somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি একটা গাধা!X( বাপ মায়ের টাহা নষ্ট করে লেহাপড়া শিখে আমি একটা মাইয়ার কথায় উঠি-বসি,:(প্রেমের গুষ্টি কিলাইX((শেষ পর্ব)

০৭ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টার্ম-ফাইনালের রিজাল্ট দিসে। অত্যন্ত বাজে অবস্থা।/:) হতাশা ঘিরেছে আমাকে। ভাবছি ভাল ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্ন সিকায় তুলতে হবে। ব্যাংকে চাকরী অথবা পুলিশ ডিপার্টমেন্টে চাকরীও জুটবে কি'না এই আশঙ্খা। নীলিমার দু'টি হাত নিজের হাতে ধরে মনে হয় শেষ আশ্রয় খুজছে বিষন্ন মন। ও এতক্ষণে ওর সমস্ত কথাবার্তা ২/৩ বার বলে ফেলেছে। হঠাৎ খেয়াল হল একটা কথা শুনে-
-"এই শোন, বাবা-মা আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে, চল না বিয়ে করে ফেলি। ফ্যামিলিকে আমি আর সামলাতে পারছি না"
বিশ্ববিদ্যালয়ের থার্ড ইয়ারের একটা ছেলে যে কতটা অসহায় থাকে তা জানলে বোধহয় বিয়ে করার জন্য বলতো না সে। তারপরে মেজাজটা এমনিতেই খারাপ ছিল আমার।
-ধুর, প্রতিদিন একই ঘ্যানঘ্যানানিX((, আর ভাল্লাগে না।
-কি করবো আমি? আমার আর কিইবা করার আছে?
-তুমি জাহান্নামে যাও। এই তোমার জন্য আমার জীবনের আজ করুন পরিনতি। লাইফটা হেল হয়ে গ্যাছে তুমার জন্য।X((
-আমি আবার কি করলাম?
-তুমি কিছুই করনাই। যাও তুমি ধোয়া তুলসীর পাতা। তোমার সাথে আমার কোনো রিলেশন নাই।X(((খুব সহজেই বলে ফেললাম)
-তুমি কি সিরিয়াসলি বলছো? একটু ভেবে বল।
-ভাবাভাবি শেষ। আমি তোমার সাথে আর রিলেশন রাখতে চাই না। আমি একা থাকতে চাই, আমি স্বাধীন থাকতে চাই।
-প্লিজ,তুমি এভাবে বলোনা। তুমি ছাড়া আমি আর কাউকে চিন্তাও করতে পারবো না। এক্টু শান্ত হও। সব ঠিক হয়ে যাবে। চল তোমাকে তোমাকে নাস্তা করাবো।
-তুমি আমার সামনে থেকে দুর হও এক্ষুনি। নাইলে আমি কোন অঘটন ঘটিয়ে ফেলব।X((
নীলিমা কান্নায় ভেঙ্গে পরলো। তবুও আমি শান্ত হতে পারি নাই, উদারতার পরিচয় দিতে পারি নাই। ও চলে গেলো।আকাশের নীলিমা ধীরে ধীরে রক্তিম সন্ধ্যায় মিলিয়ে গেল।
এক ফ্রেন্ডকে(রনক) ফোন দিলাম আমাকে নিয়ে যেতে(বাইকে করে)। ও আসলো স্টার হোটেলে ওর সাথে নাস্তা করে মনের অনেক কষ্ট শেয়ার করলাম ওর সাথে। বের হলাম অনেক্ষণ ঘুরলাম। ততক্ষনে রাত ১২ টা বেজে গেছে। রুমে ফেরার জন্য রওনা দিলাম। বাইক আমি ড্রাইভ করলাম। ৬০-৭০ গতিতে কিছুক্ষণ চললো। তারপর ৫ গিয়ারে গতি উঠলো ১০০ এর মত। হঠাৎ নীলক্ষেত মোড়ে দেখলাম তিনদিক থেকে ৩ টা মাইক্রো আর আরেকদিক থেকে একটা ভ্যানগাড়ি আমাকে আক্রমনের জন্যই আসছে। গতি কন্ট্রোল করতে পারলাম না। জোড়ে টান দিয়ে বের হয়ে যেতে চাইলাম। কিন্তু ভ্যানের পিছনের সাইডটা লাগলো আমার হাটুতে। মনে হলো গিড়ার বাটি ছুটে গ্যাছে। মোটা গ্যাবার্ডিন প‌্যান্ট ছিড়ে গীয়েও ইনজুড হলাম, অঝোড়ে রক্ত পড়ছে। পিছনে দেখি এক গাড়ি পুলিশ! আরো জোড়ে টান মারলাম। কোন দিকে যে টান মারলাম সেটা দেখার বিষয় না। পুলিশের বাউন্ডারী থেকে পার হলাম কোন মতে। নেমে পড়লাম। রনক ড্রাইভ করে নিয়ে গেল ল্যাব এইড এর ইমারজেন্সি বিভাগে। হালার পুতেরা ফার্স্টেই পুলিশ কেইস রিপোর্ট এন্ট্রি করে রাখল। এর পর হালকা পাতলা ট্রিটমেন্ট করে ব্লিডিং টা বন্ধ করলো।ডাক্তার জিজ্ঞাসা করলো,"কি এত রাতে বাইক নিয়ে বের হইছিলেন ক্যান?"উত্তর দিলাম,"শেখার জন্য" ।
এক্সরে করলো যে কোন ফ্র্যাকচার হইছে কি'না দেখার জন্য। বেডে শুয়ে আছি, দেখি নীলিমা ওর আম্মুকে সাথে নিয়ে হাজির! হালারপুত রনক মনেয় নীলিমাকে ফোন লাগাইছিল।
-কি এখন কেমন লাগছে? ভয়ের কিছু নেই, কিচ্ছু হবে না।
-হুম, ভাল লাগছে। তুমি আমার সাথে আর খারাপ ব্যবহার করবে না তো?
দেখলাম নীলিমার চোখ থেকে ঝড়ঝড় করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। আমার গা ভিজে যাওয়ার অবস্থা হলো। সে কান্না কিছুতেই থামতেই চায় না। কি আর করার আমি আবারও পরাজিত হলাম ওর শিশুর মত কান্নার কাছে। জিতে গেল নীলিমা। সত্যিকারের ভালবাসা যার জয়তো তারাই প্রাপ‌্য। আমি গাঁধা আর মানুষ হইতে পারলাম না।

শেষ হলো জীবনের একটি খণ্ড গল্পের।
ধন্যবাদ পাঠকদের।
........................
আগের পর্বগুলো Click
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:০৩
২৭টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×