somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পীরের মুরিদ হওয়া একটি জাহেলি আরব প্রথা

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমেই ডিসক্লেইমার দিয়ে দিচ্ছি: এই লেখায় আমি আমার দেশের কোন ডাক্তারকেই ছোট করে তুলে ধরার চেষ্টা করছি না। কেউ একজন তিরিশ-চল্লিশ বছর ধরে ডাক্তারি করছেন, তার মানে এই না তিনি পৃথিবীর প্রায় প্রতিদিন আপডেটেড হওয়া চিকিৎসা বিজ্ঞানের সবকিছু জেনে বসে আছেন। "ল্যাক অফ নলেজ" কখনই কারো জন্য অপমানজনক হবার কথা নয়, যদিও দেশের আল্ট্রা সেনসিটিভ পোলাপান কথায় কথায় "স্বেচ্ছায়" নিজের দিকে ইস্যু টেনে নিয়ে অপমানিত হতে পছন্দ করেন।
২০০০-০১ সালের দিককার ঘটনা। আমার বাবা বেশ কিছুদিন ধরেই পিঠে ও বুকের ডানদিকে ব্যথা অনুভব করেন। তিনি প্রথমে গেলেন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তার দেখাতে। অতি বিখ্যাত ডাক্তার। প্রফেসর মানুষ। নাম বলতে চাইছি না।
তিনি কিছু পরীক্ষা করে বললেন, "আপনার হার্টে সমস্যা।"
আব্বু বললেন, "হার্টে সমস্যা হলেতো বাম দিকে হবার কথা, আমার ডান দিকে ব্যথা হচ্ছে।"
তিনি বললেন, "ডাক্তার কী আপনি, না আমি?"
এরপরতো কোন কথা থাকেনা।
ডাক্তার সাহেব বেশ কিছু ওষুধ প্রেসক্রাইব করলেন।
আব্বু সারা জীবন ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেছেন, কাজেই ওষুধ সম্পর্কে তাঁর ভালই জ্ঞান আছে। ওষুধগুলো দেখে তিনি আৎকে উঠলেন। তবু ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ীই ওষুধ খেলেন।
রাত ১টা-২টার সময়ে আব্বু আমাদের ডাক দিলেন। আমরা তিন ভাই বোন ছুটে গিয়ে দেখি আব্বু বিছানায় বসে আছেন। বিছানায় শুলেই তাঁর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। বসে থাকলেই যা একটু শ্বাস প্রশ্বাস চালাতে পারছেন!
তিনি ধরে নিয়েছিলেন সেই রাতটাই হয়তো তাঁর জীবনের শেষ রাত্রি। আমরাও সেইরকমই ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।
ভোর রাতের দিকে তিনি শুয়ে ঘুমাতে পেরেছিলেন। পরেরদিন সকালে আবারও সেই ডাক্তারের কাছে হাজির হলে ডাক্তার বললেন, "আমি আপনাকেই এক্সপেক্ট করছিলাম, আসলে আমি একটু ওভার ডোজের ওষুধ দিয়ে দিয়েছিলাম। ওটা আপনার স্বাভাবিক নিঃশ্বাস নেয়া বন্ধ করে দিতে পারে।"
এই ঘটনার পরে আব্বু আর সিলেটে কোন ডাক্তারের উপর ভরসা রাখতে পারলেন না। ঢাকায় চলে গেলেন।
নতুন ডাক্তার প্রথমেই জিজ্ঞেস করেন, "এর আগে কাউকে দেখিয়েছেন?"
"জ্বী। সিলেটে দেখিয়েছিলাম।"
"কাকে?"
আব্বু প্রফেসর সাহেবের নাম বলেন।
"তাহলে আপনি আমার কাছে এসেছেন কেন? উনিতো এই ফিল্ডে মায়েস্ত্রো!"
নতুন ডাক্তাররা আর কোন কথা শুনতে চাননা। ব্যপারটা অনেকটা এমন, "আইনস্টাইন যা বলে গেছেন, তাই ফিজিক্স। এর বাইরে আর কিছু ঘটা সম্ভব নয়।"
আব্বুর অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে লাগলো। ডান হাতের মাসল অস্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে যেতে লাগলো। দেশের কোন ডাক্তারের কাছে এর কোন জবাব নেই। সবাই একই কথা বলছেন, "যেহেতু বুকে ব্যথা করে, সেহেতু হার্টে সমস্যা।"
ওষুধ পাল্টে শুধু, অসুখ না।
এই সময়ে আমাদের ঘরে প্রচুর শুভাকাংখীর আগমন ঘটে।
"অমুক পীরের কাছে যাও, উনার কাছে দ্বীন দুনিয়ার যাবতীয় সমস্যার সমাধান আছে।"
"তমুক পীর বেশি পাওয়ারফুল, এই ঐ রোগীকেও তিনি কয়েক দিনের মধ্যেই সারিয়ে ফেলেছেন।"
"ভাল গণক দেখিয়ে একটা পাথর নাও। ইন শা আল্লাহ, রোগ সেরে যাবে।"
ডুবন্ত মানুষ খরকুটো আঁকড়ে ধরেন। প্লাস আমার বাবা ভীষণ ধার্মিক ছিলেন। বাংলাদেশের ধার্মিক মানেই "অশিক্ষিত ধার্মিক" যারা না জেনে বুঝেই অনেক অধর্মকে ধর্মের অংশ মনে করেন। পীর ফকিরের শরনাপন্ন হওয়াটা যাদের একটি।
একটা ভন্ড আব্বুর সমস্যা শুনেই বলল, "আপনাকে জাদু করা হয়েছে। জাদু কাঁটাতে গরু সিন্নি করা লাগবে।"
আরেকটা বলল, দুষ্টু জ্বীনের আছর হয়েছে। তিনটা কবুতর আর কিছু পোলাওর চাল, খাঁটি ঘি ইত্যাদি দিয়ে সিন্নি করতে হবে।
কোন এক আত্মীয় তেলপড়া নিয়ে এলেন। ওটা নাকি ব্যথার স্থানে মালিশ করলে ব্যথা সেরে উঠবে।
মজার ব্যপার এর অনেক বছর পর "সান্ডি সুধা" নামে একটা তেল ইন্ডিয়ার বাজারে এলো। টেলিভিশনে জ্যাকিশ্রফ এই তেল বিক্রির মডেল হলেন! এই তেল মালিশ করলে হাড্ডির ক্ষয় রোগ সেরে যায়! লজিক কী? কোন লজিক নেই!
যাই হোক, বহু যন্ত্রণার পর পরবর্তিতে যখন ইন্ডিয়াতে (চেন্নাই) গিয়ে ডাক্তার দেখানো হলো, ওরা সামান্য কিছু পরীক্ষা করেই (MRI) বলে ফেলল, "আপনার হার্ট বয়সের তুলনায় অতিরিক্ত ভাল আছে। যে ওষুধ খাচ্ছেন, ওটা কন্টিনিউ করলে উল্টো মারা যাবেন। আসল সমস্যা স্পাইনাল কর্ডে, মেরুদন্ডের হাড্ডি ক্ষয় হচ্ছে।"
তাঁরা কিছু ওষুধ লিখে দিয়ে বললেন যদি কয়েক মাসের মধ্যে ইমপ্রুভ না ঘটে, তাহলে অপারেশন লাগবে। এবং শেষ পর্যন্ত অপারেশন করেই আব্বুকে সুস্থ্য হতে হলো।
মজার ব্যপার, অপারেশন শেষে আব্বু যখন সুস্থ হয়ে সিলেটের সেই মায়েস্ত্রর সাথে দেখা করতে গেলেন, মায়স্ত্র বলেছিলেন, "একটা অনেস্ট কথা বলি ভাই, আমার নিজের হার্টের চিকিৎসার জন্য আমি দিল্লি যাই।"
দেশের মেডিক্যাল সায়েন্স এখন অনেক ইমপ্রুভ করেছে। আব্বুর স্পাইনাল কর্ডের সেই অপারেশন এখন ঢাকাতেও হয়। আমাদের দেশে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয়। বাইপাস সহ হার্টের জটিল জটিল অপারেশন এখন দেশে হচ্ছে। দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞান আরও এগিয়ে যাক। সেই শুভকামনা।
কথা হচ্ছে, পীরের কাছে ধরণা দেয়ার অভ্যাসটা আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটা মানুষেরই আছে। আস্তিকেরাতো যাচ্ছেই, নাস্তিক-বিধর্মীদেরও আমি ওদের দরবারে শুকনো মুখে জিকির করতে দেখেছি। বিপদে পড়লে সবারই মাথা এলোমেলো হয়ে যায়। তখন সবাই মিরাকেলের আশায় "সুপার আস্তিক" বনে যান। এদের বেশিরভাগই উচ্চশিক্ষিত, সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। এরাই সমাজের মাথা, এবং এরাই কিছু ভন্ডের সামনে অনায়াসে মাথা নত করেন! অতিরিক্ত কোন কিছুই যে ভাল না, সেটাই সবাই ভুলে যায়।
জীবনে ঝামেলা আসবেই, এবং সেই ঝামেলা কিভাবে সামলানো যায় সেটারও কিছু তরিকা আছে। মানুষের সমস্যা হলো, সে সবকিছুতেই শর্টকাট খুঁজে। আঙ্গুল বাঁকানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা না করে প্রথমেই চামচ দিয়ে ঘি তুলে ফেলে।
একটা ফাইল ছুটাতে হয়তো তিনমাস সময় লাগবে। আমরা কর্মকর্তার হাতে কিছু টাকা গুঁজে দেই, যাতে এক সপ্তাহের মধ্যেই ফাইল রিলিজ হয়ে যায়।
ডাক্তারের চেম্বারে বিশাল সিরিয়াল, আমরা কম্পাউন্ডারকে কিছু টাকা দিয়ে দেই, যাতে সিরিয়ালে আমাদের নাম এগিয়ে আসে।
তারপর এই আমরাই "দুর্নীতিবাজ" বলে অন্যদের গালাগালি করি। ওদের দূর্নীতি শিখিয়েছে কে সেটা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।
ঠিক যেমনটা বেশ্যাদের সমাজের নিকৃষ্টতম সম্প্রদায় গন্য করা হয়। অথচ নিশিরাতে সমাজের স্ট্যাটাসওয়ালা লোকেরা যখন তাঁর দরজায় গিয়ে কড়া নাড়ে, সেটা নিয়ে কেউ কোন কথা বলেনা।
টপিক অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে। লেটস গো ব্যাক টু "পীর-ফকির" এগেইন।
তো যা বলছিলাম, আমাদের মুসলিম সমাজ তথাকথিত পীরদের অনেক উঁচু অবস্থানে বসিয়ে দেয়।
এরাও চোখের সামনে "মিরাকেল" ঘটিয়ে তাদের অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করে থাকে। শুন্য থেকে ফল-ফ্রুট, কবুতর ইত্যাদি ধরে আনে।
রাস্তায় পাঁচ ছয় টাকা বখশিসে ম্যাজিক দেখানো লোকটিও যখন একই খেলা দেখায়, তখন আমরা তাকে পাত্তাই দেই না। লেবাস পরিবর্তন হলেই আমরা একই খেলার খেলোয়ারকে পারলে সিজদা দিয়ে দেই!
উপরওয়ালা আমাদের মগজ দিয়েছেন সেটা খাটিয়ে বুদ্ধি বের করতে। আমরা সেটাকে শোকেসে তুলে তালাবদ্ধ করে রেখে দিয়েছি।
এদের দেয়া "পানি পড়া" খেয়ে আমাদের রোগ সাড়ে। এদের দেয়া "কলম পড়া" নিয়ে আমাদের ছেলে মেয়েরা পরীক্ষা দিতে যায়। এদের দেয়া তাবিজ কোমরে বেঁধে সন্তান জন্ম দেয়া হয়।
কোথাও কোথাও এই ফাজলামি চরম পর্যায়ে উঠে। হুজুরকে গোসল করানো হয়, এবং সেই গোসলের পানি আহাম্মক মুরিদেরা পবিত্র মনে করে খায়।
আমি একজন পীরকে চিনি যিনি পান খেয়ে থুথু ছিটাতেন, মুরিদেরা সেই ছুড়ে ফেলা চাবানো পান সুপারির ছোবড়া কাড়াকাড়ি করে নিয়ে তাবিজ বানিয়ে গায়ে ঝুলাতো। কেউবা প্রতিদিন সেই উচ্ছিষ্ট ধুয়ে পানি খেত! এতে নাকি অনেক বরকত হয়! নেক নিয়্যত থাকলে সেই বরকত উপলব্ধিও করা যায়!
কত সংসার যে ভাঙ্গে এদের কারনে!
"হুজুর আমার স্বামী ইদানিং আমার সাথে হেসে কথা বলে না।"
হুজুর শুনিয়ে দিল, "ওর আরেক জায়গায় প্রেম চলতাছে।"
স্ত্রীর মনে ভয়, সন্দেহ ঢুকে গেল। শুরু হলো অশান্তি। এবং একটা সময়ে তালাক!
বেকুব মহিলা এইটুকুও ভাবার প্রয়োজন বোধ করলো না যে ব্যবসায়িক কারনেও স্বামী অন্যমনষ্ক থাকতে পারে। চাকরির ব্যপারেও অন্যমনষ্ক থাকতে পারেন। আরে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভরাডুবি রেজাল্টও এমন আচরণের কারন হতে পারে! পীরের কাছে না গিয়ে স্বামীকে সরাসরি জিজ্ঞেস কর, তাহলেই সব কেস solved!
আমি একবার এদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম, একজন মুরুব্বি আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, "তওবা করো! নাহলে তোমার সর্বনাশ হয়ে যাবে!"
আমি ফালতু তর্ক করিনা। যুক্তি খুঁজি এবং কেউ ভাল যুক্তি দেখালে মেনে নেই, নাহলে চুপ করে যাই।
পীরের কাছে ধরনার ব্যপারে প্রশ্ন করায় আমাকে শোনানো হয়েছিল, "আমাদের মানুষদের মধ্যে কিছু মানুষকে আল্লাহ পার্সোনালি পছন্দ করেন। তারা যদি দোয়া করেন, তাহলে আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না। কাজেই আল্লাহর কাছে কিছু চাইতে হলে ওদের মাধ্যমে চাইলে ব্যপারটা নিশ্চিত ও দ্রুত পাওয়া যায়।"
যুক্তি পছন্দ হলনা।
"আমি যে জানি, আল্লাহর কাছে প্রতিটা মানুষই সমান। আমার যদি কিছু দরকার হয়, সেটা আমার চেয়ে "খাস নিয়্যতে" আর কে চাইতে পারবে? একজন হুজুর বা একজন পীর আমার ডেস্পারেসন কত্খানিই বা বুঝতে পারবেন?"
জবাব এলো, "যা বুঝোনা, যা জানো না, সেটা নিয়ে কথা বলতে এসো না।"
তখন ছোট ছিলাম, জ্ঞান ছিল কম। এখন একটু পড়াশোনা করার সুযোগ হয়েছে। এখন বলছি, আমি অশিক্ষিত অবস্থায় যা বুঝেছিলাম, আপনারা বেশি শিক্ষিতেরাই সেটা বুঝেননি!
নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দিচ্ছি, খন্ডন করে দেখান দেখি।
ওহি নাজিলের আগে মক্কার কোরাইশরা কী আল্লাহকে বিশ্বাস করতো?
উত্তর হচ্ছে, অবশ্যই বিশ্বাস করতো। আবু জাহেলের মতন বদমাইশও বলেছিল "আমি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে রাজি আছি, (আল্লাহ ছাড়া আর কোন ঈশ্বর নেই) কিন্তু এইটা কিছুতেই মানবো না যে তুমি (মুহাম্মদ (সঃ)) আল্লাহর রাসূল!"
তাদের ধর্মচর্চা ছিল এইরকম, তারা আল্লাহতে (আল্লাহ শব্দটা কিন্তু নবীজির (সঃ) আবিষ্কার নয়, ওরাও ঈশ্বরকে "আল্লাহ" ডাকতো) বিশ্বাসী ছিল। তবে তারা মনে করতো যেহেতু তারা সাধারণ মানুষ, এবং আল্লাহ অতি মহান, সেহেতু আল্লাহ তাদের সরাসরি প্রার্থনা শুনবেন না। একারনে একটা মিডিয়া লাগবে। এই মিডিয়ার থ্রুতেই তাঁর উপাসনা করতে হবে। এবং এভাবেই তারা শিরক করতো। একারনেই তাদের কাছে আল্লাহর কোন মূর্তি ছিল না, মিডিয়ার মূর্তি ছিল। কুরআনের আয়াতও "অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে। (ইউসুফ:১০৬)" এই কথাই সাক্ষ্য দেয়।
ওদের সাথে আমাদের এই পীর-ফকির তত্বের কোন পার্থক্য দেখছেন?
নেই। একটুও পার্থক্য নেই।
আপনি যদি মনে করেন পীর আপনাকে পরীক্ষা পাশ করাবে, পীর আপনাকে সুস্থ করবে, পীর আপনাকে সন্তান দিবে - তাহলে ভাই আপনি পীরের পূজাই করছেন। আল্লাহর নয়।
পীর মরার পরেও আমরা ঝামেলা শেষ করছি না। তার কবরকে মাজার বানিয়ে, তার ছেলেকে গদিতে বসিয়ে এই ফাজলামিকে "টু বি কন্টিনিউড" করছি।
নবীজি (সঃ) নিজে যেখানে বলে গেছেন তাঁর নিজের কবরকে "মাজার" না বানাতে, আমরা সেই কথাকেও ইচ্ছে করেই কানে তুলি না। এমন ভাব নেই যেন উনি কী জানেন? আমরাই বেশি বুঝি!
সুরাহ ইউসুফ আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে, "আর (ওরা) উপাসনা করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন বস্তুর, যা না তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারে, না লাভ এবং বলে, "এরা তো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী।" তুমি বল, "তোমরা কি আল্লাহকে আসমান ও যমীনের মাঝে এমন বিষয়ে অবহিত করছ, যে সম্পর্কে তিনি অবহিত নন? তিনি পুতঃপবিত্র ও মহান সে সমস্ত থেকে যাকে তোমরা শরীক করছ।" (১৮)"
শব্দটা লক্ষ্য করেছেন? সুপারিশকারী!
আল্লাহ যেখানে নিজেই বলছেন উনার কাছে আপনার "ফাইল" পৌছাতে কোন সুপারিশকারীর দরকার নেই, সেখানেও আপনি কর্মকর্তার হাতে কিছু পাঁচশো টাকার নোট ধরিয়ে দিতে চান?
আপনার মূর্খামির ফায়দা এখন এমন কিছু ভন্ড ব্যক্তি তুলছে, যাদের স্থান হয় পাগলা গারদে অথবা শ্রীঘরের লোহার শিকের পেছনে হবার কথা ছিল।
আজকে আপনার কষ্টের উপার্জিত টাকায় তারা কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়ে বসে আছে।
১৫টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×