somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৬টা ডিম আর ১টা গার্লফ্রেণ্ড!

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তখন বুয়েটে ভর্তি ফরম কিনতে এসেছিলাম। পেটে খুব খুধা। ক্যাফেতে এক বড়ভাইকে দেখলাম ডিম দিয়া ভাত খাইতেছে! সাথে এক আপু বসে বসে খাওয়া দেখতেছে। মনে হয় কোনদিন ডিম খায় নাই!

আমিও ডিম ভাত নিলাম। মনে মনে ভাবলাম বুয়েটে চান্স পেলে আমি একসাথে ৬টা ডিম খাব। একলা খাব। কাউরে দিব না। অবশ্য ৬টা ডিম খাওয়ার যৌক্তিকতা আছে। ৬টা গার্লফ্রেণ্ড হবে!

ফার্স্ট-সেকেন্ড ইয়ারে ডিমদুধের কথা মনে ছিল না। থার্ড ইয়ারে ডিম জল খেয়ে নামলাম গার্লফ্রেণ্ড খোজায়। একদম গরু খোজা!

মেডিকেলের একটা পাইলাম। দেখতে ভালই। অবশ্য দেখতে আমার চেয়ে বড় মনে হয়। মনে হয় ভাইবোন! ঐডারে নিয়া কিছু দিন কাটালাম। মেয়েটার একটা ভয়ংকর বদ অভ্যাস ছিল। যা দেখে তাই খাইতে চায়! গাছ পালা, পাথরের মূর্তি পর্যন্ত খেয়ে ফেলতে চায়! পেট কাটলে মনে হয় কিছু কনিকেল ফ্লাস্ক পাওয়া যাবে! ওই পাঠ চুকিয়ে ফেললাম।

এরপর প্রায় ডজনখানেক প্রেম করার সুযোগ হল। শেষটা এক বড়লোকের দুলালী। মারাত্নক বোকা! মেয়ের বাপ বড় ব্যাবসায়ী। একদিন দাওয়াত দিল বাসায়। নোংড়া টিশার্ট আর চটি স্যান্ডেল পড়ে গেলাম।

মেয়ের বাপের সাথে কথা হল। যত্ন করে বসতে দিল।
-কি নাম তোমার বাবা?
-কুদ্দুস।
-কই থাকো?
-ভিআইপি মেসে থাকি। (উপরে টিনশেড এই জন্য ভিআইপি!)
-বাহ্ খুল ভাল......।
-তোমার আব্বু কি করেন?
-তিনি কয়েকটা ফার্মের মালিক।
-বাহ্ দারুন তো.....! আগে খাওয়া দাওয়া, এরপর গল্প করবো।

খুশিতে অস্থির অবস্থা উনার। ভাবছে মাইয়া আমার আসল জায়গায় হিট করছে! শালা লোভী কোথাকার!

খাওয়ার টেবিলে গেলাম। দেখলাম সবই আছে। কিন্তু ডিম নাই! বললাম ডিম আমার চাই। সাথে সাথে ডিম সিদ্ধ হাজির!

খাওয়া দাওয়া বেশ তৃপ্তি নিয়া শেষ করলাম। ইশ কত্তদিন পর ডিম দিয়া কয়ডা ভাত খাইতে পারলাম। আংকেল আবার শুরু করলেন-
-আচ্ছা কুদ্দুস, তোমার বাপের ফার্মের নাম কি?
-কুদ্দুস এগ্রো ফার্ম।
-কিসের ফার্ম এটা?
-ধান আর পাটের।
-মানে! কই এটা?
-কেন আমাদের গ্রামে।
-হাউ ননসেন্স ইউ আর!
-কেন আঙ্কেল?
-বামন হইয়া চান্দের দিকে হাত বারাস!
-আংকেল যদি কিছু মনে না করেন একটা পার্সোনাল কথা জিগাই।
-কি বলতে চাও?
-আপনার কি হাই প্রেশার?
-একটু হাই। কিন্তু কেন?
-তাহলে আমার আপনার সাথে কথা বলা উচিত না।
-কেন?
-একজন দার্শনিকের নিষেধ।
-আমি কি দার্শনিকের নামটা জানতে পারি।
-পারেন........।
-কে সেই মহান ব্যক্তি?
-আমার বাবা।
-খামোশ বেয়াদপ!
-উনি একজন জনপ্রতিনিধি। অনেক বড় জনপ্রতিনিধি।
-কী উনি?
-ওয়ার্ড মেম্বার।
-চুপ ফকিরের বাচ্চা!

ভদ্রলোক রাগে গজগজ করতে করতে ভিতরে চলে গেলেন। ভিতরে গিয়ে মেয়েকে মনে হয় পিটুনী দিবে। কি মনে করে যেন ফিরে এলো। মনে হয় পর পুরুষের সামনে পিটুনী দিবে না।

এসে বলল-
-আচ্ছা কত টাকা হলে আমার মেয়েকে ভূলে যাবে?
-সত্তর টাকা।
-মাত্র সত্তর টাকা! কি করবি এত কম টাকা দিয়ে?
-২০ টাকা রিক্সাভাড়া। আর ৫০ টাকায় দেড় হালি ডিম.....।
-আমার মেয়ের প্রেমের দাম মাত্র ৭০ টাকা! ফাইজলামী করস? বেশি করে চা।
-দেন। ৭০ কোটি দেন।

মাথা চুলকাতে চুলকাতে ভিতরে গেল। একটু পরে সত্তর টাকা নিয়া ফিরে আসলো। আমার হাতে গুজে দিল। বলল,
-আবার যদি আমার মেয়ের সাথে দেখা করিস তাহলে তোর কান ছিড়ে ফেলবো।
-ঠিক আছে। আপনার মেয়ে যদি আমার সাথে দেখা করে তবে ৭০ টাকা করে জরিমানা হবে।

বাসা থেকে চলে আসলাম। বসলাম সেই চিরচেনা চন্দ্রিমা উদ্যানে। দেখি একজোড়া কোমল হাত আমার মাথায় অনুভব করলাম। না দেখে চিনে ফেললাম। এই হাত আমার চিরচেনা।

এক সপ্তাহ পর আবার ওর বাসায় গেলাম। ওর বাবার কাছে ৭০০ টাকা চাইলাম।
-৭০০ টাকা কেন?
-আপনার মেয়ে গত সপ্তাহে ১০ বার আমার সাথে দেখা করেছে।

টাকা নিয়ে বিদায় হলাম। অনেকগুলা ডিম কিনলাম। ডিম হলে সব হবে। ডিম থেকে বাচ্চা হয়। বাচ্চা থেকে মুরগী। এর পর আমার ডিম। চারপাশে শুধু ডিম আর ডিম। ডিমময় দুনিয়া। একটা কবিতা -

"হাট্টি মা টিম টিম
তারা মাঠে পাড়ে ডিম
তাদের খাড়া দুটি শিং
শুধু ডিম আর ডিম"

দীর্ঘ্যদিন দেখা হয় না। বাবা মনে হয় মেয়েকে আটকে রেখেছে। আজ আকাশে অনেক তারা। একটা চাদও আছে। তারাগুলো ছোট ছোট। কারণ আমাদের চেয়ে তারার দুরত্ব অনেক। দুরের জিনিস বড় হলেও ছোট দেখায়। চাদের আলোয় হাটছি। গন্তব্য জানি না......
৮টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×