
একটি বিপ্লব(আগামীকাল ৭ ই নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অক্টোবর বিপ্লব স্মরণ প্রসঙ্গে)
আজ থেকে ৯৯ বছর ৩৬৪ দিন আগের কথা,রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে শ্রমিক আর মেহনতি মানুষেরা তাদের সত্যিকারের অধিকার আদায়ের জন্য বিপ্লব করেছিল।যা ছিল মানব জাতির ইতিহাসে প্রথমবারের মত একটি মানুষের রাষ্ট্র গঠনের জন্য বিপ্লব। ৭ ই নভেম্বর(জুলিয়ান বর্ষপঞ্জী অনুসারে ২৫ অক্টোবর ১৯১৭) বলশেভিক পার্টির এই বিপ্লব, মেহনতি মানুষের গৌরবগাঁথা সফল হয়েছিল; রাশিয়ার মানুষ পেয়েছিল একটি আদর্শ রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যার সফলতা পৃথিবীর মানুষকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।
পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হচ্ছে সম্পদের একীভূতকরণ। এটাকে চুম্বকের সাথে তুলনা করা যায়। যার যত বড় চুম্বক সে ততো বেশী আকর্ষণী ক্ষমতা রাখে; মানে যার যত টাকা, তার ততো টাকা বাড়বে।
বর্তমান পৃথিবীতে পৃথিবীর মোট সম্পদের ৫০ শতাংশ রয়েছে পৃথিবীর পাঁচ জন্য ধনী ব্যক্তির হাতে! আগামী দশ বছরে পৃথিবীর মোট সম্পদের ৫০ শতাংশ সম্পদ যাবে একজন ব্যক্তির হাতে! মানে ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে, গরীবরা আরো গরীব হচ্ছে! আর এই চলমান ধারায় মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯১৭ সালে রাশিয়াতে মুদ্রাস্ফীতি স্বাভাবিক স্ময়ের চেয়ে চার গুণ বেশী বৃদ্ধি পেয়েছিল। সাধারণ কৃষকেরা খাদ্য পণ্য কম দামে বিক্রি করলেও তাদের কিনে নিতে হতো চওড়া দামে। মানুষের পেটে খাবার জুটতো না। মানুষ এই সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজেছে কার্ল মার্ক্স আর এঙ্গেলস এর দেয়া অর্থনৈতিক তত্ত্বের মধ্য দিয়ে। মানুষ বিপ্লব ঘটিয়েছিল, আর সৃষ্টি করেছিল একটি শোষণহীন সমাজ।
আজকে আমাদের ৯০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনে খেতে হয়, যে কৃষক ধান উৎপাদন করে তার ঘরে ধান নেই!
শুধুমাত্র আমি নই, সারা দুনিয়ার অর্থনীতিবিদেরা পুঁজিবাদকে টিকিয়ে রাখার জন্য উঠে পরে লেগেছে। আমাদের ড. মুহম্মদ ইউনুসও 'Social business' বা 'সামাজিক ব্যবসা' নামে নতুন এক ধরনের ব্যবসার কথা বলেছেন, যেখানে শুধু একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়, সমাজের অন্যান্য ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে, তাদেরকে অংশীদার করে ব্যবসা পরিচালনা করা হবে; এতে করে হয়তো কিছুটা সমস্যার সমাধান হবে! কিন্তু,আমরা হলফ করে বলতে পারি শোষণ সম্পূর্ণ শেষ হবে না। কেননা তখন এটা অভিজাত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হবে, যা বর্তমান ব্যবস্থারই নতুন সংস্করণ।
যে ভাবনা আমাদেরকে ভাবতে শিখিয়েছিল রাশিয়া, যে ভাবনায় গঠিত হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, যে ভাবনায় গঠিত হয়েছিল কিউবা; সেই ভাবনা, সেই মানব মুক্তি সংগ্রাম আমাদেরকে আবারও ডেকে ফিরছে। সেই মেহনতি মানুষের দুঃখ যা আমাদেরকে প্রতিটিদিন যন্ত্রণা দিচ্ছে;
আগামীকাল সেই মহান বিজয় স্মরণে বাংলাদেশের বামপন্থীরা জাতীয় শহীদ মিনারে একত্রিত হচ্ছে। আমার কাছে বাম, ডান,উদার,কট্টর কোন মানে রাখে রাখে না। যে জীবন মানুষের, যে জীবন একটি জীবন্ত প্রাণীরূপে শুধু অর্থহীনভাবে বেঁচে থাকা নয়, সেই জীবনে পৃথিবীর সকল মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোটাই মূখ্য; কেননা জন্ম নিয়েছি একদিন চলে যাবো বলে।
এই ছোট্ট জীবনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মেহনতি মানুষের জন্য সংগ্রাম করার চেয়ে বড় আর কি থাকতে পারে?
যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মানুষকে দাসে পরিণত করে, তার বিরুদ্ধাচারণ ছাড়া মানুষের মুক্তি আর কোথায়? আগামীকাল শহীদ মিনারে আবারও মানুষ মানুষের জন্য গান গাইবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



