাম না। আমি ভয়ে অস্থির । সবাই কেমন করে জানি আমার দিকে তাকাচ্ছিল । আমি বুঝছিলাম না যে কি করবো । নিজেকে ১০১ টা গালি দিলাম । কেন যে পাকনামি করে নামতে গেলাম ! ওই লোকটার সাথে নামলেই তো ভাল হত !!!
পরে সাহস করে একটা ছেলেকে জিজ্ঞেস করলাম এখান থেকে নামার রাস্তা কোনটি ? সে আমার কথা বুঝলোনা । আমি যতবারই বলি ও বুঝেনা । (হিন্দিতেই বলেছিলাম) পরে ছেলেটা আমাকে বললো তোমার বাড়ি কোথায় ? বলার পর আমাকে আরও অনেক কিছু জিজ্ঞেস করতে লাগলো । আমি এবার এই ছেলেকেও ভয় পাচ্ছি ! তাকে অবশেষে আমি বোঝাতে পারলাম যে আমি নিচে নামবো । ও আমার গাড়ির ব্যাপারে জানতে চাইল যে কোথায় পার্ক করা আছে । আমি কোন উত্তর দিতে পারলাম না । যেহেতু নতুন তাই জায়গা চিনিনা । তখন সে বলল '' ঠিকাছে আমাদের সাথে নামতে থাকো হয়তো সামনে পেয়ে যেতে পারো '' তারপর আমরা ৩ জনে কথা বলতে বলতে নামতে লাগলাম । ও আমাকে আমাদের দেশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো । সবই ভাল ভাবেই শুনছিল কিন্তু যখন ই আমি রাজনৈতিক কথা বলতে লাগলাম । ও আমাকে থামিয়ে দিল এবং আমাকে অবাক করে নিজেই বলতে লাগলো , '' তোমাদের দেশ ভাল কিন্তু রাজনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ, পড়াশুনার দিক দিয়েও ভাল , এক কথায় সব ক্ষেত্রেই ভাল । তোমাদের একটি জিনিস বদলাও আর সেটা হল রাজনৈতিক ব্যবস্থা । দুর্নীতি বন্ধ করো । সম্ভাবনাময়ী দেশ অনেক উপরে উঠতে পারবা তাহলে'' !!!!!!
কথা শেষ হবার পর হঠাৎ খেয়াল করলাম আমাদের মাইক্রো টা । আমি খুশি তে লাফ দিয়ে উঠলাম । আর ওকে বললাম গাড়ি পেয়ে গিয়েছি । ও বলল '' বন্ধু তোমার সাথে কথা বলে অনেক খুশি হলাম (কারন আমি নতুন কারো সাথে পরিচয় হলে তার মন ভুলিয়ে ফেলি হোক সে ছেলে অথবা মেয়ে) আশাকরি আবার নেপাল আসবে'' আমি বললাম ''বিদায়''

পরে আমরা আবার হোটেলে ফিরে যাই । নাস্তা করে কাঠমুন্ডুর উদ্দেশে রওনা করি । পথে লোকাল একটি হোটেলে লাঞ্ছ করলাম । হরেক রকমের মাছ, বরবটি , টম্যাটোর জুস , আরও অনেক কিছু । তারপর আবার গাড়িতে উঠলাম । যে হোটেলে লাঞ্চ করলাম সেই হোটেল থেকে বড়ভাই একটা বড় বিয়ারের বোতল কিনলেন । গাড়িতে বসে ওটা সবাই মিলে একটু একটু করে খেল । আমি খেলাম না শুধু গাইড এর জন্য । বড়ভাই আমার জন্য একটু রেখে দিয়েছিলেন যেটা আমি জানতাম না । পরে সবাই ঝরনার পানিতে মুখ ধোয়ার জন্য যখন গাড়ি থামাল তখন তিনি বোতলের বাকি টুকু আমাকে দিয়ে বললেন ''মেরে দাও , সবাই গাড়ির বাহিরে ।'' আমি দুই ঢোকে খেয়ে ফেললাম !
আমরা আরও ৩ ঘণ্টা পর ''লাজিমপাট''(যেখানে আমাদের হোটেল ওই জায়গাটার নাম) আসলাম ।

তারপর ঘুরতে বের হলাম । দুপুরের দিকে রুম এ এসে সবাই শাওয়ার সেরে নিলাম ।
খাওয়া দাওয়া শেষে একটা ''ভাতঘুম'' দিলাম । পরে সন্ধ্যার দিকে সবাই হাল্কা শপিং এ বের হলাম । সবাই যার যার মতো করে কিনছে আমি শুধু খাবার কিছু জিনিষ কিনলাম ।
তারপর ওগুলো নিয়ে হোটেলে গেলাম রেখে আসতে । আবারো মার্কেটের ২য় তলার নিচে গেলাম ( নীরব :P)
আজকেও ১১ টার দিকে হোটেলে আসলাম । মহাজাগতিক ঘুমমমমম

৫ম দিন

বড়ভাই কে জিজ্ঞেস করলাম ''আমার জুতা খুলে দিয়েছে কে ?'' উনি বললেন ''আমি'' থাঙ্কস জানালাম। আসলে রাতের কথা আমার কিছুই মনে নাই । উনি পরে বিস্তারিত সব বললেন ।(এমনিতেই পোস্টটা অনেক বড় তাই লিখা বাড়ালাম না)
আমরা সবাই সকালের নাস্তা করে হোটেলের সবার কাছ থেকে বিদায় নিলাম , বুঝলাম না কেন জানি সব কিছুর উপর একটা অচেনা মায়া বসে গেছে !
রুম, ওয়েটার, ডেস্ক এ বসা লোকটা, আসবাবপত্র, এমনকি দারোয়ান টাও । আমরা হোটেলের পিছনে গিয়ে সবাই ছবি তুললাম । তারপর সবাই গাড়িতে বসলাম ।
আমাদের ফ্লাইট দুপুর ২ টায় । তাই আমরা সাইট সীইং এ গেলাম । আশেপাশের জায়গা গুলো এক নজর দেখলাম । আমি সবসময় গাড়িতে বসলে সামনের সিট এ বসি এইবারও তার বেতিক্রম হয়নি। তাই ড্রাইভার এর সাথে একটা ভাল সম্পর্ক করে নিলাম
( বিঃদ্রঃ আমাদের ড্রাইভারটি অসম্ভব একজন ভাল লোক, অনেক সহজ সরল, অনেক মিশুক, অনেক অনেক মজার মানুষ, এমনকি অনেক দায়িত্বশীল লোক এবং একজন উত্তম ড্রাইভার । আমার এই জীবনে আমি এত গুণের অধিকারী কোন ড্রাইভার দেখিনি । এখনও তার কথা মনে আসলে আমার মন খারাপ হয় ।) সে পুরা রাস্তায় আমাদের কে সরকারি বিভিন্ন ভবন দেখাল ।
আমি একটা জিনিষ লক্ষ্য করলাম , নেপালে আমাদের দেশের মতো কোন বড় বড় বাড়ি নেই একটি বড় মার্কেট নেই, একটি কারখানাও নাই, একটি বস্ত্রকল নাই,সব নরমাল, সাধারণ,(আমার দেখা মতে)

পুরো দেশটাই ভারতের দিকে হা করে থাকে । নিজস্ব কোন পণ্য নেই , সবই আমদানি করা , দামি যত জিনিষ আছে সব ইন্ডিয়ান আর সস্তা গুলা ওদেশি ।
একমাত্র পর্যটনের উপর তাদের ভবিষ্যৎ । এটা দিয়েই তো মনে হয় ৮০ ভাগ জীবিকা নির্বাহ হয় !

পরে একটা মার্কেটের সামনে গাড়ি রেখে সবাই শপিং করতে যায় । শপিং শেষে আমরা এয়ারপোর্ট এর উদ্দেশে রওনা করি । অবশেষে আমরা এয়ারপোর্ট এ সময়মত পৌঁছাই । কিন্তু আমার কাছে তখনও প্রায় ৫০০ রুপির মতো থেকে যায় । চিন্তা করলাম রুপি দেশে নিয়ে কি করবো এইখানে ই খরচ করে যাই । এয়ারপোর্টে একটা ফাস্টফুড দোকান আছে । কিন্তু ওখানে জিনিষের দাম দেখে চোখ কপালে , একটা ডিউ ক্যান এর দাম ২০০ রুপি ! একটা স্যান্ডউইচ্ এর দাম ১৫০ রুপি !! আমি এই দুটা কিনে খাওয়া শেষে ভাবলাম বাকি রুপি নিয়ে যাই । পরে আবারো কোনদিন আসলে কাজে লাগাব :P

আমরা বিমানের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম । এই ফাঁকে আমাদের তোলা ছবি গুলো এই মোবাইল থেকে ওই মোবাইল এ ট্র্যান্সফার করতে লাগলাম । নির্ধারিত সময়ে প্লেন আসলো । আমরা নেপাল ছেড়ে প্রিয় দেশ বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়ানা দিলাম ।

এইভাবেই আমার নেপাল ভ্রমন সমাপ্ত করলাম ।

এখনও আমার মনে পরে সেই দিন গুলি । যাওয়ার আগে আব্বুকে বলছিলাম যে ''আমিতো কাউকেই চিনিনা , ওখানে গিয়ে কোন মজা করতে পারবোনা ।'' আব্বু বললেন ''মানুষের জীবন ই তো এইরকম ! কেউ কাউকে প্রথমে চিনেনা । পরে আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যায় ।''
এখনও নিজে নিজে ভাবি যদি আব্বুর কথা না শুনে না যেতাম তাহলে কি আমি এত মজা করতে পারতাম ! শুধু মজা না এমন ই মজা যা আমার সারা জীবনেও আমি করতে পারিনি । আবার হয়তো আসবে এমন আরেকটা সুযোগ । কিন্তু সেইদিন কি আর পাব ওই বড়ভাইটি কে ? পাব সেই গাইড ? পাব সেই হারানো ড্রাইভার ? পাবো সেই হারানো সময় !!! (সবাই যে রকম স্বপ্নের মতো এসেছিল তেমনি আবার চলেও গিয়েছে ! কারো সাথে ই যোগাযোগ নেই আমার । রাখারও চেষ্টা করিনি । থাকুকনা স্বপ্নময় দিনগুলো, স্বপ্ন হয়ে)

(শেষ লাইনটি লিখার পরে আমার দু' চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে গিয়েছে । আজকের মতো এমন খারাপ তো আগে লাগেনি ? কারো কাছে এইভাবে বলিনিও , এত বিস্তারিত ভাবে !
নিজের ভাল লাগাটা সবার সাথে শেয়ার করার অনুভুতিটাই অন্যরকম !)

সবাই ভাল থাকবেন লিখাটা অনেক বড় হয়ে গিয়েছে, এবং আপনাদের সময় নষ্ট করার জন্য আন্তরিক ভাবে ক্ষমা প্রার্থী । আশাকরি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ।


আল্লাহ হাফেজ
২৬টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×