somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডালাসে তুষার ঝড়

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ভোর ৪:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডালাসে সহজে বরফ পড়েনা। এক দশকে এক দুইবার তুষার ঝড় আসে, পুরা এলাকা সাদা করে আবারও কয়েক বছরের জন্য বিদায় নেয়। আমাদের এখানে বছরে চার ঋতু। ১. গরম, ২. অসহ্য গরম, ৩. ঠান্ডা ৪. অসহ্য ঠান্ডা। বৃষ্টি কোন ঋতু ফিতু মানে না। যখন মনচায় বর্ষায়, নইলে আস্ত লেক মেক শুকায়ে কাঠ হয়ে যায়। মাঝে মাঝে একই দিনে মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আমরা চার ঋতুর দেখা পাই।
তুষারপাত আমার কাছে অসহ্য মনে হয়। শুধুমাত্র এই কারণেই নর্থের কোন স্টেটে স্থায়ী হবার ইচ্ছা করেনা। ডালাসে একটু বরফ পড়লেই অফিস আদালত স্কুল সব বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের গাড়ির টায়ার এমনভাবে বানানো হয় যা বরফে গ্রিপ করতে পারেনা। পাঁচ মাইল বেগে চালালেও রাস্তায় পিছলা খাই। পিছলা খাওয়া গাড়ির উপর ড্রাইভারের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকেনা। পাশের ফুটপাথে উঠে যেতে পারে (আমার ক্ষেত্রে তিনবার ঘটেছে এমন), বা অন্য কোন গাড়ির সাথে বাড়ি খেতে পারে, অন্য কোন গাড়ি পিছলা খেয়ে আমার গাড়ির উপর আছড়ে পড়তে পারে, আমি পিছলা খেয়ে রাস্তার পাশের লেকে/রেললাইনে পড়ে যেতে পারি। কাজেই বুদ্ধিমান মানুষেরা বরফ পড়লে এখানে গাড়ি নিয়ে বেরোয় না।
একবার এমন হলো যে বৌ তখন নতুন নতুন এসেছে। ওর জীবনে প্রথম তুষারপাত। সকালে উঠে আমার অফিস যেতে হবে। নতুন নতুন এই চাকরি শুরু করেছি। বরফের দিনে অফিস বন্ধ না খোলা জানি না। রেডি হয়ে নিচে নেমে দেখি গাড়ি বিশাল বরফের স্তুপের নিচে চাপা পড়ে আছে।
বরফ সরানোর যাবতীয় যন্ত্রপাতি গাড়ির ভিতরে। কাজেই হাত, চামচ ইত্যাদি দিয়ে বরফ সরানো শুরু করলাম। সে এক দিকদারী! অসহ্যকর!
যখন মোটামুটি বরফ সরানো শেষ, গাড়িতে ঢুকে টান দিয়ে পার্কিং স্পট থেকে বেরিয়েই দেখি গাড়ি এগোয় না। বরফে পিছলা খেয়ে একবার ডানে একবার বামে সরছে। আশেপাশের গাড়িতে বাড়ি খেলে আমার খবর আছে। ক্ষতিপূরণ আমাকেই দিতে হবে। বুঝে গেলাম সেদিন আর অফিস যাওয়া হবেনা। তারচেয়ে বড় সমস্যা হলো, গাড়ি আর কিছুতেই আগের জায়গায় ফেরাতে পারিনা। ডানে সরে, বামে সরে, কিছুতেই মাঝে থাকেনা। তারপরে বেলচার মতন কিছু একটা দিয়ে চাকার নিচে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বরফ অমসৃণ করে এমন অবস্থা তৈরী করতে হয়েছিল যাতে চাকা গ্রিপ করতে পারে। দুই থেকে তিন ঘন্টা সেদিন নষ্ট হয়েছিল এই ফালতু কাজে। তাও এই ঠান্ডার মধ্যে। লোকে তুষারপাত নিয়ে কত রোমান্টিক রোমান্টিক ঘটনার বর্ণনা করেন। বাস্তবে মোটেও তা না। অন্ততঃ আমার ক্ষেত্রেতো নয়ই।

আমি জানি আমার ছেলেও একদিন তুষারপাতে বিরক্ত হবে। সেটা ঘটার আগে ওকে আজকে একটু আনন্দ দিয়ে দিলাম।

যাই হোক। আজকে বাইরের তাপমাত্রা মাইনাসের নিচে। এত ঠান্ডায় গোসল করবো কিভাবে?
বৌ বলল জ্যাকেট পরে গোসলে ঢুকতে। তাহলে ঠান্ডা লাগবে না।
আমি কি বুদাই? জ্যাকেট পরে গোসলে গেলে পানিতে লেগে নষ্ট হয়ে যাবেনা?
তাই সোয়েটার, প্যান্ট আর মোজা পরে গোসল করে আসলাম। আহ! শান্তি!

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ভোর ৪:৩৬
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন-উচাটন

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫০


তিড়িং বিড়িং ফাল পাড়ি,
যাচ্ছে রে মন কার বাড়ি?
পুড়ছে তেলে কার হাঁড়ি,
আমি কি তার ধার ধারি!

পানে চুনে পুড়ল মুখ,
ধুকছে পরান টাপুর-টুপ;
তাই বলে কি থাকব চুপ?
উথাল সাগর দিলাম ডুব।

আর পারি না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্য পশ্চিম দিকে উঠে:)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:২০


আমাদের দেশে রাজনীতিতে নেতা যাই বলে তার কর্মীরা সেটাকে সঠিক মনে করে। সেটা নিয়ে দ্বিমত করে না। এখন ধরুন নেতা মুখ ফসকে বলে ফেলেছে “সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠে।” তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×