অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের সম্ভাবনাময় সেরা ১০টি দেশের তালিকায় ওঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, চীন ও সাউথ আফ্রিকা) রাষ্ট্রগুলোকে পেছনে ফেলে বিশ্বের যে ১০টি দেশ ওঠে আসছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ফ্রান্সের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে এই অগ্রগতির ক্ষেত্রে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আর তা হলো রাজনৈতিক অস্থিরতা, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সমস্যা। এগুলোই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ওই সম্ভাবনায়। গত মার্চে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ফ্রান্সভিত্তিক বাণিজ্যিক ঋণ ও বিমা গ্রুপ কোফেইস। সংস্থাটি তাদের গবেষণায় বলেছে, ১০ বছর ধরে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পর ব্রিকসের ৫টি দেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রবৃদ্ধি কমতে শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরে ব্রিকসের জিডিপি গত এক দশকের চেয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশে কমে যেতে পারে। একই সময়ে বাংলাদেশসহ সম্ভাবনাময় ১০টি দেশ তাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৩ সালে ভবন ধস ও কারখানায় অগি্নকাণ্ডে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত পোশাক শিল্প ঝুঁকিতে পড়লেও তা কাটিয়ে ওঠে দেশটির শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা তা চলতি বছরও (২০১৪) স্থিতিশীল থাকবে বলে মনে করছে ফ্রান্সভিত্তিক আর্থিক সংস্থাটি। কোফেইস বলছে, গত জানুয়ারিতে সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসছে। উপরন্তু যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোজোনের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর কারণে দেশটির পোশাক খাত নির্ভর রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে। ২০১১ সালে যে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ছিল দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফ্রান্সভিত্তিক সংস্থাটি যে প্রতিবেদনটি করেছে সেটি ঠিক আছে। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও অর্থনৈতিকভাবে আমাদের রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। সামাজিক ক্ষেত্রেও আমাদের অনেক অগ্রগতি রয়েছে। বিশেষ করে সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ সঠিক পথে রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন দক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব। যদি প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন কায়েম করা যায় তবে আমাদের যে দুর্বলতাগুলো রয়েছে সেগুলো দূর করতে সময় লাগবে না। আর তখনই অর্থনীতির সুফল ঘরে তোলা যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০১৪ বিকাল ৩:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




