somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের কান্না।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলাদেশের স্বাস্হ্য খাতে অনন্যা অবদান ও ডিজিটাল অগ্রযাত্রার অন্যতম হাতিয়ার হলো কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (CHCP) গন।
বর্তমান চিকিৎসা ব্যাবস্হা ও আধুনিকায়নের অন্যতম সৈনিক হলো এই ১৪০০০ হাজার তরুণ তরুণী ।
মাঠ পপর্যায়ের সকল তথ্য ও ডাটা তাদের মাধ্যমেই প্রেরন করা হয় অনলাইনে।

তারাই আজ বিপর্যয়ের পথে।CHCP দের এই বিপর্যয়ের জন্য অনেকেই দায়ী।


এক বিভাগের স্বাস্হ্য কর্মী কিন্তূ প্রাপ্তি দুই রকমের। CHCP রা নাকি কাজ করেনা,তাহলে কে করে সিসিতে কাজ???????

কমিউনিটি ক্লিনিকে যেসব অত্যাবশ্যকীয় সেবা দেওয়া হয়।
* প্রজনন স্বাস্হ্য সেবা
* শিশুর স্বাস্হ্যসেবা
* সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ মুলক সেবা
* সীমিত নিরাময়মুলক সেবা
* আচার - আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে পরামর্শ প্রদান।
এই সব কাজ তাহলে কে করে????

তারা নাকি ফাকিবাজ,

এই কথা যখন খোদ একজন উর্ধ্ধতন কর্তৃপক্ষ বলেন সত্যি অবাক লাগে। আর যারা এই মিথ্যা গুলো উপর মহলে
এসব বলে বেরায় তারাই মাঝে মধ্যে এসে দেখে যায় CHCP রা কি করে কি করেনা।
তারপর শুরু হয় চুলকানি, এমন চুলকানি কেন তেনাদের?
তার পর ওনারা ও ওনাদের বসদের সাথে বসে আরম্ভ করেন CHCP দের চৌদ্দগোষ্টী উদ্বার করা।
ওনারা নাকি CHCP দের অনেক সাহায্য করেন,।

কি সাহায্য করেন?

তার নমুনা হলো হাজিরা খাতা ঠিক রাখা।

যদি এটাকেই সাহায্য করা বলে তবে ঠিকই ওনারা অনেক সাহায্য করেন CHCP দের ।কর্তৃপক্ষ শুধু বলে CHCP রা নাকি ডিউটি করে না,। যদি CHCP রা ডিউটি ঠিক মত না করত তবে কমিউনিটি ক্লিনিক ঠিকই আবর্জনার স্তুপ হয়ে পরে থাকত এতোদিনে।

যেই সিসিতে CHCP নেই সেই সিসির কি অবস্হা একটু খোজ নিলেই বুঝা যাবে কি অবস্হা, কোন খাতা বা ঔষুধের সঠিক হিসাব তো দুরে থাক রোগী- সিরিয়ালটাই ঠিক মতো লেখা পাওয়া যাবেনা।

একটা সিসিতে ৩ জন কর্মী কাজ করার কথা, CHCP. HA. FWA।
কিন্তূ বাস্তবে করে একজন CHCP.
কম্পিউটার ট্রেনিং,
পুষ্টি ট্রেনিং
আরো কিছু ট্রেনিং করানো হয় সকল স্বাস্হ্য কর্মীদের একসাথে, কিন্তূ CHCP দের ট্রেনিং করানোর সাথে সাথে শুরু হয় কাজ।
CHCP দের বেলায় এক নিয়ম কিন্তূ HA দের বেলায় আরেক নিয়ম। ল্যাপটপ ট্যাবে তো এক সাথে দেওয়া হয় তাহলে CHCP রা কেন একাই কাজ করব।


বাচ্চাদের পুষ্টি নির্ণয় করতে অনেক সমস্যায় পরতে হয়,
কিন্তূ ট্রেনিং তো CHCP রা একা পায় নি।
তাহলে CHCP রা কেন একা করবে?
করতে হবে কারন ওরা CHCP
কর্তৃপক্ষের এটা নিয়ে তেমন কোন মাথা ব্যাথা আছে???
প্রতিটি সিসি যখন ভিজিট হয় CHCP কি করে কি করেনা সেটাই দেখা হয়, অন্য দুইজন হাজিরা দেওয়া ছাড়া আর কি করেন সেটা কখনই দেখা হয় না।
CHCP ছুটি নিতে চাইলে ওনাদের কাজ এমন ভাবে বেড়ে যায় যেন ওনাদের বাথরুম এ যাওয়ার ও সময় নেই।
তার পরও যদি ছুটি পাওয়া যায় দেখা যায় ছুটি থেকে গিয়ে ওনারা সিসিতেই আসেননি, আর আসলেও ঔষুধের হিসাব মিলাতে মিলাতে ঔ দিন শেষ, ঔষুধ খরচ লেখা ১০ বাস্তবে নেই ৫০।
CHCP তদারকি করার দায়িত্ব যার কাছে সে তার নিজ গোত্রীয় সম্প্রদায় কে কখনই কিছু বলবেনা বা বলতে সাহস পায়না।
CHCP দের কাজ নির্দিষ্ট জায়গাতে তাই CHCP দের সহজেই ফাকিবাজ বলা যায়, আর ওনাদের তো নির্দিষ্ট কোন জায়গাতে ডিউটি করতে হয় না।
তাই কে ডিউটি করল কে করলনা তা কখনই বোঝা যায় না।
বাড়িতে না বাজারে ডিউটিতে নাকি শশুড় বাড়িতে বোঝার কোন উপায় নাই
কর্তৃপক্ষের বাস্তবিক কোন ধারনা আছে সিসি সত্যিকারে অর্থে যে চালায় সে কতটা মানষিক যন্ত্রনায় ভুগে???
সিএইসিপিরা কাজ করে না, তাহলে কে করে?


CHCP রা কতটা দক্ষ তার কোন ধারনাই কর্তৃপক্ষের নেই।

একজন সিএইচসিপি কি কি কাজ করে

১. ঝাড়ু ( মাস্টার্স পাশ একজন ছেলে/মেয়ে ) ঝাড়ু দেয় সত্যি অসাধারন ব্যাপার।
বাথরুম পরিষ্কার ও করতে হয়।
২. সেবা গ্রহিতা দের সেবা দেওয়া ( ৩ জনের টা একজন ) যত সহজে বলা হয়েছে সেবা দেওয়া ততটা সহজ নয় বিষয়টা।
৩. ঔষুধের হিসাব (এখন আবার অনলাইন হিসাব দিতে হবে )
৪. সি জি মিটিং ( মিটিং নয় নিজের পকেটের টাকা খরচ করে পার্টি দেওয়া, খাওয়া দাওয়া ছাড়া আর কিছুই হয় না) সাথে ঔষুধ বিতরন ফ্রি চাহিদা মোতাবেক সিজি গ্রুফের।
৩০০-৫০০ টাকা খরচ সেটাও CHCP কেই বহন করতে হবে। তাদের তো আবার টাকার অভাব নেই।

৫. সি এস জি মিটিং ( খাওয়া আড্ডা ছাড়া কিছুই না ) যাওয়ার সময় চাহিদা মতো ঔষুধ নেওয়া
৬. তহবিল গঠন ( অর্থ সংগ্রহ) এই অর্থ সংগ্রহ করতে নিজেকে ঘুষখোর বানানো।
৭. কাউন্সিলিং করা। যদি ও আমরা বলতে চাই কিন্তূ কেউ শুনতে চায়না।
৮. পরিবার পরিকল্পনার কর্মীদের কাজ করা
বড়ি, কনডম, ইনজেকশন, দেওয়া
৯. ইন্ডিভিজিয়াল রেকর্ড করা
( সেটা যে করেই হোক করতে হবে নেট সমস্যা, সার্ভার সমস্যা, ল্যাপটপ মডেম থাকুক বা না থাকুক ভালো নাকি মন্দ সেটা দেখার কোন দরকার নেই কর্তৃপক্ষের )।
১০. অনলাইন রিপোর্টিং।
ক। সাধারন রোগী-
খ। নবজাতক ও শিশুস্বাস্হ্য
গ। মাতৃসাস্হ্য
ঘ। সিসির যাবতীয় তথ্য প্রদান
১১. মা সমাবেশ করা।
১২. বিভিন্ন ভিজিট টিম ফেইস করা।
১৩. স্যাটেলাইট করা আদতে করার কথা FWV কিন্তূ ওনারা এমন ব্যাস্ত থাকেন যে শুধু গর্ভবতীর ওজন টাই দেখেন বাকি সবই CHCP দের করতে হয়।
১৪. স্কাইফি তে ডিজিটাল উপস্তিতি ( সকাল ৯ টায় ) নোট:
CHCP আসল কিনা সেটাই দেখা বাকিরা তখনও ঘুমে।
১৫. পুষ্টি নির্ণয়। ওজন, উচ্চতা, মুয়াক,

রেজিস্টারের মধ্যে লেখা।

১৬. সাধারন রোগী- রেজিস্টার।( একেকটা রেজিস্টারের ওজন ৫ কেজি করে হবে)
১৭. নবজাতক শিশু স্বাস্হ্য রেজিস্টার।
১৮. মাতৃসাস্হ্য রেজিস্টার।
১৯. প্যাথলজিকাল রেজিস্টার।
২০. রেফারেল।
২১. রেফারেল রেজিস্টার।
২২. যন্ত্রপাতি ও আসবাব পত্র রেজিস্টার।
২৩. স্টেশসনারি রেজিস্টার।
২৪. ঔষুধ মজুদ মুল রেজিস্টার।
২৫. ঔষুধ মজুদ রেজিস্টার ( দৈনিক )
২৬. GMP কার্ডে শিশুর পূষ্টি নির্ণয় করা ও মনিটরিং করা।
২৭. NVD ( স্বাভাবিক প্রসব করানো)
২৮. ম্যালেরিয়া পরিক্ষা ( RDT)
২৯. রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয় (RBS)
৩০. বিভিন্ন জাতীয় দিবসে ( ছুটির দিনে) বিশেষ সেবা।
৩১. বিভিন্ন জাতীয় প্রোগ্রাম অংশগ্রহন করা। শীটে লেখা থাকে ৩ জনের নাম কিন্তূ বাকি ২ জনকে চোখেও দেখা যাবেনা, আর টাকা সেটা তো যার পকেটে অফিস থেকে দেওয়া হয় সেখানেই শেষ।
আরো অনেক কাজই CHCP কে করতে হয়, তার পরও ওরা ফাকিবাজ, কোথায় বসে ওরা সেবা দেয় সেটা কেউ দেখেনা
বসার জন্য ভালো চেয়ার নেই। কখন সিসি মাথার উপর ভেংগে পড়ে তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই।
মাস শেষে সময় মত বেতন নেই।একি বেতনে চাকুরি।বিদুৎ নেই।পানি নেই।বাথরুম নেই।ঠিকমতো প্রশিক্ষন নেই, থাকলেও দেখা যায় ওদের জায়গাতে অন্য কেউ। আর ভাতার কথা সেটা না বলাই ভালো,
বিভিন্ন বিল যেমন পরিবহন বিল স্টেশসনারি বিল এসব পাওয়ার কথা তো চিন্তাই করা যাবেননা।
আর মারা গেলে তো কথাই নেই শোকবার্তা তেই সব শেষ।
তারপরও কিছু টগবগে তরুন তরুনী এই মানব সেবায় নিজেদের বিলিয়ে দিচ্ছে। ওদের কাজ করার মনমানুষিকতা রয়েছে যদি এদের ঠিকমতো ব্যাবহার করা যায় তবে দেশ অনেক এগিয়ে যাবে স্বাস্হ্য খাত পাবে বিশাল সফলতা।
ওরা চায় স্বাভাবিক একটা জীবন, চাকুরীর নিশ্চয়তা। কিছু পদক্ষেপ পারে কমিউনিটি ক্লিনিক, সাধারণ মানুষ, ও এই ১৪০০০ হাজার তরুনের জীবন বাঁচাতে।

নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

১. চাকুরি রাজ্বস করন।
২. দীর্ঘ মেয়াদী ট্রেনিং ( কমপক্ষে ২ বছর )।
৩. বেতন বৈষম্য দুর করা (১২ তম) গ্রেড প্রদান।
৪. কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ (CHCP) দের মধ্যে
৫. তদারকির দায়িত্ব মেডিকেল অফিসারদের হাতে ন্যাস্ত করা।
৬. সিসি মেরামত করা অথবা ভেংগে নতুন করে করা, রুম বৃদ্ধি কমপক্ষে ৪ রুম।
৭. একজন সহকারী নিয়োগ আয়া/গার্ড করা।

লিখাটি ফেসবুক হতে সংগৃহিত এখানে লিংকটি সংযুক্ত করা হলো ।

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:৫১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×