
এখানে অনেকগুলো নগরের মাঝে একটা দুইটা গাছ। মানুষগুলো নগরের মতো, গেইটওয়ালা দালান। গেইট না খুললে ঢুকাই যায় না। অনেকক্ষণ কলিংবেল টিপার পর বিরক্ত হয়ে আমরা আবার গাছগুলা খুঁজি। কোন দালানের চিপায় কে জানে। ব্যাপারটা এমন না যে, অনেক রোদ আর আমরা কিঞ্চিৎ ছায়া খুঁজতেছি। আমরা খুঁজতেছি শৈশব অথবা আট আনা দামের বড়ই আচারের প্যাকেটের আনন্দ। এক বিচি তুমি আর এক বিচি আমি। মুখে পুরে দিলেই দুইজন মেঘের দেশে। গাছগুলা কই? পুরা নগরজুড়ে একটা দুইটা গাছ আছে যার সাথে তুমি শৈশবের সই পাতাইতে পারতা। ইট পাথরের দালানগুলার ধাপ্পায় গাছগুলা আর তোমারে বিশ্বাস করে না। গাছগুলা লুকায়া থাকে মুখের উপর কালা চাদর দিয়া। দূর থেকে দেখে পাথর মনে হয়। কাছে গেলে এরা দালানের ভাব নেয়। পাশে বসতেই দিবে না। গাছ, তোমারে আমি চিনি। কয় দিন আর ভাব নিবা। একদিন আমারেও তোমার লাগবে।
বড়ই আচারের প্যাকেট শেষ। তুমি কইলা মানিব্যাগে দুইটা ৫০০ টাকার নোট আছে। আরেক প্যাকেট আনো। আরে ৫০০ টাকা দিয়ে কি আর সেই আচারের প্যাকেট পাইবা? আটআনার পয়সা লাগবে। ৫০০ টাকায় আচার পাওয়া যাবে না। আট আনার পয়সা গায়েব, আচারও গায়েব, এদিকে লাটিম খেলার সঙ্গী সাথীরাও গায়েব। হঠাৎ দেখি তুমিও নাই। আরে, আমিও তো নাই। তুমি হয়ে গেছো পিতা আর আমি অফিসার। শুধু গাছটা গাছ আছে। লাটিমটাকে আমরা ঠুঁকে দিয়েছি দেয়ালে আর লাটিমের রশি থেকে ঝুলিয়ে দিয়েছি একটা পাপেট। কী আশ্চর্য! ঐ দেয়ালে ঝুলে আছো তুমি আর এই দেয়ালে আমি!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০২১ বিকাল ৫:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



