গোয়াহাটি ২১ মে।। এম বি ফয়েজ।।
মোদি-সুনামিতে গোটা দেশের সঙ্গে অসমেও যে বিপুল জনাদেশ গেছে বিজেপির পক্ষে, তাতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সরকারের বেশ কয়েক জন মন্ত্রীর ‘ঘর’ও। মুখ্যমন্ত্রীর নিজ সমষ্টিতে বিজয় সাব্যস্ত করেছেন বিজেপির প্রার্থী কামাখ্যা প্রসাদ তাসা। মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈর সঙ্গে যারা ছায়ার মতো লেগে ছিলেন তাদের অনেকেরই পায়ের নিচের মাটি যেমন আলগা হয়েছে, তেমনি বিক্ষোব্ধদের বেশ কয়েক জন মন্ত্রীর অবস্থাও দারুন কাহিল হয়ে পড়েছে সাম্প্রতিক লোক সভা ভোটের ফলে। রাজ্যের অন্তত ১১ জন মন্ত্রীর নিজের কেন্দ্রে ভোটের নিরিখে জয় হয়েছে বিজেপির। বিজেপি ঝড় ঠেকাতে ডাহা ফেল করেছেন কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রীরাও।
আশির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে তরুণ গগৈ যখন বিক্ষোব্ধ শিবিরের সঙ্গে লড়াই করে কংগ্রেসকে জেতাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন, তখন নিজের অনুগামী মন্ত্রীদের কাছ থেকে ততটা সহায় পাননি। অন্তত ভোট প্রাপ্তির নিরিখ তা-ই বলছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত শক্তিমন্ত্রী প্রদ্যোত বরদলৈ, কৃষিমন্ত্রী নীলমনি সেন ডেকা, জলসেচ মন্ত্রী ড০ অর্ধেন্দুকুমার দে, জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী গৌতম রায় প্রমুখ যেমন নিজেদের কেন্দ্রে জমি হারিয়েছেন, তেমনি জলসম্পদ মন্ত্রী রাজীবলোচন পেগু, সংস্কৃতি মন্ত্রী প্রণতি ফুকন, সমাজ কল্যান মন্ত্রী অকন বরা, রাজস্ব মন্ত্রী পৃথ্বী মাঝি, পরিকল্পনা মন্ত্রী টঙ্কবাহাদুর রাই-দের কেন্দ্রেও কংগ্রেসকে পরাজয়ের গ্লানি মাথা পেতে নিতে হয়েছে।
রাজধানী শহর গোয়াহাটীর অদূরে জালুকবাড়ী কেন্দের একনায়ক বলে পরিচিত বিক্ষোব্ধ শিবিরের নেতা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগের মন্ত্রী ড০ হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও নিজের কেন্দ্রে কংগ্রেসকে জেতাতে পারেননি। মোদি-হাওয়ার প্রাবল্যে ভেসে গেছে জালুক বাড়ী ও রাজধানী কেন্দ্র ‘দিসপুর’ও। সমবায় মন্ত্রী সিদ্দেক আহমদের দক্ষিণ করিমগঞ্জ কেন্দ্রে শাসক দলের স্থান হয়েছে তৃতীয়। এই কেন্দ্রে বিজয় হাসেল করেছেন এ আই ইউ ডি এফ প্রার্থী। একই অবস্থা জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী গৌতম রায়ের কাটলিছড়া কেন্দ্রেও। ভোটের নিরিখে সেখানে প্রথম স্থানে এ আই ইউ ডি এফ, দ্বিতীয় স্থানে বিজেপি এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে শাসনাধিষ্ঠ কংগ্রেস।
শাসনাধিষ্ঠ কংগ্রেস দল এবার অসমে গো-হারা হারার নেপত্য কাহিনী কি, সে নিয়ে পড়ুন পরবর্তী প্রতিবেদনে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


