অবরোধের দিন। কিছু করার নাই। অহেতুক অবরোধের গতিপথ লক্ষ্য করা ছাড়া। হেটে হেটে আসছিলাম নীলক্ষেতের দিকে । বাংলা একাডেমীর কাছে আসতেই একলোক আমার গতিরোধ করে। কোনো ভনিতা ছাড়াই সে বলে 'কাম দেন নয়তো খাবার টাকা দেন, পেঠে খুব ক্ষিধা'। লোকটার ডান হাতে একটা মাটি কাটার কোদাল আর বা হাতে একটা দা। মুখে হিংস্রতা আর অসহায়ত্ব। তার বয়স কত ঠিক অনুমান করা যায়না। তবে মুখের সব দাঁড়ি শাদা হয়ে গেছে। মুসলমানদের নবী মহম্মদের কথা মনে পড়ল। তিনি এরকমই এক লোককে গাছ কেটে জীবিকা নির্বাহ করতে বলেছিলেন। এখন বললে পরিবেশ বাদিরা আন্দোলন করবে। আমি ভিখিরিদের উৎসাহিত করিনা। আমি তাদের নির্বংশ করার পক্ষে। তাকে পাশ কাটিয়ে কদ্দুর এসে ফের ডাকি। বাড়ি কই জিগাই। অংপুর। কবে আইছেন । জিগাই। এক হপ্তা। মংগা কোনো কাইজ কাম নাই। সকাল থেকে কিছু খাই নাই। ইত্যাদি সে বলে গেলো। দারিদ্র বিমোচন কি আমি বুঝিনা এগুলো বড়লোকি ব্যাপার আমরা কুত্তার বাচ্চারা এসবের কি বুঝি। ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় হাতকাটা পা কাটা ছিন্ন ভিন্ন এত লোক পড়ে আছে। এদের গু মুতে রাস্তাঘাটে চলা যায়না। আর এসব গুমুতের ওপরে ঝকমক করছে ফালুখালেদাআব্বাসতারেকের রঙ্গীন ছবি। আর গ্রাম থেকে বানের মত অভাবী মানুষ আসছে রাজধানীর দিকে। কারণ এখন গ্রামকে চেনা যায়না। গ্রামের ভেতর ঢুকে শহর সবাইকে বেশ্যা, মাগীর দালাল, সুদখোর, কিলার, পিকেটার হতে বলছে নিরন্তর। মধ্যবিত্তের আদর্শ বুলিটুলি সব ভেসে গেছে।আপ এন্ড ডাউন। কিছু উঠছে আর কিছু নামছে। মানে উচ্চবিত্ত আর নিম্নবিত্ত মাঝখানটা ফাকা হতে শুরু করেছে। তাই এই পরিবর্তন। সন্দেহ করি কতটুকু সত্য তা ডঃইউনুস বলতে পারবে। আমরাতো কুত্তার বাচ্চা আমরা এসবের কি জানি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



