
মানুষ কথা বলবে একদিন, মানুষ কেন?
দুপুরের কড়া রোদে রাস্তার পিচ চক চক করছে। গরম বাতাসের কম ঘনত্বের কারনে দূরের দিকে চোখ মেললে মনে হয় কিছু একটা পুড়ছে। আসলে কোন কিছু পুড়ছে না এটা একটা বিভ্রম।
কেউ কি কথা বলছে?
হ্যাঁ, যাত্রী ছাউনিতে পাশে বসা লোকটি কথা বলে চলেছে। লোকটির শ্যামবর্ণের মুখে প্রৌঢ়ত্বের ছাপ। ঢাকা শহরে এরকম হয় না, দুপুরের রোদে মানুষ ক্লান্ত, অবসন্ন থাকে। প্রত্যেকে জীবন নিয়ে চিন্তা করলেও জীবন দর্শন নিয়ে চিন্তা করে না।
আচ্ছা, জীবনের অর্থ কতোখানি? আমি প্রশ্ন করলাম।
সেটা তো আপনার জানবার কথা, আমি কীভাবে বলবো আপনার কাছে জীবন কতোটা অর্থপূর্ণ অথবা অর্থহীন। প্রশ্নটি আসলে একটি মৌলিক প্রশ্ন, লোকটি উত্তর দিল।
চকচকে রাস্তায় সাইরেন বাজিয়ে পুলিশ যাচ্ছে, কেউ শুধু শুধু হর্ণ বাজাচ্ছে। মানুষ রিক্সায়, বাসে; বন্যার্তদদের জন্য সাহায্য চাই বলে শ্লোগান দিতে দিতে হেঁটে চলেছে একদল তরুণ-তরুণী। কেউ যেন ব্যস্ততায় দৌড়ে চলেছে; সত্যিকার অর্থে জীবনের ঘোর।
ঢাকা শহরে এমনটা হয় না, যেখানে এমন একটি লোক ঘোর বেদনার মতো বলেই চলেছে।
আসলে আমরা কোথায় যাচ্ছি যেন, সত্যিকার অর্থে হয়তো হারিয়ে যাচ্ছি, হয়তো লীন হয়ে যাচ্ছি। মানুষ হিসেবে কী এবং কেন প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে যাচ্ছি।
একটি বাস এসে থামলো, একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা নামলেন একটি পাঁচ বছরের ছেলেকে নিয়ে। কড়া রোদে ছাতা নিয়ে এগিয়ে এলো মহিলার স্বামী।
মানুষ কেন ভালোবাসে?
মানুষের প্রয়োজনে, আমি উত্তর দিলাম।
হ্যাঁ একদিক থেকে ঠিক, অন্য দিক থেকে ঠিক নয়।
আমি বললাম, কেন?
লোকটি নিরুত্তর।
আজ থেকে প্রায় অনেক বছর আগে একটি মেয়েকে বলতে চেয়েছিলাম তুমি কী আমাকে ভালোবাসো, কিন্তু বলিনি। আসলে মানুষের জীবন সংশয়ে পূর্ণ। তুমি স্রষ্টা, বিশ্বাস, ধর্ম, মানুষ সবকিছুতেই একটা দ্বৈতবোধ খুঁজে পাবে। কিন্তু এখানে তোমার নিজের ভাবাটাকে তোমার নিজেরই বেছে নিতে হবে। আর দ্বৈতবোধের ভেতরে তুমি একটা আশ্চর্য বিষয় পাবে, সেটা হচ্ছে অর্থহীনতা। সুতরাং, বেছে নেওয়াটা জরুরী।
এই যে বিশ্ব চরাচর, এখানেও তুমি যাত্রী। মিনিটে যে কতো মাইল বেগে দূরে সরে যাচ্ছো তার হিসেব করা দায়।
একটু পর নীল রঙা একটি বাস আসবে, সেটাতে উঠতে হবে আমায়।
বাসায় ফিরবার সময় ভাবলাম, লোকটির থেকে আমি বিদায় নিলাম না কেন?
ট্রাফিক পুলিশের ইশারায় গাড়ীগুলো থেমে গেছে। আমি ভাবছি, স্তব্ধ হয়ে গেছে সময়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


