somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাড়িতে ক্রিসমাস ট্রি সাজালাম কিনা, "মেরি ক্রিসমাস" বললাম নাকি "হ্যাপি হলিডেজ" বললাম - তাতে ওদের কিছুই আসে যায় না।

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২৪ রাত ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বাচ্চাদের স্কুলে বা আমাদের অফিসে "ক্রিসমাস" অনেকটাই সেকুলার স্টাইলে পালিত হয়। মানে এটি একটি উৎসব, যেখানে খাওয়া দাওয়া হবে, গিফট আদান প্রদান হবে, খেলাধুলা হবে, আনন্দ হবে। যেমনটা থ্যাংকস গিভিং বা অন্যান্য ন্যাশনাল হলিডে পালন করা হয়ে থাকে।
তবে ক্রিসমাসে আনন্দটাকে আরেকটু বাড়িয়ে তোলা হয়। যেমন এই বছর আমার বড় ছেলের স্কুল থেকে ওদেরকে বৃদ্ধাশ্রমে গিফট দিতে নিয়ে গিয়েছিল। অসহায় বৃদ্ধ বৃদ্ধারা, যাদের হয়তো কেউ খোঁজ নেয়না, একটি স্কুলের বাচ্চারা ওদের জন্য সুন্দর সুন্দর গিফট নিয়ে এসেছে, এতেই ওদের শেষ জীবনের কয়েকটা মুহূর্ত ঝলমল করে ওঠে।

ক্রিসমাসে গির্জায় প্রার্থনায় যাওয়াটা মূলত খ্রিস্টানদের ব্যাপার, আপনার ইচ্ছা হলে যেতে পারেন। ওরা মোটেই মাইন্ড করবে না।

স্বাভাবিক কারণেই ক্রিসমাস আমার বাচ্চাদের কাছেও একটি উৎসবের দিন। কারন ওদের স্কুল ছুটি থাকে, বন্ধুবান্ধবরাও ফুর্তিতে থাকে, বাজারে, অফিসে সব জায়গায় উৎসব উৎসব একটা ভাব। এইদিনে ওদের মন খারাপ করে থাকারতো কোন কারন নেই।

হ্যা, মুসলিম হিসেবে আমাদের একটা সীমাবদ্ধতা আছে। যদিও "জিসাস ক্রাইস্ট" আমাদেরও নবী, আমরাও উনাকে ভালবাসি, ইনফ্যাক্ট, উনার নাম উচ্চারণ করলে "সালাম" (আলাইহিসালাম) পেশ না করলে আমাদের গুনাহ হয়। উনার মা ম্যারিকে (মরিয়ম) আমাদের ধর্ম অনুযায়ী ইতিহাসের সবচেয়ে পবিত্রতম নারীর সম্মান দেয়া হয়, কুরআনে আস্ত একটা চ্যাপ্টারই আছে তাঁর নামে। এই সম্মান আমাদের প্রিয়তম নবীজির (সঃ) মা আমিনারও নাই।
সবই ঠিক আছে, কিন্তু "ক্রিসমাস" উৎসবে আমাদের সীমারেখাটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

তাহলে এই "উৎসব" আমরা কিভাবে পালন করবো যাতে আমাদের বাচ্চাদেরও মন ভাল থাকে, এবং ইসলামেরও নিয়মের বরখেলাপ না হয়?

আল্লাহ নিজেই সূরা মায়িদাতে নির্দেশ দিয়েছেন আমাদের আহলে কিতাবী প্রতিবেশীদের (ইহুদি ও খ্রিষ্টান) সাথে সদ্ব্যবহার করতে। নিজের বাড়িতে ওদের নিমন্ত্রণ করতে, ওরা নিমন্ত্রণ করলে যেতে, ওদের সাথে এক টেবিলে বসে খেতে। ওদের খাদ্য (কোশার মিট) আমাদের জন্য হালাল।
আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, অভুক্তের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে। মানুষটি মুসলিম হলেতো কথাই নাই, অমুসলিম হলেও খাওয়াতে হবে। যদিও আফসোসের সাথে বলতে হচ্ছে আমরা আল্লাহর এই নির্দেশনাকে আমলেই নেই না, অথচ এই আয়াতটি নাজেল হয়েছিল যখন সালাতের, রোজার, হজ্বের, পর্দার নির্দেশও নাজেল হয়নি। ক্ষুধা কারোর জাত ধর্ম বয়স বিবেচনা করে আসে না, এবং আল্লাহ কঠিন নির্দেশনা দিয়েছেন সামর্থ্য থাকলে অবশ্যই আমরা যেন ওদের খাবারের ব্যবস্থা করি, এতিম শিশুদের দেখভাল করি।
আমাদের সমাজে প্রচলন আছে, খাওয়া শেষে যা বাঁচবে, যাকে আমরা উচ্ছিষ্ট বলি, সেটা ফেলে দেয়ার পরিবর্তে গরিব ফকির মিসকীনকে দান করি। বিষয়টা আসলে এমন হওয়ার কথা ছিল যে ওদের খাওয়ানোর উদ্দেশ্যেই ফ্রেশ খাবার তৈরী করতে হবে, এমন খাবার যা আমরা নিজেরা খাই বা তারচেয়েও ভাল কিছু। হয়তো আমি কোলেস্টেরলের জন্য গরুর মাংস খাইনা, কিন্তু ওদের জন্য গোমাংস পরিবেশন করতেই পারি, ওদেরতো সেই সমস্যা নেই।
কথা প্রসঙ্গে একটা মজার অভিজ্ঞতার কথা বলি।
সাউথ ডালাসের মসজিদটা নিতান্তই গরিব মসজিদ, তবু হোমলেসদের (ওরা বলে "প্রতিবেশী") জন্য ওদের আয়োজন থাকে। সপ্তাহে একদিন ভরপেট খাওয়ানোর চেষ্টা করে।
এদিকে আমাদের মসজিদ, মানে ইয়াসির কাদির কারনে দুনিয়াখ্যাত EPIC (East Plano Islamic Center) মসজিদ হচ্ছে পয়সাওয়ালাদের মসজিদ। আলহামদুলিল্লাহ! ফান্ড রেইজিংয়ে টাকা চাইতেই লাখ লাখ ডলার এসে হাজির হয়। Epic তখন নিজের দায়িত্ব পালন করতে আশেপাশের অন্যান্য মসজিদকেও সাহায্য করে থাকে।
তা ওরা একবার সাউথ ডালাসের মসজিদে সাহায্য করলো। হোমলেসদের একবেলা খাওয়ানো।
বলতে না বলতেই ট্রের পর ট্রে বিরিয়ানি চলে গেল সাউথ ডালাস মসজিদে। কারন আরব বা উপমহাদেশীয় মুসলিম - আমাদের কাছে ডেলিকেসি হচ্ছে বিরিয়ানি।
এদিকে হোমলেসদের সবাই আমেরিকান, ওরা বার্গার, পিৎজা, ফ্রাইড চিকেন খাওয়া লোকজন। ওদের জন্য ডেলিকেসি হচ্ছে স্টেক। বিরিয়ানি ওদের পেটে হজম হয়না।
দেখা গেল বেচারারা পোলাও ঝেড়েঝেড়ে শুধু মাংস খাচ্ছে। প্রচুর পোলাও সেদিন নষ্ট হয়েছিল। সাউথ ডালাসের লোকজন লজ্জায় এপিকের লোকজনকে বলেও না, কারন এত শখ করে দিয়েছে! আবার এত খাবার ফেলতে ওদেরও মন খারাপ হয়।
পরে আমি গিয়ে এপিকের ট্রেজারারকে বলেছিলাম ওদেরকে বিরিয়ানি না খাইয়ে সেটা খাওয়াতে যেটা ওরা খায়।
কাজেই সবসময়ে আমার নিজের পছন্দের খাবারই যে হতে হবে, এমনও না, ওদের নিজেদের পছন্দের খাবার হওয়াটাই বেশি জরুরি।
হ্যা, আমি তাই বলে মদ, শূকর ইত্যাদি দিয়ে দিব না। আমাকে হালাল খাবারই সার্ভ করতে হবে।

তাহলে কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী এই দাঁড়ালো যে, আমাদের প্রতিবেশীরা যেন নিরাপদে ও আনন্দে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারে, আমি আমার সামর্থ্যানুযায়ী সেটা নিশ্চিত করবো। আমি বাড়িতে ক্রিসমাস ট্রি সাজালাম কিনা (অনেক খ্রিস্টানই সাজায় না, এ নিয়ে পরে লিখবো একদিন ইন শা আল্লাহ), আমার বাড়িতে আলোকসজ্জা করলাম কিনা, "মেরি ক্রিসমাস" বললাম নাকি "হ্যাপি হলিডেজ" বললাম - তাতে ওদের কিছুই আসে যায় না।
কিন্তু, ওদের অভুক্ত পরিবারের পাতে খাবার তুলে দিলে, ওদের গরিব শিশুদের খেলনা বিতরণ করলে, ওদের সাথে এক টেবিলে বসে খাওয়া দাওয়া করলে - ওদের মনটা খুশিতে ভরে উঠবে। সেটাই ওদের জন্য আসল আনন্দ।
আর ওদের আনন্দ পেতে দেখলে আমাদের শিশুরাও আনন্দিত হবে, বুঝবে ইসলাম কি, মুসলিম কারা এবং নিজের ধর্ম নিয়ে সে গর্বিত হবে।

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২৪ রাত ১১:০৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আহলে হাদিস একটি সুনিশ্চিত পথভ্রষ্ট ও জাহান্নামী দল

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৫৮




সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন বিচার পাওয়ার আগেই মৃত্যু হলো সাইকো সম্রাটের ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৩৪


সাভার থানা থেকে মাত্র একশো গজ দূরে, পাশে সরকারি কলেজ, দূরে সেনা ক্যাম্প, চারদিকে মানুষের ব্যস্ততা: এই পরিচিত পরিবেশের মাঝে একটা পরিত্যক্ত ভবন ছিল, যেখানে আলো পৌঁছাত না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানব সভ্যতার নতুন অধ্যায়

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৭


আজ মানব জাতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
তারিখঃ ২৪ শে মার্চ, ২০২৬
সময়ঃ বিকাল ৪টা, (নর্থ আমেরিকা)
আমেরিকার কংগ্রেস স্বীকার করে নিল ভীন গ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব। স্বীকার করে নিল পৃথিবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।
আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই কালরাতে Operation Searchlight নামের বর্বর অভিযানের মাধ্যমে পাক আর্মি নিরস্ত্র বাঙালির উপর ইতিহাসের জঘন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩০

কাভার- সরাসরি আপলোড না হওয়াতে!!


ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!

জেনারেল মাসুদের গ্রেপ্তার হতেই হঠাৎ দেখি-
সবাই একসাথে ওয়ান-ইলেভেন-কে ধুয়ে দিচ্ছে!

মনে হচ্ছে, এই জাতির কোনো অতীতই নেই।
বাঙালির স্মৃতিশক্তি আসলেই কচুপাতার পানির মতো-এক ঝাপটায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×