বাংলাদেশের কোন বাঙালিকে যদি বলি "ফুল" উচ্চারণ করতে, তাহলে সে অবশ্যই উচ্চারণ করবে fool. এ উচ্চারণ শুনে শান্তিনিকেতনি বা নদীয়া অঞ্চলের বাঙালিরা হেসে গড়াগড়ি খাবেন। কারন আসল উচ্চারণ হচ্ছে, phool. বাংলা ভাষায় "fo" বলে কোন শব্দ নেই, "pho" হবে।
"ফাঁক" শব্দটি যেমন হবে "phank" - ইংলিশ দুষ্ট শব্দটি নয়।
আবার ওপার বাংলায় কিছু উচ্চারণ আমাদের কাছে উদ্ভট লাগে। "সেটা"কে (Sheta) তাঁরা উচ্চারণ করেন, "seta" - সাপকে (Shaap) ডাকেন saap। Sh কে তাঁরা S উচ্চারণ করেন।
গ্রামবাংলায় "ছ"কে ইংরেজি S এর মতন উচ্চারণ করেন। "ছাতি" হয়ে যায় "satti."
কেউ কেউতো "সোনিয়া" নামের বানান লিখেন "ছনিয়া।" শামসুর রহমান হয়ে যান "শামছুর" রহমান।
তা এখন কেউ যদি এসে দুই বাংলার লোকেদেরই শুদ্ধ উচ্চারণ শিখিয়ে দেন, তাহলে তাঁকে নিয়ে কী হাসাহাসি করা উচিৎ।
কোন বিষয়েই হাসি মজাক করার আগে আমাদের কী উচিৎ না একটু ভাবা যে আমি যা নিয়ে হাসতে চলেছি, কারনেই হাসছিতো?
ধরা যাক আমি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, এবং আমি খাস বাঙাল উচ্চারনে গাইছি "foole foole ঢ'লে ঢ'লে বহে কি'বা মৃদু বায়।"
শ্রুতিকটু ঠেকতে আমাকে কলকাতা পর্যন্ত যেতে হবেনা, দেশেরই অনেকে আমাকে উচ্চারণ শুধরাতে বলবেন। এখন আমি যদি বলি, "fool কে fool ডাকবো, Phool ডাকতে পারবো না। কী করবি তুই?"
অথবা হাসাহাসি শুরু করে দিলাম।
"শুনছিস, ব্যাটা fool কে phool বলতে বলতেছে। হাহাহা।"
তাতে লাভের লাভ কারোরই হবেনা, ক্ষতি হলেও হতে পারে।
এখন কিছু আরবি শব্দ নিয়ে দেশে তোলপাড় চলছে। এবং যথারীতি, ফেসবুক এ নিয়ে সয়লাব। যেমন আমরা জন্ম থেকে জেনে এসেছি রমজান, কিন্তু সঠিক আরবি উচ্চারণ হচ্ছে রামাদান। "ওযু"কে "উদু" বললে দেশের কেউ বুঝবে না, আবার উদুকে ওযু ডাকলে বিদেশী কেউ বুঝবেনা।
কী করা যায় এখন?
ওযুকে উদু ডাকলে, বা রমজানকে রামাদান ডাকলে কী এক্সট্রা সওয়াব পাওয়া যায়?
যেমন আমরা সালাতকে "নামাজ" এবং ইংলিশে "প্রেয়ার" ডেকে অভ্যস্ত। এতে কী সোয়াবের কম বেশি কিছু ঘটে?
হ্যা, যদি না জানি যে কুরআনে বারবার "সালাত আদায় করো" বলতে আসলে "নামাজ পরার" কথা বলা হয়েছে, তাহলে সমস্যা। কাজেই, ভোকাবুলারি যত সমৃদ্ধ হবে, তত লাভ।
কুরআনে "রামাদান" বলা হয়েছে (বাকারা, আয়াত ১৮৫)। কুরআন পড়ার সময়ে আমি যদি "রমজান" উচ্চারণ করি, তাহলে চলবেনা। কুরআনকে আমার সেভাবেই পড়তে হবে যেভাবে তা নাজেল হয়েছে। একদম খাস ক্লাসিক কুরাইশী উচ্চারনে - মদিনা বা ইয়ামেনী উচ্চারনেও নয়।
কিন্তু আমি যদি আমার দেশি বন্ধুর সাথে কথা বলার সময়ে অভ্যাস মতন "রমজান" বলি, তাহলেতো সমস্যা নেই। একই সাথে, আমার আরব বন্ধু, যে "রমজান" বুঝেনা, তাঁকেতো "রামাদান" বলতেই হবে।
শব্দগুলোর সাথে পরিচিত থাকা ভাল। যাতে কনফিউজড না হয় কেউ।
"রমজান" শব্দটা ফার্সি থেকে উর্দু হয়ে আমাদের দেশীয় শব্দে মিশেছে। যারা কট্টরপন্থী বাংলাদেশী, বাংলাভাষা থেকে উর্দুর নাম গন্ধ দূর করে দিতে চান, তাঁদেরই অনেককে আবার দেখছি আল্ট্রা কনজারভেটিভ হয়ে এই শব্দটিকে প্রটেক্ট করতে। তাঁরা একটু ভেবে দেখবেন কী?
বাংলাদেশকে বিদেশিরা, কিংবা বিদেশে বড় হওয়া বাংলাদেশি সন্তানরা "ব্যাংলাডেস" বললে তাহলে খেপে উঠেন কেন।
এটি স্রেফ উচ্চারণগত ব্যাপার। টেক ইট ইজি। হাসি মজাক করার কিছু নেই।
ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১৭ রাত ৩:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




