somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গাড়ির ভিতরে এক বাঙালি বাচ্চর মৃত্যু

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অস্ট্রেলিয়ায় এক বাঙালি বাচ্চা গাড়ির ভিতরে গরমে মারা গেছে।
ব্যাপারটা দুঃখজনক, তবে নতুন না। বিদেশে প্রায়ই এমনটা ঘটে। বাচ্চা, কুকুর বা এমনকি প্রাপ্তবয়ষ্করাও নিয়মিতই গাড়ির ভিতরে গরমে হিট স্ট্রোক করে। টেক্সাসের উদাহরণ দিতে গেলে, গরমের দিনে (অগাস্টের দিকে) আমাদের এখানে মাঝে মঝে একশো ডিগ্রি ফারেনহাইট (সাড়ে সাত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস) মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু এসি গাড়ির ভিতর সেটা অনুভব করা যায়না। চালক যখন গাড়ি থেকে বের হয়, তখনই সে লু হাওয়া টের পায়।
এসির পাশাপাশি গাড়ির দরজা জানালা বন্ধ থাকলে বাইরের তাপমাত্রার (৮০-১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে) সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে গাড়ির ভিতরের তাপমাত্রা ১৩০-১৭২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে (৭৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে) পৌঁছে যায়। এই সময়ে গাড়ির ভিতরে কোন বডিস্প্রের ক্যান থাকলে সেটা বার্স্ট করতে পারে। কোন পেপসির ক্যান অবশ্যই বার্স্ট করবে। আমার নিজের গাড়িতেই করেছিল।
তাই এই ভয়াবহ তাপমাত্রায় কেউই বাঁচার কথা না।
কিছু গাড়িতে (যেমন টেসলা) এখন এই অপশন থাকে যে আপনি বাইরে বেরিয়ে গেলেও গাড়ির ভিতরটা সে একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় স্থির রাখবে। বেশিরভাগ গাড়িতেই এই অপশন নেই। কাজেই, এই ভয়াবহ তাপমাত্রা এড়াতে লোকে গাড়ির কাঁচের কিছু অংশ খুলে রাখেন, যাতে বাইরের বাতাস ভিতরে যাওয়া আসা করতে পারে।
আবার অনেকেই অনেকে কারণেই গাড়ির কাঁচ নামান না, যেমন হঠাৎ বৃষ্টি আসতে পারে, কোন চোর সেই ফাঁকের সুযোগ নিয়ে গাড়ির দরজা খুলে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যেতে পারে ইত্যাদি।
এখন অনেকেই এমন ভুলোমনা আছেন যারা ভুলে যান যে গাড়িতে বাচ্চা আছে। যেমন একটা কেস স্টাডিতে পড়েছিলাম এক বাবা নিয়মিত বাচ্চাকে ডে কেয়ারে ড্রপ করেন না। তিনি গাড়ি নিয়ে সরাসরি অফিসেই যান।
একদিন কোন বিশেষ প্রয়োজনে তাঁর দায়িত্ব ছিল বাচ্চাকে ডে কেয়ারে ড্রপ করবেন। গাড়িতে বাচ্চাকে তোলাও হয়েছিল। কিন্তু অফিসের ঝামেলায় তাঁর মন এতটাই আচ্ছন্ন ছিল যে গাড়ি চালু করতেই তিনি ভুলে যান গাড়ির পেছনে বাচ্চা আছে। বাচ্চাও ঘুমিয়ে ছিল, কোন আওয়াজ করেনি।
ভদ্রলোক ডেকেয়ারে না গিয়ে অফিসে চলে যান। গাড়ি পার্ক করে তিনি নিয়মিত অফিস করতে থাকেন। যতদূর জানি লাঞ্চের আগেও তাঁর মনে পড়েনি কি ভয়াবহ ভুল তিনি করে ফেলেছেন।
যত্তক্ষনে তাঁর খেয়াল হলো সব শেষ।
এটাতো অনেক সময়ের ব্যাপার বললাম।
অনেক মাই থাকেন যারা দেখেন সন্তান ঘুমাচ্ছে, কাজেই ঝট করে গ্রোসারি শপিং সেরে আসতে বাচ্চাকে গাড়িতে রেখেই দোকানে ঢুকে যান। ফিরে এসে দেখেন বাচ্চা শেষ।
অনেকের ক্ষেত্রে এমনটাও ঘটেছে যে তাঁরা ভাল করেই জানেন বাচ্চা গাড়িতে আছে, এবং গাড়িতে এভাবে ফেলে রাখলে কি পরিণতি হতে পারে, তারপরেও পার্ক করার মুহূর্তেই তাঁদের মোবাইল ফোন বেজে উঠে, তাঁরা কথাবার্তায় ব্যস্ত হয়ে যায়, এবং সেই ফাঁকে বাচ্চার কথা ভুলে গিয়ে গাড়ি লক করে চলে যায়।
কারন যেটাই হোক, এটি একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা, যে কারোর সাথে ঘটতে পারে, এ নিয়ে কোনই সন্দেহ নেই। আমাদের যাদের বাচ্চা আছে, তাঁদের শুধু সাবধান থাকতে হবে এই ব্যাপারে। ফোনে কথা বলা যাবেনা। এবং বাচ্চার সাথে কথাবার্তা বলতে হবে যাতে কিছুই মন ভুলে না যায় যে আমাদের বাচ্চা গাড়িতেই আছে।
যে বাবা মা বাচ্চা হারিয়েছে, তাঁদের জন্য সমবেদনা। সান্তনার কোন ভাষাই থাকেনা।
বিদেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, এগুলি ঘটনাকে শুধু একটা দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখে না, child endangerment (নেগলিজেন্সের কারনে) হিসেবে ধরা হয়। এর ফল ভয়াবহ। স্টেট সেই বাবা মায়ের অন্যান্য বাচ্চাদেরও সরিয়ে নিবে। ধরেই নিবে অন্যান্য বাচ্চাদেরও জীবন সংকটময়। সাবধানতার কোনই মার নাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১১:৩৪
৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১৩

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

জুলাই মিউজিয়ামে ঢুকলে প্রথমেই যে অনুভূতিটি হৃদয়কে স্পর্শ করে, তা হলো- এটা শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটা একটি জাতির রক্তাক্ত স্মৃতির সাক্ষ্য।
পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ- প্রতিটি পরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি অমর দিশারী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


তুমি সূর্য কিনারায় উঁকি দিয়েছ বলে-
মা.. তুমি সূর্য আলো!
তোমার জন্মদিনে চাঁদ পৃথিবী হাসছে
আমরা যে গর্বিত গর্বিত-
মা.. তুমি সূর্য আলো;

তোমার অনুশাসন
আমাদের প্রেরণার উড়ন্ত পায়রা
শান্তির জ্বলন্ত মশাল
তোমার জন্ম সাতশত মহীয়ান-
আমরা শুধু গর্বিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেগে উঠেছে জামাত-শিবিরের রগ কাটা বাহিনী

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:০৫



গণ অধিকার পরিষদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছে জামায়াত-শিবির।

কুষ্টিয়ায় গণ অধিকার পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×