somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"জয় অ্যামেরিকা। জয় ডেমোক্রেটস!"

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্যানভাসে গালাগালি করা নিষেধ। অ্যাডমিন হিসেবে গালাগালি করলে আমাকেই ব্যান করা হবে। অ্যাডমিন, অ্যাডমিনের আব্বা, আম্মা এমনকি বউ বাচ্চা হলেও কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়, ক্যানভাস এই ব্যপারে আপোষহীন।
তাই ফিল্টার করেই বলছি ডোনাল্ড ট্রাম্প একটা মাথামোটা, উন্মাদ, "....""....""...."।
এখন পাঠক নিজের গালাগালির শব্দ ভান্ডার থেকে উপযুক্ত শব্দ চয়ন করে শুন্যস্থান পূরণ করুন। যদি শব্দ শর্ট পরে, তাহলে নিজের পরিচিত রিক্সাওয়ালার সাহায্য নিন, তাঁরা আপনাকে হতাশ করবেন না।
তা যা বলছিলাম, "...."টা কিছুদিন আগে প্রস্তাব করেছে "অ্যামেরিকান মুসলিমদের আলাদা ব্যাজ ধারন করতে হবে। সব ফান্ডামেন্টালিজমের জড় হচ্ছে মসজিদ, কাজেই সব মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হবে। ঘেউ ঘেউ ঘেউউউ।"
এমনিতে কে কী বলল না বলল তাতে কিছু আসে যায় না, তবে এই ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, এই "...."টাই আগামী প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশনে দেশের অন্যতম প্রধান দলের হয়ে ইলেকশনে লড়বে। এর বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছেন ক্লিন্টন পত্নী হিলারি, এবং অ্যামেরিকানরা নারীর অধিকার নিয়া যতই ফালাফালি করুক না কেন, আজ পর্যন্ত রাজগদিতে কিন্তু একটাও মহিলাকে বসায়নি। জ্বী, ভিতরে ভিতরে এরাও আর অন্যান্য দশটা পুরুষবাদী সমাজের প্রতিনিধি - আমরাই বুঝিনা। কাজেই, ধরে নেয়া যেতে পারে, এই "...." ডোনাল্ড ট্রাম্প একটা সময়ে অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েও যেতে পারে এবং যদি তা হয়, তাহলে খবরই আছে।
সেটা ভবিষ্যতের জন্য তোলা থাক। আপাতত এই ফকিরনির কথাগুলো পরিচিত মনে হচ্ছে? জ্বী, অনেক বাঙালি বেকুবের কাছে সুপারহিরো, শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভিলেন, মহামতি জনাব হিটলার সাহেব আজ থেকে আশি নব্বই বছর আগে নিজ দেশের ইহুদিদের এই একই নির্দেশনাই দিয়েছিলেন। তারপর কী ঘটেছিল সেটা ইতিহাস।
হিটলারবধের মহানায়ক, মানব প্রজাতির আরেক কলংক এবং অনেক বাংলাদেশী আতেলদের কাছে সুপারহিরো জোসেফ স্তালিনও একই কান্ড করেছিল নিজ দেশ রাশিয়ায়। দেশের সব গির্জা বন্ধ। পাদ্রীদের ধরে ধরে জেলে ভরো। ম্যারি, জিসাস মাতাপুত্রের কারও ছবিই কারও বাড়িতে থাকতে পারবেনা। বদলে স্তালিনের ছবি রাখতে হবে, পূজা করতে হলে স্তালিনেরই পূজা করতে হবে। অন্য ধর্মের হলেতো কথাই নেই, সরাসরি মৃত্যুদন্ড। জ্বী, এই রামছাগলটা নিজের দেশের মানুষের কাছে নিজেকে ঈশ্বর ঘোষণা করেছিল। ঠিক যেমনটা উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন পিতা পুত্র করছে। ঠিক যেমনটা হাজার বছর আগে মিশরের ফেরাউন করেছিল।
মজার ব্যপার হচ্ছে, হিটলার যখন রাশিয়া আক্রমন করেছিল, তখন এই স্তালিনই সব গির্জা খুলে দিয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেছিল। হিটলার ছিল এমনই চিজ!
যাই হোক, ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনীতির সেই অতি পুরানো খেলাটাই খেলছে - একটা কমন শত্রু তৈরী করো, তারপর একদল বেকুবকে ওদের বিরদ্ধে উস্কে দাও। তুমি রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে যাবে।
হিটলার করেছিল ইহুদিদের বিরুদ্ধে, অ্যামেরিকা এখনও করছে কমিউনিস্ট ও একনায়কদের বিরুদ্ধে, পুরো বিশ্ব করছে অ্যামেরিকার বিরুদ্ধে, বিজেপি ও শিবসেনা করছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে এবং জামাতে ইসলামী ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা করছে হিন্দুদের বিরুদ্ধে। এবং আফসোসের সাথে দেখতে হচ্ছে, প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রেই এরা সফল।
ট্রাম্প .....টা (ছাপার অযোগ্য) ভুলে যাচ্ছে অ্যামেরিকার জন্ম কিভাবে হয়েছিল। "all men are created equal" অ্যামেরিকান declaration of independence এর দ্বিতীয় প্যারার প্রথম বাক্যাংশই এটি। এই দেশের স্কুল কলেজে পড়াতে পড়াতে মাথায় ঢুকিয়েই ছাড়ে। ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর ভিত্তি করেই দেশটি গড়ে উঠেছিল, এবং এখনও যে স্ট্যান্ডার্ড সে সফলভাবেই বজায় রেখেছে। এইদেশে ক্যাথলিক খ্রিষ্টান লোক আছেন, ইহুদি আছেন, মুসলিম আছেন, হিন্দু আছেন এমনকি শয়তানের উপাসনাকারীও আছেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় শয়তানের উপাসনার জন্য গড়া প্রথম মন্দিরের প্রধান পূজারী ছিলেন ইউএস মিলিটারির একজন অ্যাকটিভ সদস্য - যার পদবি ছিল কর্নেল। যে দেশের Pledge of Allegiance'র একটি লাইন যেখানে one Nation under God, যে দেশের অফিসিয়াল মটো In God we trust (ডলারের পিঠে বড় বড় করে ছাপা - মিলিয়ে দেখতে পারেন) সেই দেশেরই মিলিটারী কর্নেল একজন সাইটানিস্ট। বিশ্বাস হয়? কারন, ধর্মের ব্যপারে এই দেশ কখনই নাক গলায় না। অথচ এই .....(ছাপার অযোগ্য) .....(ছাপার অযোগ্য) .....(ছাপার অযোগ্য) ট্রাম্প কিনা প্ল্যান করছে ধর্মের ভিত্তিতে দেশ চালাবে! দাবি করছে এই দেশে আশ্রয়প্রার্থী রিফিউজিদের একটা ফিল্টারের ব্যবস্থা করা হোক, শুধু খ্রিষ্টান রিফিউজিদেরই যেন এইদেশে ঢুকতে দেয়া হবে, মুসলিম হলেই বাদ।
ফকিরনির দাদা কোত্থেকে এসেছে? ইউরোপ থেকে যখন লাথি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল, তখন এই অ্যামেরিকাই তাকে আশ্রয় দিয়েছিল। তখন যদি ফিল্টার সিস্টেম চালু থাকতো, তাহলে তার দাদাই বাদ যেত এবং এখন ইউরোপের কোন এক দেশে হয়তো মরে পড়ে থাকতো।
জ্বী, ক্যাথলিকদেরও অ্যামেরিকা পছন্দ করতো না। এই দেশের সৃষ্টি পিউরিটানদের দিয়েই। যে কারনে জন এফ. কেনেডি যখন প্রেসিডেন্ট হচ্ছিলেন, সবাই আতঙ্কে ছিল এই না চার্চ অ্যান্ড স্টেটের মধ্যকার ব্যবধান ঘুচিয়ে দেয়! কেনেডি ছিলেন রোমান ক্যাথলিক।
আশার কথা সাধারন অ্যামেরিকানদের একটা বড় অংশ মাথার ঘিলু খাটানো পাবলিক। যখনই ট্রাম্প ও তার (নোটিস করুন, চন্দ্রবিন্দু দেইনি, ঠিক যেমনটা রাজাকারদের ক্ষেত্রে দেই না) চ্যালারা ফালাফালি শুরু করে, তখন এই সাধারণ অ্যামেরিকান "নাস্তিক" ও "খ্রিষ্টানরাই" প্রতিবাদ করে বলেন, "This is not American!"
কয়েকজন আরও অবাক হয়ে বলেন, "আমি জীবনেও কল্পনা করিনি অ্যামেরিকায় বসে আমি এধরনের রেসিয়াল মন্তব্য শুনবো!"
যাই হোক, যারা যারা এখনও সাম্যবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, তারা জেনে নিন, যেকোন সময়ে যেকোন দেশে আপনার নিজের সম্প্রদায়ের লোকেরাও বৈষম্যের শিকার হতে পারে। আপনি যদি অন্যায়কে অন্যায় হিসেবে না দেখেন, তাহলে একদিন সেই অন্যায়ই আপনার কিংবা আপনার কাছের মানুষদের বিরুদ্ধেই ঘটবে। ইহাকেই কেহ কেহ কার্মা বলিয়া থাকেন, কেহবা বলেন আল্লাহ বা প্রকৃতির বিচার।
"জয় অ্যামেরিকা। জয় ডেমোক্রেটস!"
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:২৮
৮টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রবাদ প্রবচন ও আলী ভাইয়া, জী এস ভাইয়া, খায়রুলভাইয়া ও সত্যপথিকভাইয়াদের পোস্ট..... এই আমি অপ্সরা

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২২


এই অপ্সরা শুধু একটা নিকই না। জীবনের একটা অংশের নাম। জীবনটা শুরু হয়েছিলো যবে থেকে তার পর ৫/৬ বছর থেকেই জীবনের নানা ক্ষনের নানা মানের উদ্দেশ্য বিধেয় ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

Somewhereinblog.net: বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ থেকে ডিজিটাল পাবলিশিং এ পরিনত করে সাবলম্বি করার লক্ষ্যে একটি খসড়া প্রস্তাবনা ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯


একজন নিয়মিত ব্লগার হিসেবে প্রতিদিনই লক্ষ্য করি, Somewhereinblog.net (সামু) বাংলা সাহিত্য, অভিজ্ঞতা ও তথ্যভিত্তিক লেখার এক বিশাল আর্কাইভে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটি কঠিন বাস্তবতাও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×