somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিল্ক ব্যাংক

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৩:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেসবুকে প্রচন্ড হাউকাউ শুরু হয়েছে হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক নিয়ে। ইসলামে নাকি মিল্ক ব্যাংক হারাম, তাই বাংলাদেশে এ বেশরিয়তী কর্মকান্ড বন্ধের জন্য আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে।
সমস্যা হচ্ছে, "হারাম" শব্দটাকে আমাদের সাধারণ মুসলিমরা এমনভাবে ব্যবহার করেন, যেন এটি খুবই ঠুনকো একটি শব্দ। যে কেউ, যখন তখন, যে কোন কিছুকে হারাম ঘোষণা করতে পারে!
অথচ এটি অত্যন্ত সেনসিটিভ বিষয়। এবং হারাম শব্দটিও এত শক্তিশালী যে, যেকোন রামশ্যাম জদু মদুর অধিকার নেই এ নিয়ে খেলার। ইসলাম ফিকহ শাস্ত্র অতি অতি জটিল বিষয়। এর প্রধান নিয়ম হচ্ছে, কোন কিছুকে হারাম ঘোষণার আগে এটি কেন হালাল নয়, তা আপনাকে প্রমান করতেই হবে।
আমি কোন ইসলামিক পন্ডিত নই। তবে কিছু ব্যাপার নিজের যেটুকু পড়াশোনা আছে, তার উপর ভিত্তি করে বলতে চাই। বাকি স্কলাররা বুদ্ধি বিবেচনা করে দেখবেন।

আগে দেখা যাক মিল্ক ব্যাংক বিষয়টা আসলে কী। এটি হচ্ছে এমন এক প্রতিষ্ঠান যেখানে মায়েরা তাঁদের দুধ জমা রাখতে পারবেন, যাতে মায়ের দুধের অভাবে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে সুস্থ সবল জীবন পেতে পারে।

এখন কিছু বিষয় ভেঙ্গে চুড়ে বলি।
যেকোন মুসলিম জানেন যে আমাদের নবী (সঃ) শৈশবে সুয়াইবা নামের এক নারীর দুগ্ধ পান করতেন, এবং এর কিছুদিনের মধ্যেই হালিমার দুধ পান করে বেঁচে ছিলেন। দুধ মাতা কনসেপ্টটা তখনকার আরব সমাজে অতি সাধারণ ঘটনা ছিল। নবীর নিজেরও কয়েকজন দুধ সম্পর্কীয় আত্মীয় ছিলেন, সাহাবীদের ক্ষেত্রেও তাই ছিল। তাহলে দেখা যাচ্ছে, অন্যের দুধ পান করা আমাদের ধর্মে নিষেধ না, উল্টো প্রশংসার বিষয়।
আপনার বুকের অতিরিক্ত দুধ, যা অব্যবহারে নষ্ট হয়ে যাবে, এর বিনিময়ে আপনি কিছু শিশুর জীবন রক্ষা করতে পারলে কেন আপনি সেটা করবেন না? এতেতো সোয়াব হবে।

তাহলে ইসলাম আপত্তি করছে কোথায়?
দুধ সম্পর্কীয় মাতা ও বোনের সাথে বিয়ে ইসলামে কড়াভাবে নিষেধ করা হয়েছে। মূলত, আপন রক্তের সম্পর্কীয় মা ও বোনের সাথে দুধ সম্পর্কের মা ও বোনের মাঝে এক্ষেত্রে কোন ব্যবধান টানেনি ইসলাম। কিন্তু এখানেও একটি বিষয় চরমভাবে লক্ষ্যণীয়, ইসলাম দুধ সম্পর্কের ভাই/বাবা - বোন/মায়ের বিয়ে নিষেধ করেছে, কিন্তু দুগ্দ্ধ পান নিষেধ করেনি। তাহলে এখানেও হালাল হারাম ঘোষণা করতে হলে এই বিষয়টাই মাথায় রাখতে হবে। আস্ত মিল্ক ব্যাংককে আপনি হারাম ঘোষণা করতে পারেন না, তাদের রেকর্ড কিপিং সিস্টেমকে হারাম ঘোষণা করতে পারেন।

তাহলে, এমন পরিস্থিতিতে আরবরা কী করতো? ভালভাবে জেনে রাখতো কে কার দুধ মা, এবং সেই সম্পর্ক মেইনটেইন করতো। অতি সহজ সমাধান।
চৌদ্দশো বছর আগের জাহেলী আরবরা যদি এই কাজ করতে পারে, এই অতি আধুনিক যুগে আমরা সেটা করতে পারবো না? কম্পিউটারে একটা সফ্টওয়্যার লাগবে, যে লগে হিসেব রাখবে কে কার দুধ খেয়েছে। এই রেকর্ড আর্কাইভড হয়ে থাকবে। এবং যখন প্রয়োজন হবে, তখন ডাটাবেসে নাম, পিতা/মাতার নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ ইত্যাদি দিয়ে সার্চ দিলেই বেরিয়ে আসবে কে কার কার দুধ পান করেছে।
খুব কী কঠিন কিছু? মোটেও না। কম্পিউটার সায়েন্সের আন্ডারগ্র্যাড ছাত্রও এমন সফ্টওয়্যার বানিয়ে দিতে পারবে চাইলে।
আরেকটা সমাধান হতে পারে এই যে একটি শাখায় কেবলমাত্র ছেলে সন্তানদের দুধ বিক্রি ও পান করানো হবে, আরেকটা শাখায় কেবলই মেয়েদের। ডোনার যারা হবে, তাঁরা দুইটাতেই দান করতে পারবেন না। তাহলে আর প্যাঁচ লাগবে না।
সবচেয়ে বড় কথা, যার মনে সন্তান বাঁচানোর চাইতে তাঁর বিয়েতে গিট্টু প্যাচাঁবে, এই হচ্ছে কনসার্ন, তাঁরা ইচ্ছা করলেই এই মিল্ক ব্যাংক থেকে দুধ নিবেন না। আমার আশেপাশে মদের দোকান আছে, সস্তায় অনেক উন্নতমানের মদ বিক্রি হয়। তাই বলে কী আমি মদ কিনে খাওয়া শুরু করে দিব? কী সব বলদের মতন কথাবার্তা? মুসলিম ছাড়াও দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, উপজাতি ও অন্যান্য ধর্মের লাখে লাখ মানুষ আছেন। তাঁদেরও বাচ্চা আছে, যাদের মাতৃদুগ্ধের প্রয়োজন হয়, তাঁরা বেনিফিটেড হতে পারেন।
আরও অনেক অনেক সমাধান আছে। মাথা খাটালেই পাবেন। তবে তার আগে শান্ত হয়ে বসে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করতে হবে।
"বিয়েতে গিট্টু পাকিয়ে যাবে" - বিষয়টাকে এইভাবে না দেখে বরং "লাখে লাখে শিশুর প্রাণ রক্ষা সম্ভব" এইভাবে দেখতে শিখুন। তাহলেই দেখবেন কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ীই সমাধান আছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৩৯
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×