টার্ম-ফাইনালের রিজাল্ট দিসে। অত্যন্ত বাজে অবস্থা।
-"এই শোন, বাবা-মা আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে, চল না বিয়ে করে ফেলি। ফ্যামিলিকে আমি আর সামলাতে পারছি না"
বিশ্ববিদ্যালয়ের থার্ড ইয়ারের একটা ছেলে যে কতটা অসহায় থাকে তা জানলে বোধহয় বিয়ে করার জন্য বলতো না সে। তারপরে মেজাজটা এমনিতেই খারাপ ছিল আমার।
-ধুর, প্রতিদিন একই ঘ্যানঘ্যানানি
-কি করবো আমি? আমার আর কিইবা করার আছে?
-তুমি জাহান্নামে যাও। এই তোমার জন্য আমার জীবনের আজ করুন পরিনতি। লাইফটা হেল হয়ে গ্যাছে তুমার জন্য।
-আমি আবার কি করলাম?
-তুমি কিছুই করনাই। যাও তুমি ধোয়া তুলসীর পাতা। তোমার সাথে আমার কোনো রিলেশন নাই।
-তুমি কি সিরিয়াসলি বলছো? একটু ভেবে বল।
-ভাবাভাবি শেষ। আমি তোমার সাথে আর রিলেশন রাখতে চাই না। আমি একা থাকতে চাই, আমি স্বাধীন থাকতে চাই।
-প্লিজ,তুমি এভাবে বলোনা। তুমি ছাড়া আমি আর কাউকে চিন্তাও করতে পারবো না। এক্টু শান্ত হও। সব ঠিক হয়ে যাবে। চল তোমাকে তোমাকে নাস্তা করাবো।
-তুমি আমার সামনে থেকে দুর হও এক্ষুনি। নাইলে আমি কোন অঘটন ঘটিয়ে ফেলব।
নীলিমা কান্নায় ভেঙ্গে পরলো। তবুও আমি শান্ত হতে পারি নাই, উদারতার পরিচয় দিতে পারি নাই। ও চলে গেলো।আকাশের নীলিমা ধীরে ধীরে রক্তিম সন্ধ্যায় মিলিয়ে গেল।
এক ফ্রেন্ডকে(রনক) ফোন দিলাম আমাকে নিয়ে যেতে(বাইকে করে)। ও আসলো স্টার হোটেলে ওর সাথে নাস্তা করে মনের অনেক কষ্ট শেয়ার করলাম ওর সাথে। বের হলাম অনেক্ষণ ঘুরলাম। ততক্ষনে রাত ১২ টা বেজে গেছে। রুমে ফেরার জন্য রওনা দিলাম। বাইক আমি ড্রাইভ করলাম। ৬০-৭০ গতিতে কিছুক্ষণ চললো। তারপর ৫ গিয়ারে গতি উঠলো ১০০ এর মত। হঠাৎ নীলক্ষেত মোড়ে দেখলাম তিনদিক থেকে ৩ টা মাইক্রো আর আরেকদিক থেকে একটা ভ্যানগাড়ি আমাকে আক্রমনের জন্যই আসছে। গতি কন্ট্রোল করতে পারলাম না। জোড়ে টান দিয়ে বের হয়ে যেতে চাইলাম। কিন্তু ভ্যানের পিছনের সাইডটা লাগলো আমার হাটুতে। মনে হলো গিড়ার বাটি ছুটে গ্যাছে। মোটা গ্যাবার্ডিন প্যান্ট ছিড়ে গীয়েও ইনজুড হলাম, অঝোড়ে রক্ত পড়ছে। পিছনে দেখি এক গাড়ি পুলিশ! আরো জোড়ে টান মারলাম। কোন দিকে যে টান মারলাম সেটা দেখার বিষয় না। পুলিশের বাউন্ডারী থেকে পার হলাম কোন মতে। নেমে পড়লাম। রনক ড্রাইভ করে নিয়ে গেল ল্যাব এইড এর ইমারজেন্সি বিভাগে। হালার পুতেরা ফার্স্টেই পুলিশ কেইস রিপোর্ট এন্ট্রি করে রাখল। এর পর হালকা পাতলা ট্রিটমেন্ট করে ব্লিডিং টা বন্ধ করলো।ডাক্তার জিজ্ঞাসা করলো,"কি এত রাতে বাইক নিয়ে বের হইছিলেন ক্যান?"উত্তর দিলাম,"শেখার জন্য" ।
এক্সরে করলো যে কোন ফ্র্যাকচার হইছে কি'না দেখার জন্য। বেডে শুয়ে আছি, দেখি নীলিমা ওর আম্মুকে সাথে নিয়ে হাজির! হালারপুত রনক মনেয় নীলিমাকে ফোন লাগাইছিল।
-কি এখন কেমন লাগছে? ভয়ের কিছু নেই, কিচ্ছু হবে না।
-হুম, ভাল লাগছে। তুমি আমার সাথে আর খারাপ ব্যবহার করবে না তো?
দেখলাম নীলিমার চোখ থেকে ঝড়ঝড় করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। আমার গা ভিজে যাওয়ার অবস্থা হলো। সে কান্না কিছুতেই থামতেই চায় না। কি আর করার আমি আবারও পরাজিত হলাম ওর শিশুর মত কান্নার কাছে। জিতে গেল নীলিমা। সত্যিকারের ভালবাসা যার জয়তো তারাই প্রাপ্য। আমি গাঁধা আর মানুষ হইতে পারলাম না।
শেষ হলো জীবনের একটি খণ্ড গল্পের।
ধন্যবাদ পাঠকদের।
........................
আগের পর্বগুলো Click
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



