কুরাইশরা সেনাবাহিনী নিয়ে মদিনা আক্রমণের জন্য রওনা দিয়ে দিয়েছে। যে গতিতে তারা এগুচ্ছে, দুই একদিনের মধ্যেই শহরে পৌঁছে যাবার কথা। কুরাইশদের যুদ্ধনীতি হচ্ছে যে তাদের কোন যুদ্ধনীতি নেই। শহরে পৌঁছে তারা যে কাউকে সামনে পাবে, হোক সে বৃদ্ধ-শিশু কিংবা নারী - স্রেফ খুন করে ফেলবে। কাজেই ওদের বাঁধা দিতে হবে শহরের বাইরেই।
তাই ওহুদের ময়দানে দ্রুত পৌঁছাবার জন্য হজরত মুহাম্মদ (সঃ) মুসলিম সেনাবাহিনী নিয়ে জুম্মার নামাজ শেষ করেই "গলি পথে" (শর্টকাট) রওনা হলেন। "হাইওয়ে" ধরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে অনেক সময় চলে যাবে। তারচেয়ে বড় কথা, কুরাইশদের কাছে খবর পৌঁছে যাবে যে তাঁরা শহরের বাইরে আসছে। যুদ্ধে শত্রুর কাছে কোন রকমের তথ্যই পাচার হতে দেয়া বোকামি।
তো গলিপথে যাবার সময়ে এক অন্ধ বৃদ্ধের বাড়ির সামনে দিয়ে তাঁরা যাচ্ছিলেন। এতলোকের পদধ্বনি শুনতে পেয়ে লোকটা চিৎকার জুড়ে দিল, "কে যায়? মুহাম্মদ (সঃ) আর তাঁর চ্যালারা? খবরদার! আমার উঠানে একদম পা রাখবা না!"
বলে লোকটা পাথর ছুড়ে মারতে লাগলো।
সাহাবীরা তখন যুদ্ধের মুডে আছেন। যুদ্ধের নিয়মই হচ্ছে শত্রুর প্রাণ হরণ। এই বুড়োও তখন কোন বন্ধুত্বপূর্ণ কর্মকান্ড করছে না। এমনিতেও মদিনায় তখন মুনাফিকরা বড্ড যন্ত্রনা করছে। কাজেই এক সাহাবী নিজের তলোয়ারের হাতলে হাত দিলেন।
নবী (সঃ) সাথে সাথে বললেন, "ওকে ওর মতন ছেড়ে দাও। ও চোখ থেকে যেমন অন্ধ, অন্তর থেকেও তাই।"
একজন লোক, কিংবা এক দল লোক, কিংবা একটি দেশসুদ্ধ লোক যদি ইসলামের দিকে পাথর ছুড়ে মারে, তাতে ইসলামের কিছুই যাবে আসবেনা। কেন জানেন? আল্লাহ বলেছেন তিনি নিজে এর প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন। আমার যথেষ্ট বিশ্বাস আছে তাঁর উপরে। কথা হচ্ছে, আপনার আছেতো? থাকলে ঐ বৃদ্ধের মতন ওদেরকে ওদের মতন ছেড়ে দিন। লেট আল্লাহ টেক কেয়ার অফ দেয়ার বিজনেস। শুধুশুধু নিজের সময় অপব্যয়ের কোন মানে আছে?
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৩:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



