somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১০ বছর পরও ‘সাদ্দাম-ভূত’ দেখছে আমেরিকা

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(এম বি ফয়েজ) ওয়াশিংটন: ইরাকে তখন মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর আক্রমণ চলছে। সেই সময় নিজেকে সরকারের কাজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন ইরাকের দোর্দন্ডপ্রতাপ শাসক সাদ্দাম হোসেন। তাঁর শাসন কালের শেষ বছরে ইরাকে কী হচ্ছিল, তার কোনও ধারণাই ছিল না তাঁর। ইরাককে রক্ষা করারও কোনও পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। ইরাকে যে ঝড় ধেয়ে আসছে তার তীব্রতা সম্পর্কেও আঁচ করতে পারেননি তিনি। ২০০৩-এ নিশ্চিন্তে উপন্যাস লেখায় ব্যস্ত ছিলেন সাদ্দাম। ২০০৩-এ ধরা পড়েন সাদ্দাম। এরপর তাঁকে প্রথম সিআইএ অ্যানালিস্ট হিসেবে জেরা করেছিলেন জন নিক্সন। নিজের লেখা বই প্রকাশের আগে একটি সংবাদপত্রে লেখা নিবন্ধে এ কথা জানিয়েছেন নিক্সন।
সাদ্দামের ফাঁসির পর ১০ বছর কেটে গেছে। কিন্তু ইরাকের প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের ভূত এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে আমেরিকাকে। মধ্যপ্রাচ্যে গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আমেরিকার অপূর্ণ লক্ষ্যের প্রতীক যেন ইরাকের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট।
২০০৬-এর ৩০ ডিসেম্বর বাগদাদে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল সাদ্দামকে। সেই সময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লু বুশ জানতেন যে,ইরাকে আগ্রাসন আদৌ কাঙ্খিত ফল এনে দেয়নি। ততদিনে মার্কিন বাহিনীর ৩০০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বুশ তখন আরও বেশি আত্মত্যাগের কথা বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, আমেরিকানদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইরাকের নবীন গনতন্ত্রের অগ্রগতির প্রচেষ্টায় বিরতি দেওয়া হবে না।
গণতান্ত্রিক ইরাক গঠনের যে লক্ষ্য বুশ নিয়েছিলেন তা অধরা স্বপ্নই রয়ে গিয়েছে। গোষ্ঠী সংঘর্ষে এখন দীর্ণ ইরাক। সেই সংঘাত থামাতে পারেনি আমেরিকা।
সাদ্দামের আমলে ইরাকের শাসক ছিল সংখ্যালঘু সুন্নি সম্প্রদায়। এখন শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের প্রতি তাদের বিদ্বেষ চরমপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বাড়বাড়ন্তে মদত জুগিয়েছে। সাদ্দামের সামরিক বাহিনীর শীর্ষকর্তারা এই জঙ্গি গোষ্ঠীর মাথায় বসেছে।
হিংস্র মৌলবাদী যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াইয়ে সেদেশের বাহিনীকে সাহায্য করতে এখনও ইরাকে রয়েছেন প্রায় ৫০০০ মার্কিন সেনা। ইরাকি বাহিনী এখনও নিজের ক্ষমতায় আইএসের মোকাবিলায় অক্ষম।
২০০৩-এ আগ্রাসনের সময় যে মার্কিন জনতা সোচ্চারে সমর্থন জানিয়েছিল, এখন তারাই সেই যুদ্ধের অভিঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
মার্কিন বিদেশনীতিতে চরম প্রভাব ফেলেছে ইরাক-যুদ্ধ। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সেদেশের প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সেই সিদ্ধান্তের পিছনে প্রভাব রয়েছে আমেরিকার ইরাক-ব্যর্থতা।
এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ইস্যু ছিল ইরাক-যুদ্ধ। একটা সময় ইরাকে আগ্রাসনকে সমর্থন করেছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ভোটের প্রচারে ভোলবদলে ট্রাম্প বলতে শুরু করেন, তিনি ইরাক যুদ্ধের বিরোধী ছিলেন। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভবিষ্যতে কোনও দেশে পালাবদল বা দেশ গঠনে অংশ না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তাঁর প্রচার অভিযানে।
গ্লোবেল নিউজ ব্যুরো/১৬

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৪৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×