ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। একেবারে উথাল পাথাল অবস্থা। যেকোন সময়ে সরকার পতন হয়ে যেতে পারে।
এর আগে কয়েক বছর আগেও এমনটা হয়েছিল, হিজাব ইস্যু নিয়ে লোকজন সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল। একটা মেয়েকে হিজাব ঠিক মতন না পরার অপরাধে সরকার মেরে ফেলেছিল। সেই প্রতিবাদে জনতা ক্ষোভ শুরু করে। গোটা জাতি তখন এক।
তখনই কিছু অতি উৎসাহী মেয়ে ন্যাংটা (আক্ষরিক অর্থেই) হয়ে পথে নামলে পরে যারা সাধারণ জনতা, ওরা বলে বসে "এই ফাইজলামির সাথে আমরা নাই।"
আন্দোলনে ভাঙ্গন দেখা গেল, তারপরে কিছুদিনের মধ্যেই সেটা গায়েব হয়ে যায়। সরকার টিকে যায়।
আমাদের দেশের শাহবাগ ইস্যুর সাথে ঘটনা মিলে যায়।
শুরুটা হয় রাজাকারের বিচারের দাবিতে আন্দোলন হিসেবে। সবাই এই এক দাবিতে একতাবদ্ধ ছিল। তারপরে দেখা গেল নাস্তিক, বিশেষ করে উগ্র নাস্তিকেরা এর দখল নিয়ে নিল। মুক্তিযুদ্ধকে এমনভাবে পরিবেশন করলো যেন আপনি মুক্তিযুদ্ধ সাপোর্ট করলে অবশ্যই আপনাকে নাস্তিক হতে হবে। আপনি ধার্মিক হলে মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম ইত্যাদি চেতনার বাইরে। আপনি পাকিস্তানী বীর্য!
ধীরে ধীরে সাধারণ জনতা, যারা ধর্মচর্চাও করে, এবং বাংলাদেশী চেতনা লালন করে, ওরা এই আন্দোলন থেকে সরে এলো।
রাষ্ট্রীয় চেতনার চাইতে ধর্মীয় চেতনা অনেক অনেক গুন শক্তিশালী। নিতান্ত আহাম্মক না হলে কেউ সেটা না বুঝার কথা না।
ফায়দা তুললো ধর্মভিত্তিক দলগুলো।
বর্তমানে "শাহবাগী" শব্দটা উগ্রবাদী নাস্তিকের সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশে জামাতে ইসলাম বা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের হঠাৎ উত্থান হলো কিভাবে বলেনতো? বিগত সরকারের কোন দায় নেই? ওরা বলে মৌলবাদীদের প্রশ্রয় দিয়েছিল বলেই নাকি উত্থান ঘটেছে। না। মোটেই তা না। ঘটনা পুরাই উল্টা। লোকজন দেখেছে, কেউ নামাজ পড়ে, দাড়ি রাখে দেখলে অমনি ওকে রাজাকার ট্যাগিং দিয়ে দিতে। ছাত্রলীগের সৌজন্যে বিশ্ববিদ্যালয় হলে আজান দেয়া নিষেধ ছিল। প্রতিবাদ করতে যাবেন, অমনি ট্যাগিং শুরু। শিবির করতো অভিযোগে ছাত্রকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। ও মরেছে বলে লোকে খবর পেয়েছে, যারা মরেনি, তাদের বেলায়? জঙ্গি ট্যাগিং চলেছে। মামলা মোকদ্দমা চলেছে যার অনেকগুলোই ভুয়া ছিল। ইসলামের নাম শুনলেই তেড়েমেড়ে এসেছে অনেকে, এবং ওদেরকে কেউই থামায়নি।
এইসব নেগেটিভ আচরণই প্রচার পেয়েছে বেশি।
ইরান যেমন জোর করে ইসলাম চাপানোর চেষ্টা করেছে বলে পাবলিক খেপেছে, আমাদের দেশেও তেমনই জোর করে নাস্তিক্য চাপানোর চেষ্টা করেছে বলে লোকজন খেপেছে। দুই দেশের দুই বিপরীত দৃশ্য।
মোরাল অফ দা স্টোরি হচ্ছে, জোর করবেন, তো বিপরীত দিক থেকেও জোর আসবে। নিউটন ভাই অনেক চিন্তাভাবনা করে এই সূত্র দিয়ে গেছেন, ভুল হবার কথা না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



