
শহীদুল্লাহ কায়সারকে চিনেন? যিনি স্বাধীনতার ঠিক আগমুহূর্তে পাকিস্তানী আর্মির এদেশীয় দোসর আল বদর বাহিনী কর্তৃক অপহৃত হয়েছিলেন।
শহীদুল্লাহ কায়সারের ভাই জহির রায়হানকে তো অবশ্যই চিনেন।
অন্তত 'হাজার বছর ধরে' অথবা 'সময়ের প্রয়োজনে' পড়ার সুবাদে জহির রায়হানকে চেনা হয়েছে।
তিনি কয়েকটি ছবি বানিয়েছিলেন, যার মধ্যে একটির নাম 'জীবন থেকে নেয়া'। ছবিটি দেখে নিলে বুঝে যাবেন, ঢাকাই ছবিরও আবেদন আছে।
দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭১ এর ১৭ ডিসেম্বর ঢাকা ফিরে আসেন জহির রায়হান। এরপর তিনি তার নিখোঁজ ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে শুরু করেন।
কাদের মোল্লা নামের এক রাজাকার ছিল। যিনি শহীদুল্লাহ কায়সারকে মীরপুরে আসার জন্য খবর দেন এই বলে-
মীরপুরে আপনার ভাইকে পাওয়া গেছে। আপনি মীরপুরে আসেন। জহির রায়হান ভাইয়ের সন্ধানে মীরপুরে যান এবং সেখান থেকে আর ফিরে আসেননি। ১৯৭২ এর ৩০ জানুয়ারীর পর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
মীরপুর ছিল ঢাকা থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত বিহারী অধ্যুষিত এলাকা এবং এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে যে সেদিন বিহারীরা ও ছদ্মবেশী পাকিস্তানী সৈন্যরা বাংলাদেশীদের ওপর গুলি চালালে তিনি নিহত হন।
আর এভাবেই আমাদের সূর্য সন্তানদের এক এক করে হত্যা করা হয়। এতটাই বেশী শূন্যতা সৃষ্টি করে, যা আজও ঠিক পূরণ হয়নি।
স্বাধীনতার প্রায় অর্থশত বছর কেটে যাওয়ার পরেও এই রাজাকারদের বিচার হয়না! ভাবতে পারেন?
গতকাল মীর কাসেমের ফাঁসি হয়েছে। একটি অর্জন এবং একটি কলঙ্ক।
যুগৎপতভাবে একটি রাজাকার হত্যা এবং একটি রাজনৈতিক হত্যা!
রাজাকারেরা আবার রাজনীতি করে কীভাবে?
৯১ এর নির্বাচন আওয়ামী-জামাত বনাম বিএনপি। এর পর আবার বিএনপি-জামাত বনাম আওয়ামীলীগ।
তখন এরা কোথায় ছিল? কোথায় ছিল রাজাকার?
দেশের রাজনৈতিক দলগুলো খুব ভালো রাজনীতি বুঝে। রাজনৈতিক প্রয়োজনে তারা যেকোন কিছুই করতে পারে। শুধুমাত্র রাজনীতি বুঝেনা এদেশের জনগণ।কতটা কষ্ট ! এদেশের মানুষ রাজাকারের বিচারও চাইতে পারবে না!
হাসবেন না মা; আমাদের মা জাহানারা ইমাম।
বিচার হচ্ছে, বিচার হবে; তবু দুঃখ, বিচারটা কেন যেন রাজনৈতিক বিচার হয়ে গেল, রাজনৈতিক অর্থে যেন চাপা পড়ে যাচ্ছে আমাদের রাজাকারের বিচার।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



