
গতকাল খৈয়াছড়ায় গেছিলাম। খৈয়াছড়া চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত। সম্ভবত মিরসরাই-সীতাকুণ্ড বেল্টে যতগুলা ঝর্ণা আছে তারমধ্যে সবচেয়ে সুন্দর (সুন্দরের ব্যাপারটা আপেক্ষিক) এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঝর্ণার ১৩টা ধাপ (কেউ কেউ বলেন ১২টা, আমি তো গুইণা দেখলাম ১৬টা!)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩ নাম্বার ধাপের উচ্চতা ২০০০ ফিটের উপরে। প্রথম ধাপ থেকে ১৩ নাম্বার ধাপে যেতে হলেও প্রায় ১৫০০ ফিট উঠা লাগে এবং দূরত্ব অনেক। কখনো সহজেই উঠা যায় আবার কখনো একদম খাড়া। গাছের শেকড় বাকড় ধরে অনেক ঝুঁকি নিয়া উঠা লাগে। বিশেষ করে প্রথম ধাপ থেকে দ্বিতীয় ধাপ এবং ১২ নাম্বার ধাপ থেকে ১৩ নাম্বার ধাপে যাওয়ার রাস্তা খুবই রিস্কি। এতটাই রিস্কি যে বেশিরভাগ প্রকৃতিপ্রেমি (!) প্রথম ধাপেই থাকেন। শতকরা তিরিশ জন উপরে উঠেন তার মধ্যে খুব অল্পই ১৩ নাম্বারের সৌন্দর্য দেখতে পারেন। প্রকৃতিপ্রেমের সাথে এইখানে বড় কলিজারও দরকার হয়।
যাই হোক, খৈয়াছড়ার রূপের বর্ণনা দেয়া আমার আজকের লেখার উদ্দেশ্য না। তবে এতগুলো ইনফরমেশন দিয়ে ভূমিকা দেয়ার কারণ আছে। ১২ নাম্বার ধাপ থেকে ১৩ নাম্বারে উঠতেছিলাম। উপরের ছবিটা ১২ নাম্বারের ধাপ থেকে তোলা। ভেবে দেখেন, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮০০ ফিট উপরেও প্রকৃতিপ্রেমিদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের বোতলের ছড়াছড়ি। এইরকম কয়েক হাজার ছবি দেয়া যাবে। মেনে নিলাম, ১ম ধাপে মানুষ বেশি যায় তাই ঐখানে গবেটের সংখ্যা বেশি। এত কষ্ট করে যারা এত উপরে উঠেন, তারা তো আসলেই প্রকৃতিরে ভালোবাসেন বলেই এতটা কষ্ট করেন। এত উপরে উইঠা প্রকৃতির বারোটা বাজানোর তো কোন দরকার নাই। এতটুকু বিবেক তো আমাদের থাকা উচিৎ।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



