somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয় চিত্র শিল্পী জয়নুল আবেদীন

০৫ ই এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ৮:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জন্ম ও শিক্ষাজীবন

জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার কেন্দুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন । বাবা তমিজউদ্দিন আহমেদ ছিলেন পুলিশের দারোগা । মা জয়নাবুন্নেছা গৃহিনী । নয় ভাইবোনের মধ্যে সংসারে জয়নুল আবেদিন ছিলেন সকলের বড় ছেলে । পড়াশোনার হাতেখড়ি পরিবারের কাছ থেকেই । খুব ছোটবেলা থেকেই তার ছবি আকা পছন্দ ছিল । সে পাখির বাসা,, পাখি,, মাছ,, গরু-ছাগল,, ফুল-ফলসহ আরও অনেক কিছুর ছবি একে মা বাবাকে ও আত্মীয় স্বজনদের দেখাতেন । ছেলেবেলা থেকেই তার শিল্পকলার প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল । মাত্র ষোল বছর বয়সে বাড়ি থেকে তিনি বন্ধুদের সাথে কলকাতায় পালিয়ে চলে যান শুধু মাত্র কলকাতা গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস দেখার জন্য । কলকাতা গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস দেখে আসার পর সাধারণ পড়াশোনায় জয়নুল আবেদিনের মন বসছিল না তখন ছবি আকার আগ্রহ আর বেড়ে যায় । তাই ১৯৩৩ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই স্কুলের পড়ালেখার বাদ দিয়ে কলকাতায় চলে যান এবং মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস-এ ভর্তি হন । তার মা জয়নুল আবেদিন আগ্রহ দেখে নিজের গলার হার বিক্রি করে ছেলেকে কলকাতার তখন আর্ট স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন । পরবর্তীতে ছেলে জয়নুল আবেদিনও মায়ের সেই ভালবাসার ঋণ শোধ করেছেন দেশের স্বনামধন্য শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে । জয়নুল আবেদিন ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত কলকাতার সরকারি আর্ট স্কুলে পড়েছেন । ১৯৩৮ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসের ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি ।

তার কর্মজীবন



বাংলাদেশের প্রথম প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে প্রথমেই যার নাম বলতে হয় তিনি হলেন আমাদের প্রিয় শিল্পী জয়নুল আবেদীন । ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে একটি শিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুভূত হয় । জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে ১৯৪৮ সালে পুরান ঢাকার জনসন রোডের ন্যাশনাল মেডিকেল স্কুলের একটি জীর্ণ বাড়িতে মাত্র ১৮ জন ছাত্র নিয়ে গভর্নমেন্ট আর্ট ইন্সটিটিউটের যাত্রা শুরু করেন । জয়নুল আবেদীন ছিলেন সেই প্রতিষ্ঠানের প্রথম শিক্ষক । ১৯৫১ সালে এটি সেগুনবাগিচার একটি বাড়িতে স্থানান্তরিত হয় । ১৯৫৬ সালে গভর্নমেন্ট আর্ট ইন্সটিটিউট শাহবাগে স্থানান্তর করার পর ১৯৬৩ সালে এটি একটি প্রথম শ্রেণীর সরকারী কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি পায় । তখন এর নামকরণ করা হয় পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় নামে এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় নামে । তিনি ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । ১৯৮৩ সালের ১লা সেপ্টেম্বর এই সরকারী কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভূক্ত করা হয় । জয়নুল আবেদীন নারায়ণগঞ্জের সোনারগায়ে লোকশিল্প যাদুঘর ও ময়মনসিংহে জয়নুল সংগ্রহশালা গড়ে তোলেন ।


তার বিদ্রোহী চিত্রকর্ম



বিদ্রোহী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন অঙ্কিত একটি চিত্রকর্ম। ছবিটিতে জয়নুল আবেদিনের নিজস্ব ঢঙে তুলির মোটা ও সাবলীল দাগের মাধ্যমে একটি গাভীর দড়ি ছেঁড়ার প্রচণ্ড উন্মত্ততা প্রকাশ পেয়েছে। চিত্রকর্মটি ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

ছবিটিতে একটি গাভী প্রচণ্ড শক্তিতে একটি দড়ি ছিঁড়ে ফেলতে চাইছে। তাকে বেঁধে রাখা দড়িটি টান টান হয়ে রয়েছে, যেকোন সময় ছিঁড়ে যেতে পারে। দড়ির টানে গাভীর ঘাড় বেঁকে গেছে। তবু সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ছবিটি মোটা দাগে দ্রুত ভঙ্গিমায় আঁকা কয়েক টানে আঁকা হলেও এর সূক্ষ্ম পরিপূর্ণতা লক্ষ্যনীয়।


চিত্রশিল্প

বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদীন । তিনি শিল্পাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন । তাঁর বিখ্যাত চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে দুর্ভিক্ষ-চিত্রমালা,, সংগ্রাম,, সাঁওতাল রমণী,, ঝড় এবং আরো অনেক ছবি । ১৯৭০ সালে গ্রাম বাংলার উত্‍সব নিয়ে আকেন ৬৫ ফুট দীর্ঘ তার বিখ্যাত ছবি

খ্যাত নামা

জয়নুল আবেদীন ১৯৪৩ সালে দুর্ভিক্ষ চিত্রমালার জন্য সারা বিশ্বের কাছে খ্যাত নামা হন । তা ছাড়াও তার বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলো হল ১৯৫৭-এ নৌকা,, ১৯৫৯-এ সংগ্রাম,, ১৯৬৯-এ নবান্ন,, ১৯৭০-এ মনপুরা-৭০,, ১৯৭১-এ বীর মুক্তিযোদ্ধা,, ইত্যাদি আর অনেক ।


২০০৯ সালে,, বুধ গ্রহের একটি জ্বালামুখ চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদীন সম্মানে আবেদীন নামে নামকরণ করা হয় ।
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×