somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেয়েটি কি এভাবেই মারা যাবে?

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৩:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালে খাটে পা ছড়িয়ে বসে আয়েশ করে পত্রিকা পড়ছিলাম। বড় মেয়ে এসে পায়ের কাছে বসল। পেপার থেকে চোখ সরিয়ে ওর দিকে তাকালাম। মুখটা ভার ভার। বললাম, কি হয়েছে মা? মুখটা অমন ভার কেন? রাতেও কথা বললি না। দেখলাম মুখটা ভার। আমাকে বল দেখবি বেশ হালকা লাগছে। মনে মনে ভাবছিলাম, জামাই বাবাজির সাথে হয়তো আবার ঝগড়া-টগড়া হয়েছে। এ যুগের ছেলে মেয়েদের পার্সোনালিটি ক্রাইসিস প্রবল।
হঠাৎ সে শিশুকালের মতো আমার কোলে মুখলুকিয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলো। খানিকটা হকচকিয়ে গেলাম। মাথায় পিঠে হাত বুলিয়ে ওকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলাম। ভয় নেই মা আমরা তো তোর পাশে আছি। মুখে বললাম, কি হয়েছে খুলে বলতো শুনি।
-মুনাকে হয়তো আর বাঁচানো যাবে না। ওর পেটে ছুরি মারা হয়েছে। ও এখন হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে আছে। হাত-পা শরীর ফুলে গেছে। কিন্তু ওর আত্মীয় স্বজন একেক সময় একেক কথা বলছে। একবার বলছে, ওর লাঞ্চে পানি জমেছে। একবার বলছে ইন্টারনাল ব্লিডিং হয়েছে। একবার বলছে, ভিতরে ভিতরে যে সে এতো রোগ নিয়ে ঘুরে বেড়াত-তা আমরা কি করে জানবো বাপু। হাসপাতালে ভর্তি করার পর একে একে বেরিয়ে আসছে নানা রোগের কথা।
-ওর পেটে ছুরি মারা হয়েছে-সেটা তুই কি করে নিশ্চিত হলি। ওর বাবা-মা কোথায়? ওরা কি তা জানে? তারা কি থানায় জিডি করেছে?
-না। হাসপাতালে খালাম্মা (ওর মা) শুধু আমার কাছে জানতে চেয়েছিল, ওরা কি সুখী ছিল না মা? ওনার আশেপাশে ওর শ্বশুড় বাড়ির লোকজন ছিল বলে আমি কিছু বলিনি।
-ছুরি মারার বিষয়টি কিভাবে জানলি?
-নানাভাবে হাসপাতালের নার্সদের পটিয়ে জানলাম, ওর পেটে ছুরির আঘাত রয়েছে। এই আঘাতের কারণে ইন্টারনাল ব্লিডিং হয়েছে। কিন্তু আঘাতের বিষয়টি প্রাথমিক অবস্থায় লুকিয়ে রাখায় নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ডাক্তারের কাছে ওর শ্বশুড় পক্ষ বলেছে, ফল কাটার ছুরি দিয়ে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। প্রথমে ওর স্বামী ওকে স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নিয়ে পেটে ব্যান্ডেজ করিয়ে আনে। এরপর সে একদিন বাসায় ছিল। পরে পেটে ব্যথা শুরু হলে তাকে নাকি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়েছিল। সেখানে বেড না পেয়ে ওকে ফ্লোরে শুইয়ে রাখা হয়। পরে নাকি তাকে ধানমন্ডির কোন ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একদিন রাখার পর অবস্থা আরো খারাপ হয়ে গেলে তাকে কাকরাইল ইসলামি ব্যাংক হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। এরমধ্যে পেরিয়ে যায় সাতটি দিন। ফলে লাঞ্চে পানি জমাসহ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় সে। ওকে দেখে চেনা যায়না আব্বু এই আমাদের বান্ধবী মুনা। ওর সারা শরীর ফুলে গেছে।
-ওর এই অবস্থার কথা কবে জানতে পারলি তুই?
-গতকাল। গত সাত দিন ধরে ওকে ফোনে পাচ্ছিলাম না। অথচ প্রতিদিন আমরা কথা বলতাম ফোনে। অগ্যতা গতকাল মিরপুরের কালশীতে ওদের বাসায় গিয়েছিলাম। ও বাসায় নেই বলে ওর নোনাস (জামাইয়ের বড় বোন) প্রথমে আমাদের বিদায় করে দিতে চেয়েছিল। পরে আমার পীড়াপীরির কারণে জানাল ও অসুস্থ। তাহলে কোথায় চিকিৎসা হচ্ছে-আমার সেখানেই দেখতে যাবো। এ কথাও বলতে চায়নি। পরে কান্নাকাটি শুরু করায় ওর ভাইযৈর (মুনার হাজবেন্ডের) ফোন নাম্বার দিল। ফোনে প্রথমে ওর জামাইও আমাকে চিনতে চাইলো না। মুনাকে নিয়ে আমাদর বাসায় এসেছিলেন-এসব বলে মুনার ট্রেস করলাম।
মুনার পুরো নাম সিত্তুন মুনা সৈয়দা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফুড এন্ড নিউট্রেশন ও পপুলেশনে ডাবল এমএসসি। ভালোবেসে বিয়ে করেছিল মিশুকে। ওদের দুই বছর বয়সি একটি ছেলেও আছে। স্বামী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। তবে বড় কোন ফার্মে কাজ পায়নি। কালশীতে নিজেদের টিনশেড বাড়ি আছে। মিশুরা দুই ভাই দুই বোন। মিশু সবার ছোট। পারিবারিকভাবে জমি-জমার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ আছে। এসব বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মুনা ওর ভাশুড়েরর হাতে একবার নিগৃহীত হয়েছিল। স্বামী প্রতিবাদ করতে পারেনি। উল্টো তাকে নিজ ঘরে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল।
মুনার দোষ সে মুখের ওপর সত্য কথা বলতে দ্বিধা করে না। সে সাহসী ও প্রতিবাদি। বানানী থেকে প্রকাশিত একটি লাইফ স্টাইল বিষয়ক ম্যাগাজিনে সে বিভাগীয় সম্পাদিকা হিসেবে কাজ করতো। তারা বাবা আয়াতুল্লাহ খান লাকসাম প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। আমার মেয়ে তার সংগে যোগাযোগ করেছিল। মুনার সংগে আনওয়ানটেন্ড বা আন-ন্যচারাল ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চাননি। তিনি শুধু দোয়া মুনার জন্য চেয়েছেন।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৩:০৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×