"লেটেস্ট নিউজ শুনেছো?"
"কোন ব্যপারে?"
"আই.এস।"
নামটা শুনেই অ্যাডভান্স মনে মনে ইন্নালিল্লাহ পড়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "ওরা আবার কী ঘটিয়েছে?"
"একটা পাইলটকে জীবিত পুড়িয়ে মারার ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়েছে।"
মনটা বিষিয়ে উঠলো, সেই তিতা স্বাদ মুখেও টের পেলাম। একটা অসম্ভব বাজে গালি বেরিয়ে আসছিল। অফিস বলে সামলে নিলাম।
একেই আমাদের দেশে পেট্রোল বোমার যন্ত্রণায় টেকা যাচ্ছে না, এখন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীরাও একই ইতরামি শুরু করেছে। এগুলো ধ্বংস হয় না কেন?
আই.এসকে সন্ত্রাসী বললে আবার আমাদের দেশ ও বিলাত প্রবাসী এক সম্প্রদায়ের মানুষের মনে খুব আঘাত লাগে। তাদের চোখে ওরা ইসলামের প্রকৃত সৈনিক। আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে জিহাদ করছে।
এই সমস্ত ভাই সাহেবদের ইসলাম সম্পর্কে কতখানি জ্ঞান আছে সেটা আমার খুব বাজিয়ে দেখতে ইচ্ছে করে।
বেশ কিছুদিন আগে আমি আই.এসদের নিয়ে একটা লেখায় লিখেছিলাম, ওরা কারোরই 'সৈনিক' নয়। আজকে ওরা অন্য সম্প্রদায়ের মানুষকে মারছে, কালকে ওরা নিজেদের সম্প্রদায়ের মানুষদের মারা শুরু করবে। এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা গেল, জানোয়ারগুলির হাতে সদ্য নিহত জর্ডানিয়ান পাইলটটি ছিলেন একজন খাঁটি "সুন্নি" মুসলমান।
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন, তাঁর পরিবারকে ধৈর্য্য ধরার শক্তি দান করুন এবং তাঁর খুনিদের প্রতিটাকে এমন শাস্তি দিন, ঠিক যেভাবে তিনি নমরুদ, ফিরাউন, আবু জাহেলদের দিয়েছিলেন।
ওদের নিয়ে বলা আমার ভবিষ্যতবাণী মিলে গেল। এখন আবার আমাকে পীর মনে করে মুরিদ হবার চিন্তা করবেন না যেন। আমি একটা সহজ লজিক ব্যবহার করেছি কেবল। "কুকুর পাগল হয়ে গেলে সে নিজের মালিককেও চিনেনা।"
পাগলা কুকুরের একটাই চিকিৎসা, মাথায় বুলেট ঢুকিয়ে দেয়া।
তারপরেও কিছু ইসলামী ভাই সাহেবেরা গীত ধরবেন, আমি যেহেতু অ্যামেরিকায় থাকি, কাজেই আমি ওদের সুরে কথা বলছি। দুই একটা মানুষ মরতেই পারে। কোলাটেরাল ড্যামেজ। একজনতো কিছুদিন আগে আমাকে বলেছিলেন, "আমাদের দেশেও যেমন সিভিলিয়ান রাজাকার ছিল, ওদের দেশেও তেমনি আছে। ওদের মারলে কষ্ট পাবার কিছু নেই।"
এই সমস্ত সবজান্তাদের জন্যই একটা হাদিস বর্ণনা করা যাক।
“No one is entitled to punish with fire except the Creator (আল্লাহ) of the fire”.
মানে হচ্ছে, আল্লাহ ছাড়া কারোরই কাউকে আগুন দিয়ে শাস্তি দেবার অধিকার নেই। সহীহ হাদিস গ্রন্থ আবু দাউদের ২৬৭৩ নম্বর হাদিস এটি। মিলিয়ে দেখতে পারেন।
এই হাদিসটা স্পষ্টত প্রমাণ করে যে যারা ইসলামের নামে মানুষকে পুড়িয়ে মারে, ইসলামের সাথে তাদের দূর দুরান্ত পর্যন্ত বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। উল্টো তারা ইসলামের শত্রু। এরা নবীজির (সঃ) স্পষ্ট নির্দেশকে অস্বীকার করে। এরা ইসলামের নামকে বদনাম করে।
কথাটি আমাদের দেশের পেট্রোল বোমা নিক্ষেপকারী জানোয়ারদের জন্যও প্রযোজ্য।
এরাও কারো ভাই না, কারো বন্ধু না। এরা স্রেফ সামান্য টাকায় বিক্রি হওয়া কিছু ভাড়াটে খুনি।
আপনি হয়তো এদের দুই একটাকে চিনেনও। কাউকে দেখেছেন মিছিলের সময়ে বোতল হাতে ছুটাছুটি করতে। অথবা "অপারেশন" নিয়ে কথা বলতে।
কিন্তু যেহেতু ওরা আপনাকে পুড়াচ্ছে না, কাজেই আপনিও চুপ করে আছেন।
কিন্তু একদিন দেখবেন, আপনারই খুব কাছের কেউ এদের শিকার হবে। তখন যতই হায় হায় করেন, এতটুকুও লাভ হবে না।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায় প্রমুখ মহাপুরুষেরা সতী দাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে গিয়েছিলেন বলেই নিজেদের পরিবারের মেয়েদের যুবতী অবস্থায় আগুনে পুড়ে মরতে হয়নি।
সময় থাকতে ন্যায়ের পক্ষ্য নিন। সেটা যেভাবেই হোক না কেন।
আর সেজন্য যদি নিজেরও বিরুদ্ধে যেতে হয়, পিছপা হবেন না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




