somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অযুকে উদু বা রমযানকে রামাদান ডাকা নিয়ে হাসি তামাশা যারা করেন।

২২ শে জুন, ২০১৭ রাত ৩:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের কোন বাঙালিকে যদি বলি "ফুল" উচ্চারণ করতে, তাহলে সে অবশ্যই উচ্চারণ করবে fool. এ উচ্চারণ শুনে শান্তিনিকেতনি বা নদীয়া অঞ্চলের বাঙালিরা হেসে গড়াগড়ি খাবেন। কারন আসল উচ্চারণ হচ্ছে, phool. বাংলা ভাষায় "fo" বলে কোন শব্দ নেই, "pho" হবে।
"ফাঁক" শব্দটি যেমন হবে "phank" - ইংলিশ দুষ্ট শব্দটি নয়।
আবার ওপার বাংলায় কিছু উচ্চারণ আমাদের কাছে উদ্ভট লাগে। "সেটা"কে (Sheta) তাঁরা উচ্চারণ করেন, "seta" - সাপকে (Shaap) ডাকেন saap। Sh কে তাঁরা S উচ্চারণ করেন।
গ্রামবাংলায় "ছ"কে ইংরেজি S এর মতন উচ্চারণ করেন। "ছাতি" হয়ে যায় "satti."
কেউ কেউতো "সোনিয়া" নামের বানান লিখেন "ছনিয়া।" শামসুর রহমান হয়ে যান "শামছুর" রহমান।
তা এখন কেউ যদি এসে দুই বাংলার লোকেদেরই শুদ্ধ উচ্চারণ শিখিয়ে দেন, তাহলে তাঁকে নিয়ে কী হাসাহাসি করা উচিৎ।
কোন বিষয়েই হাসি মজাক করার আগে আমাদের কী উচিৎ না একটু ভাবা যে আমি যা নিয়ে হাসতে চলেছি, কারনেই হাসছিতো?
ধরা যাক আমি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, এবং আমি খাস বাঙাল উচ্চারনে গাইছি "foole foole ঢ'লে ঢ'লে বহে কি'বা মৃদু বায়।"
শ্রুতিকটু ঠেকতে আমাকে কলকাতা পর্যন্ত যেতে হবেনা, দেশেরই অনেকে আমাকে উচ্চারণ শুধরাতে বলবেন। এখন আমি যদি বলি, "fool কে fool ডাকবো, Phool ডাকতে পারবো না। কী করবি তুই?"
অথবা হাসাহাসি শুরু করে দিলাম।
"শুনছিস, ব্যাটা fool কে phool বলতে বলতেছে। হাহাহা।"
তাতে লাভের লাভ কারোরই হবেনা, ক্ষতি হলেও হতে পারে।
এখন কিছু আরবি শব্দ নিয়ে দেশে তোলপাড় চলছে। এবং যথারীতি, ফেসবুক এ নিয়ে সয়লাব। যেমন আমরা জন্ম থেকে জেনে এসেছি রমজান, কিন্তু সঠিক আরবি উচ্চারণ হচ্ছে রামাদান। "ওযু"কে "উদু" বললে দেশের কেউ বুঝবে না, আবার উদুকে ওযু ডাকলে বিদেশী কেউ বুঝবেনা।
কী করা যায় এখন?
ওযুকে উদু ডাকলে, বা রমজানকে রামাদান ডাকলে কী এক্সট্রা সওয়াব পাওয়া যায়?
যেমন আমরা সালাতকে "নামাজ" এবং ইংলিশে "প্রেয়ার" ডেকে অভ্যস্ত। এতে কী সোয়াবের কম বেশি কিছু ঘটে?
হ্যা, যদি না জানি যে কুরআনে বারবার "সালাত আদায় করো" বলতে আসলে "নামাজ পরার" কথা বলা হয়েছে, তাহলে সমস্যা। কাজেই, ভোকাবুলারি যত সমৃদ্ধ হবে, তত লাভ।
কুরআনে "রামাদান" বলা হয়েছে (বাকারা, আয়াত ১৮৫)। কুরআন পড়ার সময়ে আমি যদি "রমজান" উচ্চারণ করি, তাহলে চলবেনা। কুরআনকে আমার সেভাবেই পড়তে হবে যেভাবে তা নাজেল হয়েছে। একদম খাস ক্লাসিক কুরাইশী উচ্চারনে - মদিনা বা ইয়ামেনী উচ্চারনেও নয়।
কিন্তু আমি যদি আমার দেশি বন্ধুর সাথে কথা বলার সময়ে অভ্যাস মতন "রমজান" বলি, তাহলেতো সমস্যা নেই। একই সাথে, আমার আরব বন্ধু, যে "রমজান" বুঝেনা, তাঁকেতো "রামাদান" বলতেই হবে।
শব্দগুলোর সাথে পরিচিত থাকা ভাল। যাতে কনফিউজড না হয় কেউ।
"রমজান" শব্দটা ফার্সি থেকে উর্দু হয়ে আমাদের দেশীয় শব্দে মিশেছে। যারা কট্টরপন্থী বাংলাদেশী, বাংলাভাষা থেকে উর্দুর নাম গন্ধ দূর করে দিতে চান, তাঁদেরই অনেককে আবার দেখছি আল্ট্রা কনজারভেটিভ হয়ে এই শব্দটিকে প্রটেক্ট করতে। তাঁরা একটু ভেবে দেখবেন কী?
বাংলাদেশকে বিদেশিরা, কিংবা বিদেশে বড় হওয়া বাংলাদেশি সন্তানরা "ব্যাংলাডেস" বললে তাহলে খেপে উঠেন কেন।
এটি স্রেফ উচ্চারণগত ব্যাপার। টেক ইট ইজি। হাসি মজাক করার কিছু নেই।
ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১৭ রাত ৩:৩২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×