সমস্যা হচ্ছে, একটা করে অঘটন ঘটে, অমনি ফেসবুকে সবাই বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হয়ে যান। ফেসবুক স্ট্যাটাসের নামে যে যার মতন বিচার শুনিয়ে দেন। সেটা যে কারনেই হোক না কেন।
ধরা যাক আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফাজিল আইসিসের কথা। এরা যে সন্ত্রাসী, এই ব্যপারে দ্বিমত নেই বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের। সমস্যা হচ্ছে, একই সময়ে বিশ্বের কয়েক লক্ষ মানুষের কাছে এরাই হিরো, জিহাদী মুক্তিযোদ্ধা। এদের সমর্থকের সংখ্যা উন্নত বিশ্বে যেমন আছে, বাংলাদেশেও তেমনি আছে। এরা যে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ মেরে ফেলছে, তাতেও কোন দোষ খুঁজে পান না। স্কুলের ধর্মশিক্ষা পরীক্ষাও যে ছাত্র নকল করে পাশ করেছিল, সেও ফতোয়া শুনিয়ে দেয় - আইসিস সহিহ ইসলামের পথে আছে। সব দোষ অ্যামেরিকার। ওরাই আইসিস সৃষ্টি করেছে, ওদেরকেই পিটানো উচিৎ। এবং সেই সাথে আছে ইজরায়েল। পৃথিবীর নিকৃষ্টতম জাতি হচ্ছে এই ইহুদিরা। হিটলার সাহেব ঠিকই করেছিলেন।.......শুরু হয়ে যায় ইতিহাস ঘাটাঘাটি।
ঘটনা আংশিক সত্য। বেন সোয়ান ভাইয়ের সাম্প্রতিক টিভি রিপোর্ট আরেকবার আমাদের (মার্কিন বিদেশনীতির কথা বলছি) হিপোক্রেসীকে সবার সামনে তুলে ধরেছে। কিন্তু তাতে কারও টনক নড়বে না। আগেও বহুবার অনেকেই এমনটা করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন। কেউ একটুও ভাববে না, একদল উন্মাদ, প্রায় ফকির সন্ত্রাসীদের হাতে এত দামী দামী অস্ত্র কে তুলে দিল? আয়েশী আরবরাতো নিজের দেশের মাটিতে সামান্য সুঁই সূতা পর্যন্ত উৎপাদন করতে পারেনা। তারা কী করে অ্যাসল্ট রাইফেল, এন্টি ট্যাংক মাইন, বিমান বিদ্ধংসী অস্ত্র ও আধুনিক ট্যাংক পেল? একটু খুঁটিয়ে দেখুন, ওদের চড়া ট্যাংকগুলো কী পরিচিত মনে হয়? জ্বী, ওসব আমাদেরই মার্কিন মুল্লুকের সেনাবাহিনীর ফেলে আসা ট্যাংক। ইরাক যুদ্ধের সময়ে যেগুলো ব্যবহৃত হয়েছিল এবং সেখান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের সময়ে যেগুলো ধ্বংস করে আসা হয়নি। এত বড় বড় অফিসারদের কারোর মাথাতেই কী আসেনি যে ওসব জঙ্গিদের হাতে পড়লে কী ঘটতে পারে? নাকি এটা ইচ্ছাকৃত ভুল?
অ্যাসল্ট রাইফেলের বেশির ভাগই একে৪৭, রাশিয়ার যুগান্তকারী আবিষ্কার। সাথে আছে ইজরায়েলি উজি, এবং আরও অন্যান্য অস্ত্র শস্ত্র। কিভাবে গেল তাদের হাতে?
আমাদের দেশের গ্রামের জমিদারদের একটা অতি প্রাচীন ফিলোসফি ছিল - চাষা ভুষাদের বেশি পড়ালেখা করানোর দরকার নেই। ওরা যদি শিক্ষিত হয়ে যায়, তবে চাষ করবে কারা?
একই নীতি এখনও আমাদের দেশের প্রতিটা সরকার ফলো করে থাকেন। দেশ থেকে দারিদ্র দূর হয়ে গেল মিছিল মিটিংয়ের জন্য এক প্লেট বিরানির লোভে কয়টা মানুষকে পাওয়া যাবে? ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানের জনসভা যদি লোকশূন্য হয়, তাহলেতো বিপক্ষ দল যে মুচকি মুচকি হাসবে!
একই নীতি আমাদের অ্যামেরিকানদেরও। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যদি গরিব না থাকে, তাহলে আমার বড়লোক হবার ফায়দা কী? সিআইএ হচ্ছে আধুনিক শকুনি মামা, আমাদের দেশের কুটনা প্রতিবেশী মহিলাগুলির মতন, যারা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে গিট্টু লাগিয়ে মজা নেয়। তোরা কাটাকাটি করে মর, আমাদের কী?
এনিওয়েজ এখন মূল কোথায় আসি, যে কারনে আজকের লেখা শুরু করেছিলাম।
According to আইসিস, ফকিরনিগুলি নাকি জিহাদ করছে। অতি উত্তম। কোথায় পেল এই কনসেপ্ট? ওরা আপনাকে এক ঝাক দলিল পেশ করবে। আপনি বিভ্রান্ত হয়ে যাবেন। দূর্বল ঈমানের লোকেরা সাথে সাথে ইসলাম ত্যাগ করবে। আপনি মিনমিনে গলায় বলবেন, "ইহা সহিহ নহে।" আর আরেকদল ফকিরনি মুচকি হাসতে হাসতে বলবে, "বলেছিলাম না, ইসলাম তলোয়ারের মাধ্যমে প্রচার পেয়েছিল। এখনও তাই পাচ্ছে।"
আসল ঘটনা বলার আগে বলে নেই - অ্যাপলোজেটিক মানসিকতা নিয়ে বেশি দূর এগোতে পারবেন না। ধরা খেয়ে যাবেন। Honesty is the best policy. সত্যের সাথে থাকুন, তাহলে আপনি হারবেন না। কারও যদি সত্যকথন পছন্দ না হয়, সে আপনাকে ত্যাগ করবে - ক্ষতিটা তাহলে কার বেশি হবে?
নবীজির (সঃ) সময়ে আরবের অবস্থা কী ছিল? মরু অঞ্চলে সভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন মোটামুটি জংলি একটি জাতি ছিল তাঁরা। সমস্ত আরব অঞ্চলে কোন লাইব্রেরি নেই, শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা হাজারে দশও না। বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে করতেই তাঁদের জীবন শেষ - স্কুলে যাবার সময় কই? এমনকী আধুনিক সভ্যতার যে প্রধানতম বৈশিষ্ট্য, একটি একক সরকারি শাসন ব্যবস্থা, সেটা পর্যন্ত ছিল না। যে যার গোত্রে বিভক্ত। আমার গোত্রের মানুষ অন্যের গোত্রের মেয়ে উঠিয়ে এনেছে? কোন সমস্যা নাই। আমাকে লোকটাকে প্রটেক্ট করতেই হবে। প্রয়োজনে ধর্ষকের জন্য নিজের জান গেলে যাবে, তবু অন্য গোত্রের হাতে নিজের "ভাইকে" তুলে দেব না।
আধুনিক ইতালিয়ান মাফিয়া চক্রের সাথে যার হুবহু মিল।
তা আরব ভূখন্ডে যে কখনই বাইরের কোন পরাশক্তি আক্রমন করেনি, এর প্রধাণ কারনই ছিল কে চায় যেচে পরে ঐ মরুভূমিতে গিয়ে মরতে? না আছে পানি, না আছে চাষের জমি। কোথাও কোথাও আঙ্গুর আর খেজুরের ফলন হয়। বিগ ডিল! এরচেয়ে সবার চোখ ছিল বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি আর প্রচুর পানির সাপ্লাইওয়ালা দেশ ভারতের উপর।
বলে রাখা ভাল, তখনও মাটির নিচে তেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। অ্যামেরিকা নামের রাষ্ট্রের জন্মও তখনও হয়নি।
এখন নবীজির ইন্তেকালের পরপরই যে মুসলমানেরা মরুভূমি থেকে বেরিয়ে এসে হাজার বছরের পারস্য এবং রোমান (সেই সময়ের দুই সুপার পাওয়ার, বর্তমান অ্যামেরিকা এবং চায়নার মতন) সভ্যতার পতন ঘটিয়ে দিল - সেটা কেন, কী উদ্দেশ্যে ছিল? রোমানরা বা পার্সিরাতো আরবের ব্যপারে তেমন ইন্টারেস্টেড ছিল না। আমর ইবনে আস মিশর দখল করে ফেললেন। মিশরীয়রা কবে আরবদের জন্য থ্রেট ছিল? কিংবা ভারতের সিন্ধু প্রদেশে ব্যবসা করতে আসা কিছু মুসলিম বনিককে অপমানিত হতে হয়েছিল, ফলাফল ভারত আক্রমন এবং মুলতান শহরের পত্তন। উপমহাদের প্রথম মুসলিম শহর ছিল মুলতান, যেখানে আমরা অল্পের জন্য প্রথমবারের মতন টেস্ট জয়ের স্বাদ পেতে পেতে পাইনি।
যাই হোক, এইসব ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে সব জিহাদই "ডিফেন্সিভ" ছিল না। জ্বী, মুসলমানরা নিজেরা এগিয়ে গিয়েই সেসব সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়েছিল, এবং মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানেই আরব জংলি সমাজ থেকে উঠে এসে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সভ্যতায় পরিণত হয়েছিল।
এখন আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে, তাহলে কী ইসলাম তলোয়ারের মাধ্যমে প্রচার পেয়েছে? উত্তর হচ্ছে Hell No. যুক্তি সহজ, উপমহাদেশে কয়েকশ বছর ধরে মুসলমানেরা শাসন করেছে, তাহলে এখনও উপমহাদেশে কেন সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকসংখ্যা হিন্দু? ইতিহাস ঘাটুন, বঙ্গদেশে ইসলাম প্রচার পেয়েছে হজরত শাহজালালের (রঃ) মতন দরবেশদের হাত ধরে, মুসলিম শাসকরা প্রজাদের ধর্মের ব্যপারে হস্তক্ষেপ করেনি।
আরেকটা ব্যপার, যদি মুসলিমরা জোর করেই সবাইকে মুসলমান বানাতো, তাহলে প্রথম সুযোগেই সবাই ধর্মান্তরিত হয়ে যেত। মুঘলদের পরে উপমহাদেশে ইংরেজরা এলো, কয়টা মুসলমান আগের হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্মে ফেরত গিয়েছে? কিংবা কয়টা মুসলমান নতুন খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেছে? লজিক খাটান।
মিশরে এখনও একটা বড় অংশের জনসংখ্যা খ্রিষ্টান, কেন? ইরাক-মার্কিন যুদ্ধে সাদ্দাম হোসেনের ডান হাত তারিক আজিজের কথা কয়জনের মনে আছে? তিনি ছিলেন একজন ক্যাথলিক খ্রিষ্টান। লেবাননে যান, লাখে লাখে খ্রিষ্টান পাবেন। সবাই খাঁটি আরব। ইমিগ্র্যান্ট নন। পারস্যের পতনের পর একটাও অগ্নি পুজার মন্দির ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছিল? উহু, একটাও না। এবং আমার প্রিয় সাহাবী এবং খলিফা, হজরত উমার (রাঃ) যেদিন জেরুজালেমের পতন ঘটালেন, সেদিন তাঁর বাণী কী ছিল মনে আছে?
"তোমরা আমাদের ইবাদতে বাঁধা দিও না। আর কেউ যদি তোমাদের ইবাদতে বাঁধা দেয়, তাহলে সরাসরি আমাকে বল। আল্লাহর কসম, আমি ন্যায় বিচার পাইয়ে দিব।"
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, খলিফা উমারের (রাঃ) বিরুদ্ধে যাওয়ার কলিজা তাঁর রাজ্যে কারও ছিল না। এবং তাঁর রাজ্য কত বড় ছিল? আধুনিক বিশ্বের ম্যাপ হিসাবে ধরলে তিরিশটিরও বেশি দেশ!
তাহলে মুসলিমরা রাজ্য দখল করেছিল কেন?
একটাই কারন। সভ্যতা বিস্তারের সেটাই ছিল একমাত্র পথ। রোমানরা যেসব অঞ্চল দখল করেছে, সবাইকে রোমান বানিয়েছে। বাধ্যতামূলক। পার্সিরাও একই কাজ করেছে। ইংরেজরাও তাই। আজকে ব্রিটিশরা যদি ভারত দখল না করতো, তাহলে আমাদের দেশে এখনও হয়তো কোন আদালত থাকতো না, কাজির কাছে বিচার নিয়ে যেতে হতো। স্কুল কলেজে ইংরেজি শিখানো হতো না এবং চেয়ার টেবলে বসে খাওয়াও হতো না। ফ্যাক্ট!
আপনি ক্যানাডায় যান, দেখবেন এখনও অফিসিয়াল ভাষা ফ্রেঞ্চ। মেক্সিকোতে যান, সবাই স্প্যানিশে কথা বলছে। ব্রাজিলে পর্তুগিজ। আর অ্যামেরিকানরা ইংরেজিতে কথা বলে কেন বলে আপনার ধারনা? যারা সভ্যতা বিস্তার করতে পারেনি, তাদের ভাষা বা সংস্কৃতি কেবল তাঁদের দেশের সীমানাতেই বন্দী হয়ে আছে।
মুসলমানেরাও রাজ্য জয় করেছে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যেই। তবে রোমানদের মতন, বা পার্সিদের মতন নিজ ধর্ম চাপিয়ে দেয়া হয়নি। ঐ দুই সুপার পাওয়ারের মতন অন্যের ধর্ম চর্চায়ও বাঁধা দেয়া হয়নি। তুমি ইসলাম গ্রহণ করলে করবে, না করলে নাই। তবে এইটা জেনে রাখ, কেউ যদি ইসলাম ধর্ম চর্চা করে, তবে তাঁর উপর অত্যাচার করতে পারবেনা।
মুসলিমরাতো উল্টো ফার্সি ভাষা, উর্দু ভাষা, হিন্দি ভাষা এবং বাংলা ভাষা শিখে সেই সভ্যতারই অংশ হয়েছে। ইতিহাসতো সেটাই চিৎকার করে বলছে। সেদিন যদি তাঁরা রাজ্য জয়ে না বেরুতেন, আজকের মঞ্জুর মোর্শেদের নাম হতো মনোহর কান্তি বা এই জাতীয় কিছু - এবং গোমাংসের কী স্বাদ, সেটা হয়তো কখনই আমার জানা হতো না।
এখন অনেকেই বলবেন, তাহলে আইসিসতো একই ফিলোসফি ফলো করছে।
এখানেই বুঝা যায় কারা স্কুলের ধর্ম শিক্ষা পরীক্ষায় নকল করে পাশ করেছিল এবং কারা করেনি।
ইসলামের জয়যাত্রা প্রথম যে অভিযানের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল, সেই অভিযানের সেনাপতি আবু উবায়দা আমর ইবনে জাররাহকে (রাঃ) পথে হেঁটে যেতে যেতে ইসলামের পথম খলিফা আবু বকর (রাঃ) যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তাতে একটু দ্রুত চোখ বুলানো যাক। দেখা যাক, আইসিস বা তার সঙ্গপাঙ্গরা কতখানি খলিফার পথে আছে।
"নিজের প্রতি যত্নশীল থেক এবং নিজের সেনাবাহিনীর প্রতিও। কখনই নিজের প্রতি বা নিজের সেনাবাহিনীর প্রতি কঠোর হয়ও না এবং নিজের পরিকল্পনা নিয়ে তাঁদের সাথে আলোচনা করো। ন্যায়ের পথে থেক, অন্যায়কে এড়িয়ে চলো এবং মনে রেখ অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া কোন জাতিই কখনও উন্নতি করেনি; এবং কোন বাহিনীই, যারা অত্যাচার করে, কখনও নিজের শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে জিততে পারেনি।
যখন শত্রুর মুখোমুখি হবে, পিঠ দেখিয়ে পালিও না, কারন যে সেটা করে, সে আল্লাহর দরবারে অভিশপ্ত হয়, যদিনা সে রণকৌশলের খাতিরে পিছু হটে থাকে।
এবং যখন তুমি তোমার শত্রুপক্ষকে হারিয়ে দিবে, তাঁদের স্ত্রীদের মেরো না, না তাঁদের সন্তানদের বা বৃদ্ধদের এমনকি তাঁদের পশুদেরও - যদি না সেসব পশুকে হালাল উপায়ে তোমাদের খাবার প্রয়োজন পরে।
এবং খবরদার! কখনই ওদের কাছে দেয়া তোমাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো না।
এবং তোমরা এমন এক দলের সাক্ষাৎ পাবে, যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যের উপাসনা করে। ওদের আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিও - এবং তাঁদের উপাসনাস্থল ধ্বংশ করো না।
এবং যখন অস্ত্রধারী শত্রুর মুখোমুখি হবে, তখন নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে লড়ো, ইন শা আল্লাহ, বিজয় তোমাদের হবে।"
আইসিস কী আবু বকরের (রাঃ) প্রতিটা নির্দেশ ভঙ্গ করেনি?
তাছাড়া ইসলামের জিহাদের যে নাম্বার ওয়ান শর্ত, একজন সর্বজন স্বীকৃত খলিফা থাকতে হবে - সেটাই বা তারা কতটুকু মেনেছে?
যাই হোক, শেষে একটাই কথা বলি, অতি সহজ লজিক ভাই, মাথায় একটু ঘিলু থাকলেই যা বুঝতে পারার কথা, ইসলামে যদি সন্ত্রাসবাদ লিগ্যাল থাকতো, তাহলে বিশ্বজুড়ে এক বিলিয়ন মুসলিম বসে বসে আঙ্গুল চুষতো না। কবেই সবাইকে মেরে সাফ করে দিত এবং তা করতে করতে নিজেরাও সাফ হয়ে যেত।
আইসিস, বকো হারাম বা আল কায়েদার সংখ্যা পৃথিবীতে কয়টা? এক বিলিয়নের তুলনায় কত শতাংশ।
হিসাবটা এইবার মিলান অ্যামেরিকার মোট জনসংখ্যার সাথে ছোট বড় বিভিন্ন গ্যাং, সিরিয়াল কিলার, সিরিয়াল রেপিস্ট ইত্যাদির সাথে। অনুপাতের হিসাবটা পরের দলের জন্যই লজ্জাজনক হবে।
একটা ভিডিওতে দেখলাম প্যারিসের রাস্তায় এক মুসলিম যুবক চোখে স্কার্ফ বেঁধে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছে। নিচে কাগজে লেখা, আমি একজন মুসলিম, এবং কোন সন্ত্রাসী নই। যদি তুমি আমাকে বিশ্বাস করো, তবে Give me a hug.
ঝাকে ঝাকে মানুষ যুবককে জড়িয়ে ধরেছে। কেউ কেউ তাঁকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদেছে। একজনকেও দেখলাম না তাঁকে ভর্ত্সনা করতে।
জ্বী ভাই, আমরা গর্বিত যে আমরা মুসলিম। আজ যদি আইসিস বা এই জাতীয় কোন সন্ত্রাসী দল কোন ব্যস্ত শহরের রাস্তায় সন্ত্রাসী হামলা করে, তবে মৃতের তালিকায় অবশ্যই আমাদের কারও না কারও নাম থাকবে। আমরা "মুসলিম" বলে ওরা যে আমাদের ছেড়ে দেয় এমন ভাববার কোনই কারণ নেই। সিরিয়ায়, লেবাননে, ফিলিস্তিনে, ইরাকে, পাকিস্তানে, মায়ানমারে, এবং এইরকম কয়েকশ দেশে প্রতিদিনই আমরা মরছি। আমরাও এইসব সন্ত্রাসীদেরই হামলার শিকার হচ্ছি। এমনকি যেসব মাথা নষ্ট মূর্খ এদের সমর্থন করে, তারাও কিন্তু এদের হাত থেকে বাঁচতে পারবে না। আজকে যারা প্যারিসের হামলার ঘটনায় আনন্দে দাঁত ক্যালাচ্ছেন, কাল হয়তো ইংল্যান্ডে কিংবা বাংলাদেশে এদের হামলার ঘটনায় আপনারই কোন স্বজন মারা যাবে। মরবেই, আল্লাহ এইভাবেই বিচার করেন। তখন কিন্তু হায় হায় করেও কোন কূল পাবেন না।
সবাইকে আল্লাহ জ্ঞান দান করুন। সবাইকে আল্লাহ বিবেক ও বুদ্ধি দান করুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




