somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

করোনা ভাইরাস

৩০ শে জানুয়ারি, ২০২০ ভোর ৬:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম "করোনা ভাইরাস।" ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবাণু, অথচ কী ভয়ংকর এর ক্ষমতা। খাদ্য শৃঙ্খলের সবচেয়ে উপরের প্রাণী, সভ্যতা ও ক্ষমতার দম্ভ করে বেড়ানো মানুষদের একেবারে নাকানি চুবানি দিয়ে ছাড়ে! আমার বড় ছেলের জন্মের সময়ে "ইবোলা" খুব যন্ত্রনা করেছিল, এখন ছোটটার জন্মের সময়ে করোনা করছে।

এখন কিছু জরুরি কথা বলা যাক।
সবার আগে বৈজ্ঞানিক আলাপ শালাপ।

যেকোন ভাইরাস থেকে বাঁচতে প্রথমেই যেটা করতে হবে তা হচ্ছে, সেটা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা। এইচআইভি ভাইরাস যেমন যৌনতা বা রক্তের মাধ্যমেই ছড়ায়। হাঁচি, কাশি বা ছোঁয়ার মাধ্যমে নয়। তাই এইচআইভি রোগীর সাথে যেমন মেলামেশা করবেন, বায়ু মাধ্যমে ছড়ানো ভাইরাস (যেমন করোনা, ইবোলা ইত্যাদি) আক্রান্ত রোগীর সাথে সেভাবে মেলামেশা করবেন না।
পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। মাস্ক পরার চেষ্টা করুন।

যেকোন জ্বর, সর্দি, কাশি ইত্যাদিকে বাড়তি সতর্কতার সাথে হ্যান্ডেল করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে ডাক্তারি ফলাতে যাবেন না।

যদি দেখেন আপনার শিশুর জ্বর এসেছে, তাঁকে স্কুলে পাঠাবেন না। আমার ছেলের স্কুলের নিয়ম হচ্ছে (আমেরিকান স্কুলগুলোর একই নিয়ম) ২৪ ঘন্টা জ্বরমুক্ত না থাকলে তাঁকে স্কুলে গ্রহণ করা হয়না। আগেরদিন সকাল এগারোটায় যদি শেষবারের মতন জ্বর রেকর্ড করা হয়ে থাকে (এক্ষেত্রে একশো ডিগ্রি ফারেনহাইট শরীরের তাপমাত্রা), তবে পরের দিন সকাল এগারোটার পরে স্কুলে যেতে পারবে। স্কুল এই ব্যাপারে কোন ঝামেলা করেনা। আমাদের দেশের স্কুল কর্তৃপক্ষেরও এই বিষয়ে শিথীলতা প্রয়োজন। ফাঁকিবাজি ঠ্যাকাতে ডাক্তারের লিখিত পত্র স্কুলে জমা দিতে হয়। সাথে অভিভাবকের সাক্ষর ও লিখিত পত্র/ইমেইল যে তাঁরা জানেন তাঁদের সন্তান অসুস্থ ছিল। স্কুলেও যদি কোন ছাত্রের জ্বর টের পাওয়া যায়, সাথে সাথে তাঁকে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়। শিক্ষক-অভিভাবকের যৌথ উদ্যোগেই স্কুল কলেজ ফ্লু মুক্ত রাখার চেষ্টা করা হয়।

আপনি যদি নিজে অসুস্থ হন, তাহলে অফিসে যাবেন না। আপনার মাধ্যমে অফিসের কারোর "flu" হতে পারে। আপনি হয়তো বেঁচে যাবেন, যাকে আক্রান্ত করবেন, তিনি হয়তো বাঁচবেন না। তাই এমন রিস্ক কখনই নিবেন না। এক্ষেত্রে অফিসের বসদের একটু শিথিল হতেই হবে।

আপনি যদি দেখেন অফিসের কারোর জ্বর/সর্দি/কাশি হয়েছে, তাহলে অবশ্যই তাঁর থেকে কমসেকম পাঁচ ফুট দূরত্ব রেখে কথাবার্তা বলবেন। কাছে ঘেষবেন না। তিনি যা ছুঁবেন, স্পর্শ করবেন, খবরদার! সেসব ভুলেও ছুঁয়ে দেখবেন না। স্যানিটাইজার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করবেন। এদেশে প্রথম প্রথম বিদেশী কলিগদের এমন আচরণে খুবই মর্মাহত হতাম। মনে হতো আমি যেন বর্ণবাদ সমাজের অছ্যুৎ সম্প্রদায়ের কেউ, আমায় ছুঁলে জাত যাবে। কিন্তু পরে উপলব্ধি করলাম তাঁর হাসপাতালের বিলও আমি দিব না, তাঁর বাচ্চা কাচ্চা এতিম হলে ওদের দেখভালের দায়িত্বও নিব না। নিজের সাবধানতা নিজের কাছে, তাঁরা সেটাই করছেন।

গর্ভবতী মহিলা বা নবজাতক শিশু জন্মালে দেখতে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক সামাজিকতা। যদি আপনার নিজের বা নিজের পরিবারের কারোর জ্বর, সর্দি কাশি থাকে, তবে যত আপন আত্মীয়ই হোক না কেন, অবশ্যই সেই শিশুকে দেখতে যাবেন না। শিশুর বাবা মাকে জানাবেন যে বাড়িতে কেউ অসুস্থ তাই আসতে পারেন নি। গভর্বতী নারীর ফ্লু হলে তাঁর গর্ভপাতও ঘটতে পারে। তাই গর্ভবতীর জ্বর আসলে সাথে সাথে হসপিটাল ইমার্জেন্সিতে যাবেন।

এদিকে নবজাতক শিশু খুবই দুর্বল থাকে, তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকেনা বললেই চলে। এমতাবস্থায় আপনার স্পর্শে, চুমুতে, নিশ্বাসের ফলে সেই শিশুটির প্রাণঘাতী সংক্ৰমণ হতে পারে। নিজে একটু দায়িত্ববান হন।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। খাবার পরে সাবান দিয়ে হাত ধোন না ধোন, খাবারের আগে অবশ্যই ভাল করে কমসেকম বিশ থেকে তিরিশ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাবান দিয়ে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করে তারপরে খাবার খাবেন। ফ্লু সিজনে, অবশ্যই জেনে বুঝে নিশ্চিত হয়ে খাবেন। যে খাবার সম্পর্কে ধারণা নেই, সেই খাবার খাবেন না। রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি হাত ধুয়ে রান্না করেছে, বা কিচেন খুবই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, ইঁদুর তেলাপোকার বাস নেই সেখানে ইত্যাদি সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে রেস্টুরেন্টের খাবার মুখে তুলবেন না। সবচেয়ে ভাল হবে যদি নিজের বাড়িতেই রান্না করা খাবার খান। ওটা আপনার নিয়ন্ত্রণে।

হাদিসে আছে "যদি শোন কোন শহর মহামারী আক্রান্ত হয়েছে, তবে সেখানে যেও না। আর যদি দেখ, তোমার শহর মহামারী আক্রান্ত হয়েছে, তবে শহর থেকে বের হয়ো না।" (Al-Bukhaari (5739) and Muslim (2219))

তখনকার সময়ে এই হাদিস নাজেল হয়েছে যখন এইসব ভাইরাস টাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষ আরও বেশি অসহায় ছিল। সনাক্ত পর্যন্ত করতে পারতো না কার হয়েছে, কার হয়নি। তাই নবী (সঃ) নির্দেশ দিয়েছেন, কিছুতেই যেন ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ না পায়। এই যে চীনের মাত্র একটি শহর থেকে আজ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে, এটার ব্যাপারেই তিনি সতর্ক করেছিলেন। চীন সরকার একদম সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুরো শহর শাট ডাউন করে ফেলেছে। না কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে, না বেরুতে।

যদি না আপনি ডাক্তার হয়ে থাকেন, অথবা নার্স, অথবা কোনভাবে তাঁদের উদ্ধারকাজে সহায়তা দলের লোক হয়ে থাকেন, তবে দয়া করে সেসব স্থানে কেবল তামাশা দেখতে ভিড় করবেন না। আপনার মাধ্যমেই ভাইরাসটি আপনার বাড়িতে, আপনার শহরে প্রবেশ করবে।
ইউরোপিয়ানরা যখন আমেরিকা আবিষ্কার করে, তখন তারা নিজেদের শরীরের সাথে ইউরোপিয়ান রোগ জীবাণু বয়ে এনেছিল। আমেরিকান আদিবাসীদের অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা কেবল সেই জীবাণুতে আক্রান্ত হয়েই নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। ভাইরাস এতটাই ভয়ংকর! বুবনিক প্লেগ, স্প্যানিশ ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদির ইতিহাস একটু ঘেটে পড়ে ফেলুন। ওসব রোগ এই যুগে হলে একশো-দুইশো মিলিয়নের বেশি লোক সাফ হয়ে যাবে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাঁধলেও এত মানুষ মরবে কিনা সন্দেহ।

বিশ্বের নানান দেশ তাঁদের নাগরিকদের শহর থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। অবশ্যই তাঁদের মেডিক্যাল স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমেই ফিল্টার করে করে সরানো হচ্ছে। আমেরিকা তাঁদের নাগরিকদের সরিয়েছে, জার্মানি সরিয়েছে, ফ্রান্স জাপানও করেছে। বাংলাদেশের চারশোর বেশি নাগরিক সেখানে আটকা পড়েছেন। তাঁরা কেউ নাকি আক্রান্ত হননি। কিন্তু ভুতুড়ে নগরীতে খাদ্য ও পানীয় সংকটেই তাঁরা মারা পড়তে যাচ্ছেন। আমাদের সরকারের উচিৎ যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের মেডিক্যাল স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ফিল্টার করে নিশ্চিত হয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। তাঁরা আমাদের দেশের নাগরিক, আমাদের পরিবারের সদস্য। তাঁদের মরার জন্য ফেলে রাখার মতন ফাজলামির কোন মানে নেই।

হ্যা, যারা আক্রান্ত হয়েছে, তাঁদের ওখানে রেখেই চিকিৎসা করতে হবে। আমাদের দেশের মতন ঘনবসতিপূর্ণ দেশে এই রোগ প্রবেশ করলে গজব নেমে আসবে। আমরা ডেঙ্গুই প্রতিরোধ করতে অক্ষম, করোনা যতদূর জানি, আরও ভয়ংকর।

"গজব" থেকে একটি কথা বলতেই হয়। অনেকেই শুনছি, দেখছি, চীনাদের এই দুর্দশায় খুবই আনন্দিত হচ্ছেন। উইঘুরের মুসলিমদের উপর ওদের অত্যাচার ও নির্যাতনের কাহিনী কারোর অজানা নয়। অনেকে ধরেই নিয়েছেন এটি আল্লাহর তরফ থেকে চীনের উপর নাজেল হওয়া গজব। গজব হতেই পারে, তবে কথা হচ্ছে, কোনটা গজব, কোনটা না, সেটা বলার অধিকার, যোগ্যতা কিছুই আমাদের নেই। নবীজির (সঃ) সহীহ হাদিস আছে এই বিষয়ে, যেখানে তিনি বলছেন, "মহামারী কারোর প্রতি গজব, আবার একই সাথে কারোর প্রতি রহমত।" (বুখারী Volume 7, Book 71, Number 630)

গজব কেন, সেটা ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। রহমত এই কারণেই যে যদি নিরপরাধ কেউ মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তিনি শহীদের দরজা পান। (বুখারী Volume 7, Book 71, নং ৬২৮, ৬২৯)

চীনের সরকার উইঘুরের মানুষদের উপর চরম নির্যাতন চালাচ্ছে, কিন্তু তাই বলে "সমস্ত" চীন খারাপ মানুষে ঠাসা, এই কথা বলার অধিকার আমার আপনার মতন মানুষকে আল্লাহ দেননি। লাখ লাখ মানুষের উহান শহরে হাজারে হাজারে নিরপরাধ মানুষ নিশ্চই আছেন। চারশো বাঙালি আছেন। তাঁদের সবাই এই দুর্যোগের শিকার। কাজেই অবিবেচকের মতন ফালতু কথা না বলে আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিৎ অতি শীঘ্র যেন এই দুর্যোগ কেটে যায়, এবং একে মোকাবিলার ক্ষমতা মানুষ আয়ত্ব করতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২০ ভোর ৬:২৬
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ শুধু আমরাই নেই আর আগের মত

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:০০




স্যোশাল মিডিয়ায় তুমি এখন জনপ্রিয় ফুড ব্লগার
এই আমি ছোট্ট শহরের সামান্য কানাই মাস্টার।

তোমার আছে বাড়ি, আছে গাড়ি বেড়াচ্ছো খাচ্ছো দেদার
আর এদিকে টিকে থাকবার, নিরন্তর প্রচেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যে-সব সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার সম্ভাবনা একেবারেই নাই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২

এ দলটি ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৮ ও ২০২২ সালে তারা মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা! ছবি।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৮ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০০


কত দিন হয়ে গেলো....................


এ মাসেতো একটাও পোস্ট দেওয়া হলো না........................


ইদে গ্রামের বাড়ি গিয়ে কিছু ছবি তুলেছিলাম।







আজকের ছবি ব্লগে থাকছে সেই ছবিগুলো।








---------------------------------------------------






























... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

মেট্রোরেল পুরো বাংলাদেশের জন্য শান্তির বিষয়।
শুধু মেট্রোরেল না পদ্মাসেতুও। দারুণ এক কাজ হয়েছে। আগে মতিঝিল থেকে মিরপুর বা উত্তরা যেতে খবর হয়ে যেতো। তিন ঘন্টার বেশি সময় লাগতো। এখন মুহুর্তেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারণে অকারণে ছবি

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

আমি ছবি তুলি। পরে সেগুলো দেখি। বেশ ভালো লাগে। ফোনের স্টোরেজ এ আজ দেখলাম মোট ছবি ৬৮৯৩ টি। ব্লগে কখনোই ছবি দিয়ে লেখা হয়নি। আজ মাইদুল ভাইয়ের লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×