somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধবাজ যুক্তরাষ্ট্রঃ শান্তির নামে অশান্তির দূত (পর্ব-৩, শেষ পর্ব)

১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
পর্ব-১ঃ Click This Link
পর্ব-২ঃ Click This Link


গত পর্বে ভিয়েতনাম যুদ্ধ, কোরীয় যুদ্ধ, চে গুয়েভারার স্বপ্ন এবং হান্টিংটন তত্ত্বের আলোচনা করে ইতি টেনেছিলাম। এই পর্বে ইরাক যুদ্ধ আফগানিস্তান যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচের অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা করব।
ইরাক যুদ্ধঃ


মানুষের মানবিক গুণাবলী নষ্ট হওয়ার সীমাকে যে অতিক্রম করা যায়, যুক্তরাষ্ট্র তার সাক্ষী।একটি দেশ যে মিথ্যার আশ্রয় কত আয়োজন করে নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রমাণ। ২০০৩ সালের ২০শে মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত বাহিনীর ইরাক আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল।ইরাক আক্রমণ করার জন্য তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ ডব্লিউ বুশ ও কোয়ালিশন বাহিনী যে কারণ দেখিয়েছিল তা হল: ইরাক ১৯৯১ সালের চুক্তি অমান্য করে গণবিধ্বংসী অস্ত্র নির্মাণ করছে এবং তাদের কাছে এ ধরণের অস্ত্রের মজুদও আছে। তখন সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছিল, ইরাক যুক্তরাষ্ট্র, এর জনগণ এবং মিত্র রাষ্ট্রগুলোর জন্য বড় ধরণের হুমকি। পরবর্তীতে এএ সমর্থক কর্মকর্তাদের প্রচণ্ড সমালোচনা করা হয়। কারণ আগ্রাসনের পরে পরিদর্শকরা ইরাকে গিয়ে কোন ধরণের গণবিধ্বংসী অস্ত্র খুঁজে পায়নি। তারা জানায়, ইরাক ১৯৯১ সালেই গণবিধ্বংসী অস্ত্র নির্মাণ ত্যাগ করেছে, ইরাকের উপর থেকে আন্তর্জাতিক অনুমোদন সরিয়ে নেয়ার আগ পর্যন্ত তাদের নতুন করে গণবিধ্বংসী অস্ত্র নির্মাণের কোন পরিকল্পনাও ছিল না।এর দ্বারা যা প্রমানিত হয় তা কার কষ্ট বলার দরকার নেই।
যুক্তরাষ্ট্র এবং এর মিত্ররা ইরাক আক্রমণ করার পরপরই ইরাকী রাষ্ট্রপতি সাদ্দাম হোসেন পালিয়ে বেড়ায়।অবশেষে ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে তাকে আটক করা হয় এবং ২০০৬ এর ডিসেম্বরে সাদ্দামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
এরপর সুন্নি এবং শিয়া দলগুলোর মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং আল-কায়েদা ইরাকে তাদের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করে। এই যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা আনুমানিক ১৫০,০০০ থেকে ১০ লক্ষের বেশী।মানুষ যেন আর মানুষ থাকে না।

আফগানিস্থান যুদ্ধঃ
যুদ্ধের আগে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আফগানিস্থানের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালই ছিল।যুদ্ধ আফগানিস্থানকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়।
আফগানিস্থান যুদ্ধ শুরু ১৯৭৯ সালে “ইউনিয়ন অফ সোভিয়েত সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক্‌স” (USSR) এর সামরিক বাহিনী এবং আফগানিস্তানের কম্যুনিস্ট-বিরোধী গেরিলাদের মধ্যে।মুক্তির আন্দোলন হিসেবে যুদ্ধ শুরু হলেও পরবর্তীতে এই যুদ্ধ আফগানিস্থানকে খাদে ফেলে দেয়।যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্টি করা জঙ্গীরা দেশটিকে যেন মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত করেছে। এখন নাকি মার্কিনীরাই আফগান সরকারকে সহায়তা করছে জঙ্গীদের থেকে বাঁচতে।এ যেন হাস্যকর ব্যাপার।

বর্তমান সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে না বললেই নয়। আরব বসন্ত শুরু হয়েছে শত মানুষের রক্তপাত ঘটিয়ে। হোসনি মোবারকের পতন, গাদ্দাফীর হত্যাকাণ্ড যার সাথে সিরিয়ার ক্ষুধার্ত শিশুরা চিৎকার করে উঠে। এদিকে জার্মানির বিরোধীদলীয় উপমন্ত্রী সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন।
আইএস এর নাম যেন মিডিয়ার সৃষ্টি। যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্কসহ ন্যাটোর ১২ টি দেশ প্রায় এক বছর যাবত যুদ্ধ করছে আইএস এর বিরুদ্ধে। অথচ তারা কিছুই করতে পারছে না। আইএস কি এতই শক্তিশালী?

তাহলে দেখা যাক রাশিয়ার হস্তক্ষেপ।সপ্তাহখানেকে মাঝে আইএসকে প্রায় কোণঠাসা করে ফেলেছে রুশ বাহিনী। এর মধ্যেই শোনা যায় যুক্তরাষ্ট্রের আহাজারি। যুক্তরাষ্ট্রের মুখোশ আর কতভাবে উন্মোচন করতে হবে?



প্রতিবাদঃ
ভাবতে অবাক লাগে যে, ইতিহাসের অনেক যুদ্ধবাজদেরকেই আমরা কিংবদন্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছি। আলেকজেন্ডার অথবা চেঙ্গিস খাঁন যারা সারাটি জীবন যুদ্ধ করে গেছেন।কারনে অথবা অকারনে।


উপরের ছবিটি ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার। অস্টিয়ার শিশুটি নতুন জুতো পেয়েছে, তার মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে। আর এই জুতো দ্বারাই বুঝায়ঃ হিটলার,আলেকজেন্ডার, চেঙ্গিস খাঁন, বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রসহ সকল যুদ্ধবাজদের গালে জুতো।
All war is a symptom of man's failure as a thinking animal- JOHN STEINBECK.
এতটুকু বলতে পারি, ক্ষুধার্ত, অসহায়, পঙ্গু শিশুদের আর্ত চিৎকার কাউকে ক্ষমা করবে না।

পরিশেষে বলব,


তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া, প্রথম আলো, ছবি গুগল থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:২৯
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যায়া হুয়া ? হুক্কা হুয়া; হুক্কা হুক্কা হুক্কা হুয়া

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫


২৪ বছর ধরে ঢাবিতে অনার্স পড়ছে; তা-ও নাকি ভাষা শিক্ষা বিভাগে উর্দূ নিয়ে !!! আজতক তার পড়া শেষ হয় নাই !!! এ ভার্সিটিতে নাম লিখালে পন্ডিত মশাই'রা কি কোনও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×