somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এ.এস.এম.মনজু
আমি অতি সাধারণ একজন মানুষ। নতুন অ্যাকাউন্ট খুললাম শুধু নিজের জ্ঞান বাডানোর জন্য। আর যদি সময় পাই তাহলে নিজের মনের ভাব কিছুটা প্রকাশ করার চেষ্টা করবো। সবাই ভাল থাকবেন।

-বাস্তব জীবনের আলোচনা-

০১ লা জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক চিন্তা-ভাবনা করে দেখলাম অনেক সময় আমরা সত্যিকার ভাবেই ভুল পথেই হাটি। তার সবচেয়ে বড় কারন হল আমাদের মনঃস্থিরতার প্রচণ্ড অভাব। যতদিন পর্যন্ত না আমরা পরিকল্পনা মত পথে না চলতে পারি ততদিন পর্যন্ত জীবন কষ্টেরই হবে। আমরা অনেক সময়ই মরীচিকার দিকে তাকিয়ে ভুল করি। ঠিক এ জন্যই আমরা দুনিয়ার বাস্তব রুপ দেখতে পাইনা। সঠিক সময় সঠিক কাজ না করলে পরে আর আফসোস করা ছাড়া কিছুই থাকেনা।

প্রথমত,

বলবো পড়াশুনা-

অনেকেই পড়াশুনা করে থাকি নিতান্তই অনিচ্ছাকৃত ভাবে। মা-বাবা জোরপূর্বক ভাবে অথবা পরিবেশ ভিন্নতায় পড়াশুনা করায় বলে আমরা করি কিংবা নিজের জীবনের জন্য করতে বাধ্য হই । নিজের মন থেকে আগ্রহের সাথে করিনা বলে পরবর্তীতে সেই পড়াশুনা অনেকটাই কাজে আসেনা। কিন্তু আমরা একবারও চিন্তা করিনা যে একটু ভালভাবে পড়া শেষ করলেই জীবনে অনেক উপরে উঠার সম্ভাবনা থাকে । সত্যিকার ভাবে বলতে গেলে আমরা সব বুঝি সব জানি কিন্তু জেনেও ভুল করি হরহামেশা । ফলাফল হয় শুন্য । জীবনে নেমে আসে হতাশা । তখন আমরা আমাদের নিষ্পাপ ভাগ্যকেই সব দোষ দেই।

দ্বিতীয়ত,

বলবো প্রেমের কথা-

রাস্তায় কোন সুন্দরী মেয়ে, ক্লাসের মধ্যে, পাশের ফ্ল্যাটে, অথবা কোন আত্মীয়াকে দেখলেই ভাল লাগে। হ্যাঁ, জৈবিক ভাবে ভাল লাগাটাই স্বাভাবিক বটে । মজার ব্যাপার হল কিছুদিন যেতে না যেতেই ঐ মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করি । মনে জাগে প্রেম করার অদম্য অকৃত্রিম ইচ্ছা !
(একবার চিন্তা করেনতো এই ইচ্ছাটা যদি জীবন পরিবর্তনের ইচ্ছা হত তাহলে ভাল হত নাকি খারাপ হত ? )
শুরু হয় নানান পরিকল্পনা, নিজেকে সেরা বানিয়ে মেয়েটার মন পাবার প্রচেষ্টা। দিন আসে দিন যায়, প্রেমের নামে শুরু হয় মিথ্যে একটি খেলা । অনেকে ভেবেও দেখিনা ঐ মেয়ে কি আমার যোগ্য ? বা আমি তার যোগ্য কিনা ? প্রেম করছি কি বিয়ে করার জন্য নাকি শুধুই মোহ !!!
(এই ক্ষেত্রে একটি কথা বলে রাখা প্রয়োজন- ‘আমাদের জীবন ধ্বংসের জন্য এই মায়া বা আবেগই মূল দায়ী’ এই ক্ষেত্রে আমি প্রেমের মায়া বুঝাইনি সব ধরনের মায়া ই বুঝিয়েছি)
একটি মেয়ের পিছনে যে টাকা ব্যয় করছি তা কি বাবার কষ্টের অর্জিত উপার্জন ? নাকি নিজের ?
(কিন্তু কেন ভাবতে পারেন না !! আপনি যদি জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন তাহলে ঐ সব মেয়ে আপনার জীবনে উপহার হিসেবে এমনিতেই আসবে!)
একবার শুধু চিন্তা করবেন নিজের বিবেক দিয়ে ।

তৃতীয়ত,

বলবো জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ-

অনেকেই ভবিষ্যতের দিকে না তাকিয়ে লাগামহীন জীবন অতিবাহিত করে থাকেন। আপনার লক্ষ্যই যদি স্থির না থাকে তাহলে কি নিয়ে সামনে এগোচ্ছেন? জীবনে কি করে মানুষের মত মানুষ হয়ে বাঁচবেন তা কি একবারও চিন্তা করে দেখেছেন? অন্যকে অনুসরণ করবেন না, সব সময় মনে রাখবেন আপনিই ইউনিক, অন্যজন আপনাকে অনুসরণ করবে আপনি না। শত বাধার বিপরীতে হলেও জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবার চেষ্টা করবেন। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যদি এতই সহজ হত তাহলে আজকে সবাই হতে পারতো। তারাই সফলতা পায় যারা নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল থাকে । তারাই হয় যাদের আত্মবিশ্বাস অনেক উপরে থাকে । অন্যের কথায় কান না দিয়ে নিজের কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখুন । নিজেকে নিজে সম্মান করুন। দেখবেন, সামনের দিকে যতটুকু পথ যাবেন ততটুকুই আত্মতৃপ্তি পাচ্ছেন ।

চতুর্থত,

বলবো সময় বিভাজনের ব্যাপারে-

বাজে কাজে সময় মোটেও ব্যয় করবেন না। যে সময় একবার চলে যায় তা আর কখনও ফিরে পাবেন না। একটি মুহূর্তও যাতে না নষ্ট হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখবেন । জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণের মত সময় বিভাজনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ‘সময়’ এর ব্যাপারটা হল সম্পূর্ণ আপেক্ষিক । অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারিনা যে কিভাবে সময়ের অপচয় করি আমরা। যদি কেউ ‘জীবনের লক্ষ্য’ আর ‘সময়ের’ সমীকরণ মেলাতে পারেন তাহলে আমি বলবো তাদের সফলতা সুনিশ্চিত !!

সর্বোপরি বলবো-
উপরের সব কিছু সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাতেই সম্ভব। সৃষ্টিকর্তার কাছে সবসময় পার্থনা করবেন। যা চাওয়ার তার কাছেই চাইবেন । সৎ ও একনিবিষ্ট মনে চাইলে উনি কাউকেই নিরাশ করেন না।

সব শেষে যোগ করতে চাই-
‘আপনারা যারা আমার এই কথাগুলোকে উপদেশ ভাবছেন তাহলে আমি বলবো হ্যাঁ এগুলো তাদের জন্য উপদেশই, আর যারা ভাবছেন এগুলো জীবন গড়ার কথা তাহলে আমি বলবো এই কথা গুলো সত্যিকার অর্থে জীবনেরই প্রতিচ্ছবি’

সবাইকে ধন্যবাদ ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বলুন - "হ্যালো আল্লাহ্‌, আমি এখনো বেঁচে আছি!"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আপনার কাছে মনে হচ্ছে, আল্লাহ্‌ আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তিনি আপনার দোয়া কবুল করছেন না।
আপনার কাছের মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।
আপনার কোন চাকরী নাই। রিজিক ছোট হয়ে এসেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭



কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া হলো উদ্ভব। কারণ সৃষ্টি বা তৈরী কারক না থাকা। তাতে কী উদ্ভব হবে এটা অনিদৃষ্ট। কারণ এটা নিদৃষ্ট করার কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×