somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলা এন্ড মুর্শিদাবাদের নবাবগণ :) :) পর্ব ১

০২ রা মে, ২০১৫ সকাল ৭:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলার নবাবগণ ছিলেন বাংলা বিহার উড়িষ্যার শাসকগণ । ১৭১৭ সাল থেকে ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত তারা সার্বভৌম নিজেকে বাংলার প্রধান হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন । পদটি মুঘল আমলে পুরুষানুক্রমিকভাবে নাজিম এবং সুবেদার থেকে সৃষ্টি হয়েছিল ও পরবের্তিতে তারা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলসমূহে স্বাধীনভাবে শাসণ করেছিলেন । বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা পলাশীর যুদ্ধে মীরজাফর কর্তৃক প্রতারিত হন । তিনি ব্রিটিশদের কাছে পরাজিত হন যারা ১৭৫৭ সালে বাংলা অধিগ্রহণ করে মীর জাফরকে ক্ষমতায় বসান এবং একটি রাজনৈতিক ধারা প্রবর্তন করেন ।
১৭৬৫ সালে দুটি সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় যেখানে নবাবগণ ব্রিটিশদের অধীণে শাসণ করতেন এবং তারা ব্রিটিশদের হাতের পুতুল ছিলেন । ১৭৭২ সালে ধারাটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে শাসণ ব্যবস্থা সরাসরি ব্রিটিশদের অধীনে নেওয়া হয়।

১৭৯৩ সালে নবাবদের কাছ থেকে নিজামত গভর্নর অধিকারও প্রত্যাহার করা হয় তখন তাদের ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি থেকে শুধু সামান্য অবসরকালীন ভাতা দেওয়া হত । বাংলার শেষ নবাব মনসুর আলী খান ১৮৮০ সালের ১লা নভেম্বর তার জেষ্ঠ্য পুত্রের জন্য ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করেন ।


মনসুর আলী খানের পদত্যাগের পর মুর্শিদাবাদের নবাব ও বাংলার নবাব মুর্শিদাবাদের নবাব বাহাদুর হিসেবে পরিচিতি পান যেহেতু ১৮৮০ সালে বাংলার নবাব উপাধিটি বিলুপ্ত হয়েছিল । সেসময় রাজস্ব আদায়ে তাদের খুবই কম বা অনেক ক্ষেত্রে কর্তৃত্ব ছিল না বললেই চলে এবং তারা বল প্রয়োগ থেকেও বিরত ছিল ।

১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর রাজ্যসমূহের ভারত বা পাকিস্তানের অঙ্গীভূত হওয়ার বাধ্যবাধাকতা ছিল । এটা উল্লেখ করা যেতে পারে যে মর্শিদাবাদ রাজধানী শহর দুদিনের জন্য পূর্ব পাকিস্তানের অঙ্গীভূত হয়েছিল কারণ এখানে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল । ১৯৪৭ সালের ১৭ই আগস্ট এটি ভারতের অঙ্গীভূত হয় । হাজারদুয়ারী প্রাসাদ থেকে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে তেরঙা ভারতের পতাকা উত্তোলন করা হয় । ভারতের সাথে একত্রীত হওয়ার পর এসব রাজ্যসমূহের ক্ষমতা খর্ব হয়ে যায় কারণ ভারত সরকার সকল রাজ্যসমূহের কর্তৃত নিয়েছিল ।

১৯৬৯ সালে শেষ নবাব ওয়ারিস আলী মির্জার সাথে সাথে নাবাব উপাধিটিও ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায় । যদিও তিনি তিনজন ছেলে ও তিনজন মেয়ে রেখে গিয়েছিলেন কিন্তু তার মৃত্যুর পূর্বে কোন উত্তরাধীকারী ঘোষণা না করে যাওয়ার দরুন নবাব উপাধিটিও এখানেই সমাপ্তি ঘটে ।


নিম্নের তালিকাটি বাংলার নবাবদের একটি তালিকা। সরফরাজ খান ও মীর মুহাম্মদ জাফর আলী খান বাহাদুর দুইবার করে বাংলার নবাব ছিলেন ।

ধারাটি ১৭১৭ সালে মুর্শিদ কুলি খানের আমলে শুরু হয়েছিল এবং ১৮৮১ সালে মনসুর আলী খানের সাথে সাথে ধারাটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল । নিচে বাংলার নবাবদের তালিকা এবং ছবি দেওয়া হলোঃ


সিরাজদ্দৌলা


জাফর খান বাহাদুর নাসিরি


আলা-উদ-দীন হায়দার জং


সুজা উদ-দৌলা


ওয়াল্লা জা


ইতিমাদ উদ-দৌলা


ফেরাদুন জা


হাশিম উদ-দৌলা


আজাদ উদ-দৌলা


মুবারক উদ-দৌলা


জাফর আলী খান বাহাদুর


আলী জা


হুমায়ুন জা


সাইফ উদ-দৌলা

১৮৮০ সালে বাংলার নাবাব উপাধিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর ১৮৮১ সালে বাংলার নাবাব পদটিও বিলুপ্ত হয়ে যায় । পরবর্তিতে মুর্শিদাবাদের নবাব উপাধিটি চালু হয় । মুর্শিদাবাদের তিনজন নবাব ছিলেন নিম্নে তাদের তালিকা এবং ছবি দেওয়া ।
মুর্শিদাবাদের নবাবদের তালিকা ও ছবি দেখুনঃ



আলী কাদির


আমীর উল-উমরা


রেইস উদ-দৌল্লা

আগামী পর্বে আমি বেঁচে থাকলে একে একে নবাব সিরাজদ্দৌলা থেকে শুরু সকল নবাব গণের জীবন সম্পর্কে লেখবো ।
আর আমি মরে গেলে আমারে সবাই মাফ করে দিয়েন ।

ছবি তথ্যসূত্রঃ গুগল থেকে সংগ্রহ ।
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×