somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল্লাহ, আমাদের মানুষদের মাথায় বুদ্ধি দাও। ছাগল না বানিয়ে আমাদের তুমি মানুষ বানাও।

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুসলিমদের নিয়ে একটি বদনাম আছে এরা মৌলিকভাবেই ভীষণ গোড়া। একজনতো সেদিন মুখের উপর শুনিয়েই দিয়েছিলেন, "তোমাদের আল্লাহ নিজেই যেখানে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন কাফিরদের জাহান্নামের আগুনে চিরদিন পুড়াবেন, সেখানে তোমরা নিজেদের কিভাবে সাম্যবাদী দাবি করো? কুরআনই শিক্ষা দিচ্ছে কাফিরদের ঘৃনা করতে। তোমরা সেটা মুখে যাই বলো না কেন।"
তিনি তখন এমনভাবে তেড়ে এলেন যেন আমাকে পিটিয়ে ছাতু বানিয়ে দিবেন।
আমি তখন হেসে বললাম, "ব্রাদার, রিল্যাক্স! একটু ঠান্ডা হয়ে নেন, তারপরে জবাব দিচ্ছি।"
তিনি ঠান্ডা হবার পরে বললাম, "এইটা ঠিক যে আল্লাহ অবিশ্বাসীদের প্রতি জাহান্নামের কঠিনতম শাস্তির ওয়াদা করেছেন। কিন্তু আমাকে একটা আয়াত দেখান যেখানে তিনি মানুষদের নির্দেশ দিয়েছেন অবিশ্বাসী পেলেই পুড়িয়ে মারতে।"
তিনি তখন বিশ্বজয়ের হাসি হেসে বললেন "এইরকম আয়াতেও কুরআন ভরপুর। বাকারা, তওবা এইরকম অনেক সুরায় এইরকম আয়াত আছে।"
আমিও তাঁর জবাবে তাঁর মতই হেসে বললাম, "জ্বী ভাই। সেসব আয়াত আমিও পড়েছি, এবং এও জানি যে প্রতিটা আয়াতই যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নাজিল হওয়া। এইজন্যই কুরআন পড়ার পাশাপাশি নবীজির (সঃ) জীবনীও হাইয়েস্ট প্রায়োরিটি দিয়ে পড়তে হয়। নাহলে এইরকমই কনফিউজড হতে হয়। তখনকার দিনে মুসলিমদের যুদ্ধ কেবল মুশরিকদের সাথেই হতো এবং যুদ্ধের সময়ে নিশ্চই কোন জেনারেল হুকুম দেন না যে শত্রু গুলি চালালে তাদের কোলে তুলে চুমু খেতে। আমাদের জেনারেলও সেই একই নির্দেশ দিয়েছেন - শত্রু আক্রমন করলে নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আক্রমন করতে। এখানে উল্লেখ্য যে এইসব আয়াতের পরবর্তী আয়াতগুলো, যেখানে নির্দেশ দেয়া হয়েছে শত্রু আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে ক্ষমা করে দিতে তাঁর সাথে সর্বোচ্চ মানবিক আচরণ করতে। মনে রাখবেন, এইসব আয়াত তখন নাজেল হওয়া যখন যুদ্ধে পরাজিত সিপাহিদের মৃত্যুদন্ডই ছিল একমাত্র শাস্তি। ক্ষমা করা ও সর্বোচ্চ ভাল ব্যবহার করাতো কল্পনাতীত! জেনেভা কনভেশনতো হলো এই সেদিন, কুরআনের হুকুম সেই ১৪০০ বছর আগের। যেকারনে আমরা দেখতে পাই আপন সন্তানের খুনিকেও আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, স্রেফ লোকটি ইসলাম গ্রহণ করেছিল বলে।"
"ফালতু কথা ছেড়ে মূল কথায় আসো। জাহান্নামের শাস্তি।"
"ও হ্যা। তা আল্লাহ কখনই বিধর্মীদের শাস্তি দেয়ার কথা বলেননি। চুরির শাস্তির কথা বলেছেন, ডাকাতির শাস্তির কথা বলেছেন, খুনের শাস্তির কথা বলেছেন, ব্যাভিচারের শাস্তির কথাও বলেছেন - কিন্তু কোথাও বলেননি "যখনই দেখবে কোথাও পুজো হচ্ছে, ওদের মন্দির গুড়িয়ে দিও।" অথবা "মূর্তি পূজাকারীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর কর।" তিনি স্পষ্টই বলেছেন যে তাঁর দরবারে শিরক হচ্ছে সর্বোচ্চ অপরাধ, এবং সেটার শাস্তির ব্যপারে তিনি কোন মানুষকে নির্দেশ দেননি। যে কারনে আমরা দেখতে পাই জেরুজালেমের পতন ঘটানোর পর হজরত উমারকে (রাঃ) ইহুদি খ্রিষ্টানদের কাছে গিয়ে ঘোষণা দিতে 'আজ থেকে তোমরা আমাদের ইবাদতে বাঁধা দিও না। আর যদি তোমাদের ইবাদতে কেউ বাঁধা দেয়, তবে সরাসরি আমার কাছে এসে বলবে, আমি বিচার করবো।'
আমরা সবাই জানি উমার (রাঃ) হবেন পৃথিবীর শেষ ব্যক্তি যিনি তাঁর নবী(সঃ) ও আল্লাহর বিরুদ্ধে যাবার কথা চিন্তা করবেন। কাজেই ইসলাম কখনই বিধর্মীদের উপর Oppression এর নির্দেশ দেয়না।"
ভাই ঠোঁট বাঁকিয়ে বললেন, "ইহুদি খ্রিষ্টানতো তোমাদের জাত ভাই। আমি বলছি হিন্দু বৌদ্ধদের কথা। যারা রিয়েলি মূর্তি পূজা করে।"
"মুসলিম বাহিনীর হাতে পারস্যের পতন ঘটার পর পার্সি সাম্রাজ্যে একটাও মন্দির ভাঙ্গার ঘটনা কী ঘটেনি? জোরাস্ত্রিয়ানরাতো অনেকটা হিন্দুদের মতই, আগুনের পূজা করে।"
"মাহমুদ গজনি সোমনাথের মন্দির ভেঙ্গেছিল ...."
"মাহমুদ গজনি কবে থেকে নবী হলেন? তিনি কী সাহাবী ছিলেন? আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে নবীর নির্দেশ ও আদর্শ মানতে, কোন সুলতান বা সম্রাটের নয়। মাহমুদ গজনি স্রেফ একজন সুলতান ছিলেন। আজকে যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত আক্রমন করে রিজার্ভ ব্যাংক লুট করে আনেন, সেজন্য কোন অবস্থাতেই ইসলামের নাম জড়ানো যাবেনা। তিনি তাঁর কর্মের জন্য দায়ী। ইসলাম হচ্ছে স্রেফ কুরআনের আয়াত ও নবীর সুন্নত। আর কিচ্ছু নয়।"
ভাই নিজের মাথার ভিতরে তীব্র ঝড় বইয়ে দিলেন। বুঝা গেল, তিনি আরও সলিড কোন উদাহরণ খুঁজছেন। আমি অপেক্ষা না করে কথা শেষ করলাম।
"কুরআনে একদিকে আল্লাহ বলেছেন কেউ যদি তাঁকে অবিশ্বাস করা অবস্থায় মারা যায় তবে তাকে তিনি জাহান্নামে পুড়াবেন। আবার সেই আল্লাহই অন্যদিকে বলেছেন ওদের কোন দেবদেবীকে নিয়ে হাসিতামাশা না করতে। কারন এতে সেও আমাদের আল্লাহ ও নবীকে নিয়ে হাসিতামাশা করার সুযোগ পাবে। সেই সুযোগ কোন অবস্থাতেই না দিতে। দিলে উল্টা আমাদেরই গুনাহ হবে। আল্লাহ বলেছেন, ধর্মের ব্যপারে কোন জবরদস্তি না করতে। যার যার ধর্ম, তাঁর তাঁর কাছে। তাহলে সবক'টা আয়াত একত্র করলে কী দাঁড়ায়? কেউ যদি আমার পাশের বাড়িতেও পূজা করে, আমি কিছু বলতে পারবো না। আমার জেনারেলের নির্দেশ। অমান্য করলে উল্টা আমারই কোর্টমার্শাল হবে।"
প্রতিবছর দূর্গাপূজার সময়ে যেসব ছাগলেরা মন্দির ভাংচুর করে, সেসব ছাগলদের উদ্দেশ্যে একটি সহজ প্রশ্ন, কারও মন্দির ও ঘর লুটপাট করার পর কেউ কী করে আশা করতে পারে যে অত্যাচারের শিকার ব্যক্তিটি আল্লাহ এবং নবীকে (সঃ) যথাযথ সম্মান দিবে? এই যে এই লোকটি এবং তাঁর জ্ঞাতিগুষ্ঠী, বংশধর ও পড়শীদের সবাইকে ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলা হলো, সেটার জন্য কী "সর্বোচ্চ ন্যায়বিচারক" ক্ষমা করে দিবেন? জ্বী না, অপরাধী যেই হোক, তাকে শাস্তির ওয়াদাও তিনিই করেছেন। কাজেই সাবধান! তোমার কাজের উপরই তোমার নবীর(সঃ) রেপুটেশন Judged হচ্ছে।
আল্লাহ, আমাদের মানুষদের মাথায় বুদ্ধি দাও। ছাগল না বানিয়ে আমাদের তুমি মানুষ বানাও।
আমিন!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:১৩
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাঞ্জাবিস্তান

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪০

পাকিস্তা/নের পাঞ্জাবিরা হলো পাকি/স্তানের বাকি সব জাতিসত্তার মানুষদের জন্য অভিশাপ। এদের জাত্যভিমানের কারনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগন স্বাধীনতার ডাক দিতে বাধ্য হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রদেশগুলো যেরকম অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×