নানাবাড়িতে শৈশবের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে । মাঝেমধ্যে খুব বেশি মনে পড়ে । আমার নানারা ছিলেন তিন ভাই । তিনজনের মধ্যে বড় নানা এবং ছোট নানা ছিলেন ব্যবসায়ি, মেঝো নানা আব্দুস সামাদ খান ছিলেন অত্যন্ত নামকরা পুলিশসুপার (তিনি সর্বশেষ, NSI এর ডেপুটি ডায়রেক্টার হয়েছিলেন) । মেঝো নানা পুলিশে চাকরি করলে জীবনে কোন দিন ঘোষ দুর্নীতির সাথে জড়াননি, কারণ তিনি ছিলেন ধর্মপরায়ণ । অপরদিকে বড় নানা মমরুজ খান (আমারা মায়ের বাপ) ছিলেন পালা গানের ননিবেদিত প্রাণ । আমরা শৈশবে দেখেছি নানা ঘড়ে বসে হারমোনিয়াম বাজিয়ে একা একা গান গাইতেন । আর ছোট আব্দুল মজিদ খান ছিলেন সাংস্কৃতি মনা মানুষ । আমার নানা মমরুজ খান মারা যাওয়ার পর যখন নানা বাড়ি যেতাম তখন বিশেষ করে বর্ষাকালে আমার ছোট নানা আব্দুল মজিদ খান, পুথি পাঠের আয়োজন করতেন । বাংলা ঘরে অথবা উঠানে শীতলপাটি বিছিয়ে আমরা সবাই বসতাম । নাতি নাতনিদের সাথে নিয়ে নানা বসতেন শীতলপাটিতে । পুথি পাঠক ‘শায়ের’ বসতেন একপাশে । গাছার উপর থাকত লেম (লেম>কেরসিনের কুপি, গাছা>কুপি রাখার পাত্র) । জলচকির উপর থাকত পুথি বই (জলচকি> বসার পপিড়ি, চার পা ওয়ালা) পুথয়াল বা শায়ের সুর করে পুথি পাঠ করত, আমরা নিশ্চুপ শুনতাম । নানু (হেনা খাতুন চৌধুরী) এবং খালারা অনেক ধরণের নাস্তা চা ইত্যাদি বানিয়ে কিছুক্ষণ পরপর পাঠাতেন । এভাবে অনেক দিন পুথি শুনেছি, কিচ্ছা শুনেছি । এখন সময়ের ব্যবধানে নানা বাড়িতে যাওয়া হয়না অনেকদিন । নানা অসুস্থ, বিছানা থেকে উঠতে পারেননা । খালাদের বিয়ে হয়েছে । মামারা চাকুরী করেন, একজন দেশের বাইরে থাকেন, একজন সিলেট থাকেন, অন্য মামারাও মারা গেছেন । মামাতো ভাইয়েরাও শহরে থাকে । সব মিলিয়ে নানা বাড়ির সেই পরিবেশ হাকডাক না থাকলে শৈশবের স্মৃতিগুলো মাঝেমধ্যে মনেপড়ে । বর্তমানে পুথি পাঠের আসর কোথা শুনা যায়না । তাই নিজেই পুথি লিখতে শুরু করেছি । আশাকরি খুব শীঘ্র লেখা শেষ হবে । এই পুথি সাহিত্য একসময় নিম্নবিত্তের চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে সৃজনশীল, মানবভাবনা ও কাব্যিক মনোভাব সম্পন্ন মানুষ ছাড়া পুথির পাঠ করতে চায় না এমনকি পুথি পাঠকও পাওয়া যায় না। তাই নিজে থেকে উদ্যোগ নিয়েছি- এবারের বইমেলা আমার লেখা ‘ভাবের পান্থশালা’ ২২০টি গানের বইয়ের সাথে নেজর লেখা একটি পুথির বইও প্রকাশ করব । সর্বোপরি ফেব্রুয়ারি মাসে দিরাই অডিটরিয়াম হলে পুথি পাঠের আসর দেবো, সেথানে আমি নিজেই পুথি পাঠ করে শুনাব স্থানীয়দের সবাইকে । নানা বাড়ির সেই স্মৃতিগুলো মনে হওয়া থেকে এই উদ্যোগ নিলাম । এই উদ্যোগে স্থানীয় লোকজন পুথি সাহিত্যের প্রতি উৎসাহি হতে পারে । এই প্রত্যাশায় ...
নানাবাড়ির স্মৃতি এবং আমার পুথি লিখা
মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?
বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন
তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না
আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন
যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....
“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন
সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন
ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ
পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।